সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ছাড়া বিকল্প ছিল না: জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইহসান: মানুষের সঙ্গে সুন্দর আচরণের ইসলামি শিক্ষা ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডিজিটাল সচেতনতা ক্যাম্পেইনের আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ৬ ম্যাচে ৭ গোল, তোরেসকে নিয়ে নতুন ভাবনায় পিএসজি মরিনহোর রেফারিং অভিযোগ, সিমিওনের বার্তা :‘সম্মানের সীমা অতিক্রম করা ঠিক নয়’ ফ্যাসিস্ট আমলে সরকারপ্রধানের বিদেশ সফরে কোটি কোটি টাকা অপচয় হতো: রিজভী জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর সফর, বিশ্বমঞ্চে নতুন ইতিহাসের সূচনা : মাহদী আমিন চট্টগ্রাম বিভাগের ১২ কারাগারে ধারণক্ষমতার আড়াই গুণ বন্দি ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে হঠাৎ বিভ্রাট, কয়েক হাজার ব্যবহারকারীর ভোগান্তি নিখোঁজের পর মিলছে শিশুদের মরদেহ, আট মাসে নিহত ১৫৫
  • চট্টগ্রাম বিভাগের ১২ কারাগারে ধারণক্ষমতার আড়াই গুণ বন্দি

    চট্টগ্রাম বিভাগের ১২ কারাগারে ধারণক্ষমতার আড়াই গুণ বন্দি
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    চট্টগ্রাম বিভাগের ১২টি কারাগারে ধারণক্ষমতার তুলনায় আড়াই গুণেরও বেশি বন্দি থাকায় চাপে পড়েছে কারা ব্যবস্থাপনা। এসব কারাগারে মোট ৭ হাজার ৮৫০ জন বন্দি রাখার সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে সেখানে রয়েছেন ১৯ হাজার ৯৬৬ জন। ফলে স্বাভাবিক পরিবেশে বন্দিদের রাখার পাশাপাশি কারাবিধি অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণির বন্দিকে আলাদা রাখার ব্যবস্থাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

    কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের ১২টি কারাগারে পুরুষ বন্দির জন্য নির্ধারিত আসন ৭ হাজার ৪৭৯টি এবং নারী বন্দির জন্য ৪১৩টি। বর্তমানে এসব কারাগারে পুরুষ বন্দি রয়েছেন ১৯ হাজার ২২২ জন। নারী বন্দির সংখ্যা ৭৪৪ জন। অর্থাৎ পুরুষ ও নারী—দুই শ্রেণিতেই নির্ধারিত ধারণক্ষমতার তুলনায় বন্দির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

    বিভাগের কারাগারগুলোতে বর্তমানে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন ১ হাজার ১৩১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৬৮ জন এবং নারী ৬৩ জন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির সংখ্যা ২৫৭ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ২৪০ ও নারী ১৭ জন। মাদক মামলায় আটক বন্দি রয়েছেন ৪ হাজার ২৬৮ জন।

    কারা কর্মকর্তারা বলছেন, অপরাধের ধরন, মামলার অবস্থা ও বন্দির শ্রেণি বিবেচনায় নিয়ে আলাদাভাবে রাখার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত বন্দির কারণে অনেক ক্ষেত্রেই সেই নিয়ম পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। ফলে ভিন্ন ধরনের মামলা ও অপরাধে আটক ব্যক্তিদের একই জায়গায় রাখার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

    সবচেয়ে বেশি চাপ চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে

    বিভাগের সবচেয়ে বড় কারাগার চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার। ২ হাজার ২৪৯ জন ধারণক্ষমতার এই কারাগারে বর্তমানে বন্দি ৬ হাজার ৯০৩ জন।

    এখানে মাদক মামলার আসামি রয়েছেন ৯০৯ জন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ২২৬ জন, যাদের মধ্যে নারী ১৬ জন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দির সংখ্যা ৫১৭ জন—পুরুষ ৪৯৫ ও নারী ২২ জন।

    কারাগারটিতে পুরুষ হাজতি ৫ হাজার ৪৯১ জন এবং নারী হাজতি ১৬৯ জন। পুরুষ কয়েদি রয়েছেন ৪৯৫ জন এবং নারী কয়েদি ২৩ জন। এ ছাড়া ৭৬ জন বিদেশি বন্দিও রয়েছেন।

