শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj

মশার কামড় থামাবে নতুন ওষুধ, ম্যালেরিয়া হবে অতীত

মশার কামড় থামাবে নতুন ওষুধ, ম্যালেরিয়া হবে অতীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

এক ভয়ংকর মশাবাহিত রোগ, যা একসময় মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল—মাত্র ঠাণ্ডা লাগলেই জ্বর হয় এই ভেবে। একটি ছোট্ট মশার কামড়ও যে কার মৃ'ত্যু'র কারন হতে পারে এমনটা কারও জানা ছিল না। নাম Anopheles মশা। যার পেটে বাসা বাঁধে plasmodium নামের এক অদ্ভুত জীবাণু ।

এই রোগের প্রতিষেধক হিসেবে বেশ কয়েক ধরনের ভ্যাকসিন আবিস্কার হয়েছে। কিন্তু ভ্যাকসিন কেবল মানুষকে রক্ষা করে, মশাকে দমন করে না বা ম্যালেরিয়া চক্র বন্ধ করে না। গবেষকদের লক্ষ্য শুধু মানুষকে বাঁচানো নয়, বরং ম্যালেরিয়া রোগটাকে পুরোপুরি পৃথিবী থেকে মুছে ফেলা। সেটা একা ভ্যাকসিনে সম্ভব না, তাই অতিরিক্ত কৌশল দরকার। আর ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের জন্য মশা নিধন অত্যন্ত জরুরি। গবেষকরা বেশ কিছু ধারণা ইতিমধ্যে আবিষ্কার করে ফেলেছেন।

এক্ষেত্রে নিটিসিনোন নামের একটি বিরল ঔষধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এই ওষুধ মানুষের র'ক্ত'কে মশার জন্য বিষাক্ত করে তোলে। নিটিসিনোন মশার শরীরের একটি অত্যাবশ্যকীয় এনজাইম (HPPD) বন্ধ করে, যা মশার র'ক্ত হজম করতে বাধা দেয় এবং তাদের দ্রুত মৃ'ত্যু ঘটায়। মশার বিভিন্ন প্রজাতি ও বয়সের ক্ষেত্রে কার্যকর, এমনকি কীটনাশকের প্রতি প্রতিরোধী প্রজাতিতেও। এছাড়াও, এটি পরিবেশবান্ধব হওয়ায় ভবিষ্যতে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে একটি নতুন এবং কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, আইভারমেকটিন নামের একটি ঔষধও মানুষের র'ক্ত'কে মশার জন্য বিষাক্ত করে। মশা কামড় দেওয়ার পর মা'রা যায়। কেনিয়া ও মোজাম্বিকে বড় গবেষণায় দেখা গেছে, মাসিক আইভারমেকটিন প্রশাসনের মাধ্যমে ম্যালেরিয়া সংক্রমণ প্রায় ২৬% হ্রাস পেয়েছে। মূলত ট্রপিক্যাল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত এই ঔষধটি মশা দমনে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়াও, এটি উকুন, খোস-পাঁচড়া ও খাটের পোকা নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক।

তুলনামূলকভাবে, নিটিসিনোনের কার্যকারিতা আইভারমেকটিনের চেয়ে অনেক বেশি এবং এটি র'ক্তে দীর্ঘস্থায়ী থাকে। এই দুই ওষুধের যৌথ ব্যবহার ভবিষ্যতে মশা নিয়ন্ত্রণ এবং ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে আরও কার্যকর সমাধান হিসেবে সম্ভাব্য।


দৈএনকে/ জে. আ
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন