দুবাই গোল্ড বাজারে তাহুরা জুয়েলারী নামে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান এর উদ্বোধন

স্বর্ণের বাজারে উত্তপ্ত অবস্থা,বেঁচাকেনা কম, বাজারে ক্রেতার সংখ্যা নগণ্য,নতুন ব্যাগেজ রূলের কারণে বাংলাদেশী ক্রেতা নেই বললেই চলে। এই হচ্ছে দুবাইয়ের বিখ্যাত স্বর্নের বাজার দুবাই গোল্ড সূকের অবস্থা। তারপরেও সোনালী দিন ফেরার আসায় এই বাজারে নতুন স্বর্ণের দোকানে বিনিয়োগ করছেন প্রবাসীরা। ব্যাপারটা ঝুকিপূর্ণ হলেও বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের এই কঠিন চ্যালেঞ্জকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকে।
শুক্রবার ২২ আগষ্ট দুবাই গোল্ড বাজারে তাহুরা জুয়েলারী নামে নতুন প্রতিষ্ঠান খুলেছেন বাবুল উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ী। স্বর্ণের বাজের উত্তপ্ত অবস্থার মধ্যেও লাভ লোকসানের ভয় না করে সাহসি ভুমিকা নিয়ে তিনি এই নতুন প্রতিষ্ঠান চালু করেছেন। এই ব্যবসায়ীর প্রত্যাশা দুবাইয়ের এই বিখ্যাত গোল্ড বাজারে আবারও প্রান ফিরবে। অস্থির বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। সেই সাথে কমবে স্বর্ণের মূল্যও।এ সময়ে বিনিয়োগের বিষয়টিকে অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করলেও আবার কেউ কেউ এটাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। এ গোল্ডসূকে বাবুল উদ্দিনের মত চ্যালেন্জ গ্রহন করেছেন আরো অসংখ্য বাংলাদেশি ব্যবসায়ী।
করোনা পরবর্তী সময়ে দুবাইয়ের গোল্ডের বাজারে বাম্পার ব্যবসা করেছেন বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা। ২০২০ থেকে ২৫ পর্যন্ত এই বাজারে কমপক্ষে দুই শতাধিক বাংলাদেশী প্রতিষ্টান গড়ে উঠেছে।তাছাড়া দুটি টি টি বার এবং ১০০ গ্রাম স্বর্ণ লাগেজে বহন করে অসংখ্য বাংলাদেশী টুরিস্ট ভিসায় দুবাই আসা যাওয়া করে অতি অল্প সময়ে কোটিপতি হওয়ারও নজির রয়েছে। হঠাৎ বাংলাদেশ সরকার গত দুবারের বাজেটে ব্যাগেজ নীতিমালায় ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আশায় এখন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সে জৌলুস আর নেই।বাংলাদেশী ক্রেতা হারিয়ে দুবাইয়ে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লাগেজ ব্যবসায়ীরাও।অপরদিকে ভারত সরকার স্বর্ণ বেচাকেনায় শুল্ক প্রত্যাহার করে নিলে দুবাইয়ের বাজারে ভারতীয় ক্রেতাদের আনাগোনা কমে যাওয়ায় আরো বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুবাই গোল্ড সূকের ব্যবসায়ীরা।
এদিকে এই নাজুক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা এখন স্বর্ণের বাজারে টিকে থাকতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে বেড়াচ্ছে।ভারত এবং বাংলাদেশী ক্রেতাদের চিন্তা মাথা থেকে বাদ দিয়ে বিদেশি ক্রেতা বাড়ানোর উপর জোর দিচ্ছে ব্যবসায়ীরা।এই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখেও বেশ কিছু বাংলাদেশী দুবাইয়ের স্বর্ণের বাজার নিয়ে অনেকটায় আশাবাদী। তারা নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান খুলে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ আফ্রিকার ক্রেতাদের নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধ সহ সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান ইসরায়েল সংঘাতের কারনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় স্বর্ণের বাজারে অস্থির অবস্থা বিরাজ করে চলেছে,আগে যারা প্রতিনিয়ত স্বর্ণের বাজারে ভিড় করতো তারা এখন অতি প্রয়োজন ছাড়া এই বাজারে পা রাখেনা।বিগত পাঁচ বছরে যেখানে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের জয় জোয়ার ছিল, এসব ব্যবসায়ীরা এখন কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে।বাংলাদেশ সরকারের ব্যাগেজ নীতিমালায় পরিবর্তন আসলে অনেক ব্যবসায়ী আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারতো বলে মনে করেন সংসৃষ্টরা।