বিষাক্ত মহিলা গ্লোরিয়া সিসিলিয়া রামিরেজ

এই মহিলার নাম গ্লোরিয়া সিসিলিয়া রামিরেজ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার রিভারসাইডের অধিবাসী , তাঁর মৃ*ত্যু বেশ রহস্যজনক এবং এ কারণে তিনি Toxic Lady বা বি*ষাক্ত মহিলা নামে পরিচিত ৷ সেই ঘটনাটা দেখে নেওয়া যাক -
১৯৯৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত ৮:১৫ মিনিটে গ্লোরিয়া রামিরেজ অস্বাভাবিক হৃৎস্পন্দন, নিম্ন রক্তচাপ, অস্বাভাবিক দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা নিয়ে রিভারসাইড সদর হাসপাতালে ভর্তি হন৷ তিনি জরায়ুমুখ ক্যান্সারের সর্বশেষ পর্যায়ে ছিলেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে শান্ত করতে Diazepam, midazolam, lorazepam প্রভৃতি ঔষধ প্রয়োগ করেন৷ কিন্তু চিকিৎসকগণ লক্ষ্য করলেন ঔষধে গ্লোরিয়ার অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল না তখন তাঁরা গ্লোরিয়ার হৃৎপিণ্ডকে ডিফ্রিবিলেট করার চেষ্টা করেন অর্থাৎ হৃৎপিণ্ড সচল করতে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়।
এ সময় অনেকেই গ্লোরিয়ার ত্বককে চকচকে তৈলাক্ত পদার্থের আবৃত দেখতে পান এবং কয়েকজন লক্ষ্য করেন যে গ্লোরিয়ার মুখ দিয়ে রসুনের মতো গন্ধ আসছে৷ তারপর নার্স সুসান কেইন গ্লোরিয়ার রক্তের নমুনা নিয়ে টিউবে নেন এবং লক্ষ করেন টিউব থেকে অ্যামোনিয়া বা অনেকটা প্রস্রাবের মতো দুর্গন্ধ আসছে৷ তিনি টিউবটা মেডিক্যাল রেসিডেন্ট জুলি গোরকিনস্কিকে দেন এবং জুলি রক্তে বাঁশপাতা কাগজের মতো রঙের বা সাদাটে চকলেট রঙের দানাদার পদার্থ ভেসে থাকতে দেখেন৷ এরপরই কেইন অজ্ঞান হয়ে যান এবং তাঁকে অন্য কেবিনে নিয়ে যাওয়া হয়৷
তারপর গোরকিন্সকির বমি বমি ভাব শুরু হলে তিনি নার্সদের জায়গায় সরে পড়েন এবং কিছুক্ষণ পর তিনিও জ্ঞান হারান৷ সাহায্যে থাকা ফুসফুসের থেরাপিস্ট মওরিন ওয়েলচ তৃতীয় যিনি জ্ঞান হারান। তারপর সব মেডিকেল কর্মচারীদের ঐ ঘর থেকে বের করে হাসপাতালের পার্কিং এলাকায় নিয়ে আসা হয়৷ এই ঘটনায় ২৩ জন হাসপাতাল কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং ৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। শেষে রাত ৮:৫০ মিনিটে বেশ কয়েকবার সিপিআর ও শক দেবার পর গ্লোরিয়া জরায়ুমুখ ক্যান্সারের কারণে কিডনি ফেইল করে মারা যায়৷
লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানীরা এই অদ্ভুত ঘটনার ভালো একটা ব্যাখ্যা দেয়৷ তাদের মতে গ্লোরিয়া রামিরেজ সম্ভবত ব্যথানাশক ঔষধ হিসেবে ডাইমিথাইল সালফোক্সাইড (DMSO) ব্যবহার করতেন৷ এই ঔষধের ব্যবহারকারীদের মতে এটার গন্ধ অনেকটা রসুনের মতো। বিজ্ঞানীদের মতে অতিরিক্ত DMSO এর কারণে গ্লোরিয়ায় প্রস্রাবে বাধা তৈরি হতে পারে যা থেকে তার জরায়ুমুখ ক্যান্সারের সৃষ্টি হতে পারে৷ আবার গ্লোরিয়াকে হাসপাতালে আনার সময় প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে যে অক্সিজেন দেওয়া হয়েছিল তা DMSO এর সাথে বিক্রিয়া করে ডাইমিথাইল সালফোন বা DMSO₂ তৈরি করে৷ এই পদার্থটি কক্ষ তাপমাত্রায় কেলাসিত হয়৷ সম্ভবত এর কেলাসই রক্তে দেখা গিয়েছিল৷ তাঁরা আরও বলেছেন যে ডেফিব্রিলেশ চিকিৎসার সময় যে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হচ্ছিল তার ফলে গ্লোরিয়ার রক্তের তাপমাত্রা নেমে গেলে DMSO₂ নতুন পদার্থ DMSO₄ বা সালফিউরিক অ্যাসিডের ডাইমিথাইল এস্টার তৈরি করে যা অত্যন্ত বিষাক্ত পদার্থ আর এর কারণেই সম্ভবত চিকিৎসা কর্মীরা অসুস্থ হয়ে পড়েন।
এই তত্ত্ব গ্লোরিয়ার মৃত্যুর অনেক ঘটনার ভালো ব্যাখ্যা দিতে পারলেও অনেকে এই তত্ত্বকে মেনে নেননি তাই এর সত্যিকারের কারণ এখনও অজানা।
দৈএনকে/জে .আ