    কুমিল্লা কারাগারেও দ্বিগুণের বেশি বন্দি

    কুমিল্লা কারাগারে বন্দি রাখার সক্ষমতা ১ হাজার ৭৪২ জন। সেখানে বর্তমানে রয়েছেন ৩ হাজার ১৮০ জন।

    কারাগারটিতে পুরুষ হাজতি ২ হাজার ১২৭ জন ও নারী হাজতি ১০৬ জন। পুরুষ কয়েদি ৭১৩ এবং নারী কয়েদি ১৬ জন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পুরুষ বন্দি রয়েছেন তিনজন।

    যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দির সংখ্যা ২১৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৯৮ এবং নারী ১৫ জন। মাদক মামলায় আটক রয়েছেন ৮৩৩ জন।

    কক্সবাজারে ধারণক্ষমতার সাড়ে তিন গুণের কাছাকাছি

    ৮৩০ জন বন্দি রাখার সক্ষমতা রয়েছে কক্সবাজার কারাগারে। সেখানে বন্দির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৮৫ জনে।

    এর মধ্যে পুরুষ হাজতি ২ হাজার ৭৪১ জন ও নারী হাজতি ১৪৪ জন। পুরুষ কয়েদি রয়েছেন ২৮৪ জন এবং নারী কয়েদি সাতজন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি চারজন।

    যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দি ১৬৬ জন—পুরুষ ১৬২ ও নারী চারজন। মাদক মামলায় আটক রয়েছেন ৮৮৪ জন।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৭৮০ আসনে ২,১৯১ বন্দি

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারের ধারণক্ষমতা ৭৮০ জন। বর্তমানে সেখানে বন্দি ২ হাজার ১৯১ জন।

    কারাগারটিতে পুরুষ হাজতি ১ হাজার ৫১৫ জন এবং নারী হাজতি ৩১ জন। পুরুষ কয়েদি ৫৩১ ও নারী কয়েদি ৫৬ জন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন দুজন।

    যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দির সংখ্যা ৪৩ জন—পুরুষ ৩৮ ও নারী পাঁচজন। মাদক মামলায় আটক রয়েছেন ৬৮০ জন। বিদেশি বন্দি রয়েছেন একজন।

    নোয়াখালী ও চাঁদপুরেও ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি

    নোয়াখালী কারাগারে ৫০০ জন বন্দি রাখার ব্যবস্থা থাকলেও সেখানে রয়েছেন ১ হাজার ৯০ জন। পুরুষ হাজতি ৮৬৪ জন ও নারী হাজতি ২৯ জন। পুরুষ কয়েদি ১২৯ এবং নারী কয়েদি পাঁচজন।

    কারাগারটিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ছয়জন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ৫৭ জন—পুরুষ ৫৫ ও নারী দুইজন। মাদক মামলায় আটক রয়েছেন ২০১ জন।

    চাঁদপুর কারাগারের ধারণক্ষমতা ৪৭৫ জন। সেখানে বন্দি ১ হাজার ৮৬ জন। পুরুষ হাজতি ৮০১ ও নারী হাজতি ২৮ জন। পুরুষ কয়েদি ২০৭ এবং নারী কয়েদি চারজন।

    এ কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি একজন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দি ৪৪ জন—পুরুষ ৪০ ও নারী চারজন। মাদক মামলায় আটক রয়েছেন ৪৪৬ জন।

    ফেনীর দুই কারাগারের চিত্র ভিন্ন

    ফেনী-১ কারাগারের ধারণক্ষমতা ৫৬৪ জন। বর্তমানে সেখানে বন্দি ৫২৬ জন, অর্থাৎ এই কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে বন্দি কম রয়েছে।

    এখানে পুরুষ হাজতি ৩৯৫ জন, নারী হাজতি ১৮ জন, পুরুষ কয়েদি ৫৯ জন এবং নারী কয়েদি চারজন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ১২ জন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ৩১ জন—পুরুষ ২৮ ও নারী তিনজন। মাদক মামলায় বন্দি ১৩ জন। বিদেশি বন্দি রয়েছেন তিনজন।

    অন্যদিকে মাত্র ৭২ জন ধারণক্ষমতার ফেনী-২ কারাগারে বন্দি রয়েছেন ৪৬৪ জন। সেখানে পুরুষ হাজতি ১৭০ জন এবং পুরুষ কয়েদি ২৮১ জন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ১২ জন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পুরুষ বন্দি রয়েছেন ১৩ জন।

