৬ ম্যাচে ৭ গোল, তোরেসকে নিয়ে নতুন ভাবনায় পিএসজি

ছয় ম্যাচ, সাতটি শট, সাতটি গোল—একজন স্ট্রাইকারের জন্য এর চেয়ে দুর্দান্ত শুরু আর কী হতে পারে! তার ওপর ফেরান তোরেস পিএসজির মূল স্ট্রাইকার নন। বেশির ভাগ সময় তাঁকে নামতে হচ্ছে বদলি হিসেবে। তবু সুযোগ পেলেই গোল করে নিজের সামর্থ্যের জানান দিচ্ছেন স্প্যানিশ এই ফরোয়ার্ড।
বিশ্ব ফুটবলে এখনো বড় তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি তোরেস। অথচ স্পেনকে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতানো ফাইনালের একমাত্র গোলটি এসেছিল তাঁর পা থেকেই। দুই মাস আগে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেই গোল করে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতেছিলেন তিনি। মজার বিষয়, ওই ম্যাচেও স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের প্রথম পছন্দ ছিলেন না তোরেস; ৬২ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন।
বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এমন কীর্তির পরও রদ্রি কিংবা লামিনে ইয়ামালের মতো তারকাখ্যাতি পাননি তোরেস। অনেকটা আড়ালেই তাই নতুন মৌসুমে বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে যোগ দেন তিনি। প্যারিসের ক্লাবটিও তাঁকে নিয়ে বড় কোনো আয়োজন করেনি। কোচ লুইস এনরিকের পরিকল্পনায় শুরুতে তিনি ছিলেন বিকল্প হিসেবেই।
কিন্তু প্যারিসে গিয়ে সেই অবস্থান বদলে দিতে খুব বেশি সময় নেননি তোরেস। লিগ আঁ-তে রেনের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই বদলি হিসেবে নেমে জোড়া গোল করেন। এরপর চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির জার্সিতে অভিষেকেই করেন হ্যাটট্রিক। দুর্দান্ত শুরুতে দ্রুতই হয়ে ওঠেন দলের আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র।
সর্বশেষ মার্শেইয়ের বিপক্ষে ম্যাচেও তাঁর প্রভাব দেখা গেছে। গোল পাচ্ছিল না পিএসজি। ৫৯ মিনিটে বদলি হিসেবে নামেন তোরেস। মাত্র সাত মিনিট পরই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। পরে মার্শেই সমতায় ফিরলেও ৭৫ মিনিটে মার্কিনিওসের গোলে আবার এগিয়ে যায় পিএসজি এবং শেষ পর্যন্ত জয় পায়।
এই জয়ে পিএসজির টানা তৃতীয় জয় এসেছে। মৌসুমের শুরুতে কিছুটা জড়তা থাকলেও এখন দলটি ছন্দে ফিরছে। আর সেই ছন্দে বড় ভূমিকা রাখছেন তোরেস।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এ মৌসুমে পিএসজির হয়ে ছয় ম্যাচে মাঠে নেমেছেন তিনি। তিন ম্যাচে ছিলেন শুরুর একাদশে, বাকি তিনটিতে বদলি হিসেবে। কোনো ম্যাচেই পুরো ৯০ মিনিট খেলেননি। সব মিলিয়ে ৩২৫ মিনিট মাঠে থেকে গোলমুখে সাতটি শট নিয়েছেন এবং সাতটিই জালে পাঠিয়েছেন। অর্থাৎ গড়ে প্রতি ৪৭ মিনিটে একটি করে গোল করেছেন তোরেস।
ফরাসি ওয়েবসাইট ‘ফুট মার্কাতো’র তথ্য অনুযায়ী, পিএসজিতে প্রথম ছয় ম্যাচের হিসাবে তোরেসের চেয়ে ভালো শুরু করেছিলেন কেবল জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। পিএসজির হয়ে নিজের প্রথম ছয় ম্যাচে ইব্রাহিমোভিচ করেছিলেন আট গোল।
তবে নিজের পরিসংখ্যান নিয়ে খুব বেশি ভাবতে চান না তোরেস। তাঁর ভাষায়, ‘সুযোগ পেলে কাজে লাগাতে হয়। কখনো ভাগ্য সহায় হয়, কখনো হয় না। চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয় বারবার।’
তাঁর গোলসংখ্যাকে শুধু ভাগ্যের ফল হিসেবে দেখার সুযোগও নেই। বক্সে সঠিক জায়গা নেওয়া, সতীর্থদের মুভমেন্ট বুঝে ফাঁকা জায়গায় পৌঁছানো এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা—সব মিলিয়ে তোরেস নিজেকে কার্যকর এক নম্বর নাইন হিসেবে প্রমাণ করছেন।
এমন পারফরম্যান্স পিএসজি কোচ লুইস এনরিকেকেও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। উসমান দেম্বেলে, খভিচা কাভারাসখেলিয়া ও দেজিরে দুএর মতো তারকায় ভরা আক্রমণভাগে শুরুতে বিকল্প হিসেবে আসা তোরেস এখন শুরুর একাদশে জায়গা পাওয়ার দাবিও জোরালো করছেন।
লিগ আঁ-তে চার গোল নিয়ে পিএসজির সর্বোচ্চ গোলদাতাও এখন তোরেস। তাঁকে উপেক্ষা করা তাই ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
তোরেসের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন এনরিকেও। তিনি বলেন, ‘নতুন যারা এসেছে, সবাই দলকে সাহায্য করছে। বিশেষ করে ফেরান অসাধারণ খেলছে। ডিফেন্সের পেছনে ফাঁকা জায়গা বের করা এবং তা কাজে লাগানোর চমৎকার ক্ষমতা রয়েছে তার। মাঝমাঠে যখন ওর মতো খেলোয়াড় থাকে, খেলা সহজ হয়ে যায়। ও এখন নিজের সেরা ছন্দে আছে।’
শুরুর একাদশে নিয়মিত না থাকা নিয়ে তোরেসও খুব বেশি কথা বলছেন না। তবে তাঁর হয়ে কথা বলছে পরিসংখ্যান। ছয় ম্যাচে সাত গোলের এমন শুরু পিএসজির আক্রমণভাগে তাঁর গুরুত্ব যে বাড়িয়ে দিয়েছে, সেটি এখন স্পষ্ট।