মরিনহোর রেফারিং অভিযোগ, সিমিওনের বার্তা :‘সম্মানের সীমা অতিক্রম করা ঠিক নয়’

মাদ্রিদ ডার্বির উত্তাপ মাঠ ছাড়িয়ে ছড়িয়েছে সংবাদ সম্মেলনেও। রিয়াল মাদ্রিদের ২-১ গোলে হারের পর রেফারিং নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন তুলেছেন কোচ হোসে মরিনহো। এমনকি বিতর্কিত দুটি সিদ্ধান্তের ছবি সংবাদ সম্মেলনে দেখিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
তবে মরিনহোর বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ কোচ ডিয়েগো সিমিওনে। বরং কোচদের মন্তব্যের ক্ষেত্রে ‘সম্মানের সীমা’ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রেফারিং নিয়ে মরিনহোর মন্তব্য প্রসঙ্গে সিমিওনে বলেন, কোচ যে-ই হোন না কেন, কথা বলার সময় তাকে সতর্ক থাকতে হবে।
‘যেই কথা বলুক—আমি, মরিনহো, হান্সি ফ্লিক কিংবা ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনি, যেই হোক না কেন। আমরা কী বলছি, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’
এরপর সিমিওনে বলেন, ‘আপনি যখন সম্মানের সীমা অতিক্রম করবেন, তখন সেটা ঠিক নয়। আপনি সেই সীমাটা পার করতে পারেন না।’
হারের পর রেফারি মিগেল আনহেল অর্তিস আরিয়াসের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মরিনহো। তাঁর দাবি, জুড বেলিংহামের ওপর অ্যাতলেতিকোর ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর ফাউলের ঘটনায় সরাসরি লাল কার্ড দেখানো উচিত ছিল।
এ ছাড়া ফেদেরিকো ভালভার্দের ওপর লি কাং-ইনের চ্যালেঞ্জকেও লাল কার্ডের যোগ্য বলে মনে করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ওই দুই ঘটনার ছবি দেখিয়ে মরিনহো বলেন, ‘আমরা চাইলে সংবাদ সম্মেলন বাদ দিতে পারি। কারণ ম্যাচের গল্পটা এখানেই রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ওগুলো ছিল দুটি পরিষ্কার লাল কার্ড। এরপর আমরা যে সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি, তা তো দেখাই গেছে—১১ জন বনাম ১০ জন। ন্যায়বিচার হলে ১১ বনাম ৯ অবস্থায় ৫০ মিনিট কী হতো, সেটা সহজেই কল্পনা করা যায়।’
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই রিয়ালের ডিন হাউসেন গুইলিয়ানো সিমিওনেকে পেনাল্টি বক্সের ভেতর ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন। শেষ ডিফেন্ডার হিসেবে ফাউল করায় ১০ জনের দলে পরিণত হয় রিয়াল।
সেই পেনাল্টি থেকে গোল করে অ্যাতলেতিকোকে এগিয়ে দেন আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো। পরে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জোনাথন ডেভিড। ম্যাচের শেষ দিকে আন্তোনিও রুডিগার একটি গোল শোধ করলেও হার এড়াতে পারেনি রিয়াল।
শুধু ম্যাচের সিদ্ধান্ত নিয়েই নয়, রেফারি অর্তিস আরিয়াসকে নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মরিনহো। তাঁর আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার ঘাটতির কথা উল্লেখ করে রিয়াল কোচ বলেন, ‘তারা ৪১ বছর বয়সী এমন একজন রেফারিকে দায়িত্ব দিয়েছে, যার কোনো আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা নেই। নিশ্চয়ই তিনি দুর্দান্ত রেফারি বলেই তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।’
এরপর মরিনহো বলেন, ‘বেচারা এখানে এসে চাপ সামলাতে পারেনি।’
তবে ম্যাচের ফল ইচ্ছাকৃতভাবে প্রভাবিত করার অভিযোগ সরাসরি করেননি মরিনহো। বরং তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করতে চাই, তারা শুধুই ভুল করেছে।’
অন্যদিকে, রেফারিং বিতর্কে না গিয়ে নিজেদের পারফরম্যান্সের দিকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন সিমিওনে। রিয়ালের বিপক্ষে দলের রক্ষণাত্মক পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আজ আমরা দারুণ একটি ম্যাচ দেখেছি। খুব ভালো খেলা একটি দলের বিপক্ষে আমরা খুব ভালোভাবে রক্ষণ সামলেছি।’
সিমিওনের দাবি, ১১ জন বনাম ১১ জন অবস্থাতেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল অ্যাতলেতিকোর হাতে।
তিনি বলেন, ‘১১ জন বনাম ১১ জন যখন ছিল, তখনও আমরা ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছি। ১০ জন বনাম ১১ জন হয়ে যাওয়ার পরও আমরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছি।’