সরকারি বাসভবনে ঢুকে মুখ্যমন্ত্রীর ওপর হামলা, অভিযুক্ত আটক

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা তাঁর সরকারি বাসভবনে হামলার শিকার হয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি সরকারি অনুষ্ঠান চলাকালীন এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হয়েছে; তিনি রাজকোট, গুজরাতের বাসিন্দা রাজেশ ক্ষিমজি। বর্তমানে পুলিশ তার বিরুদ্ধে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে যাতে হামলার পেছনের কারণ ও উদ্দেশ্য জানা যায়। মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত তৎপরতার সঙ্গে চালানো হচ্ছে।
সূত্রর বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে সাপ্তাহিক ‘জনশুনানি’ চলাকালীন এ হামলার ঘটনা ঘটে। হঠাৎ প্রায় ৩০ বছর বয়সী এক যুবক মুখ্যমন্ত্রী রেখার বাসভবনে ঢুকে একটি কাগজ দেওয়ার নাম করে তাঁর দিকে এগিয়ে যান। এর পরই ওই যুবক চিৎকার করে গালিগালাজ করতে শুরু করে দেন। এক পর্যায়ে রেখার চুল টেনে ধরে তাঁকে চড়ও মারেন ওই যুবক। তড়িঘড়ি ওই ব্যক্তিকে আটক করেন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীরা।
বিভিন্ন সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের কাছে আদালত সম্পর্কিত কিছু নথি পাওয়া গেছে। তাঁকে হেফাজতে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। ইতোমধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনার সময় মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, আক্রমণকারী একজন নারী ছিলেন! তবে মুখ্যমন্ত্রীর ওপর ‘হামলা’ যে হয়েছে, তা নিশ্চিত না। কোনো কোনো সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী রেখাকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়। আর বিজেপির দাবি, পুরো ঘটনায় রেখার মাথায় চোট লেগেছে।
দিল্লি বিজেপির প্রধান বীরেন্দ্র সচদেব মুখ্যমন্ত্রীর ওপর হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, ‘জনশুনানির সময় এক যুবক রেখার কাছে এসে কিছু কাগজপত্র দেখান। এর পরই তিনি মুখ্যমন্ত্রীর হাত টেনে ধরেন। হাতাহাতিও হয়। সে সময় একটি টেবিলে ধাক্কা লাগে।’ তবে চড় মারা কিংবা পাথর ছোড়ার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বীরেন্দ্র।
ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টি। আপ নেত্রী দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আতিশী মার্লেনা বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর ওপর এই হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। গণতন্ত্রে মতবিরোধ এবং প্রতিবাদ থাকবে, কিন্তু তাই বলে হিংসার কোনও জায়গা নেই। আশা করি দিল্লি পুলিশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করবে।’