    লক্ষ্মীপুর, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতেও চাপ

    লক্ষ্মীপুর কারাগারে ২৯৫ জনের জায়গায় বন্দি রয়েছেন ৬৬৩ জন। পুরুষ হাজতি ৪৪৯ জন ও নারী হাজতি নয়জন। পুরুষ কয়েদি ১৫৩ এবং নারী কয়েদি চারজন।

    এ কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি দুজন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পুরুষ বন্দি ৪৬ জন। মাদক মামলায় আটক রয়েছেন ৬৩ জন।

    রাঙামাটি কারাগারের ধারণক্ষমতা ১৪৮ জন হলেও সেখানে বন্দি ২৬৯ জন। পুরুষ হাজতি ২১১ জন, নারী হাজতি পাঁচজন, পুরুষ কয়েদি ৪৬ জন এবং নারী কয়েদি দুজন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পুরুষ বন্দি পাঁচজন। মাদক মামলায় আটক ১০৮ জন। বিদেশি বন্দি রয়েছেন দুজন।

    বান্দরবান কারাগারে ১১৪ জনের জায়গায় রয়েছেন ৪৪১ জন। পুরুষ হাজতি ৩৪৬ জন ও নারী হাজতি আটজন। পুরুষ কয়েদি ৬২ এবং নারী কয়েদি তিনজন।

    এ কারাগারে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পুরুষ বন্দি ১৮ জন ও নারী একজন। মাদক মামলায় আটক ৮৪ জন। বিদেশি বন্দির সংখ্যা ৪৫ জন।

    খাগড়াছড়ি কারাগারে বন্দি রাখার সক্ষমতা ৮১ জন। বর্তমানে সেখানে রয়েছেন ২৬৮ জন। পুরুষ হাজতি ২১৮ জন, নারী হাজতি দুজন, পুরুষ কয়েদি ৪৪ জন ও নারী কয়েদি একজন। মাদক মামলায় আটক রয়েছেন ২১ জন।

    একজনের জায়গায় থাকতে হচ্ছে দুই-তিনজনকে

    কারা সূত্র জানিয়েছে, জেল কোড অনুযায়ী একজন বন্দির জন্য ৩৬ বর্গফুট জায়গা বরাদ্দ থাকার কথা। কিন্তু চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি কারাগারে ধারণক্ষমতার তুলনায় বন্দি অনেক বেশি হওয়ায় সেই মান বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। কোথাও কোথাও একজনের জন্য নির্ধারিত জায়গায় দুই থেকে তিনজন বন্দিকে রাখতে হচ্ছে।

    সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবীর চৌধুরী বলেন, কারাগারের উদ্দেশ্য শুধু শাস্তি দেওয়া নয়; বন্দিদের সংশোধনের সুযোগও তৈরি করা। তাই কারাবিধি অনুযায়ী বন্দিদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা ও মানবিক জীবনযাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, কারাগারে থাকা সবাই যে চূড়ান্তভাবে অপরাধী, তা বলা যায় না। বিচারাধীন অনেক ব্যক্তি পরে আদালত থেকে খালাসও পান। তাই তাদের ক্ষেত্রেও মানবিক মর্যাদা ও আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

    কারাগারে বন্দিদের মুক্তি নিয়েও অভিযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে আদালতের জামিননামা কারাগারে পৌঁছানোর পরও মুক্তি দিতে বিলম্ব করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ শোনা যায়। নতুন মামলা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

    অতিরিক্ত বন্দি সামলাতে হিমশিম কারা কর্তৃপক্ষ

    চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) মো. ছগির মিয়া বলেন, বিভাগের ১২টি কারাগারে বর্তমানে বন্দির সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার, যেখানে মোট ধারণক্ষমতা ৭ হাজার ৮৫০ জন।

    তিনি জানান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ কয়েকটি কারাগারে অতিরিক্ত বন্দির চাপ তুলনামূলক বেশি। চট্টগ্রামে নতুন একটি কারাগার নির্মাণের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

    বন্দিদের যত্ন ও সেবায় বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে না জানিয়ে ডিআইজি প্রিজন বলেন, তবে ধারণক্ষমতার তুলনায় এত বেশি বন্দি থাকায় কিছুটা চাপ ও সমস্যা তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন