সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj

মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় এমপি গাজী নজরুলসহ প্রথম স্ত্রী গ্রেপ্তার, মামলা

মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় এমপি গাজী নজরুলসহ প্রথম স্ত্রী গ্রেপ্তার, মামলা
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় গাজী নজরুল, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।

মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার পর গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অপর আসামি ওবায়দুর রহমান পলাতক রয়েছেন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. ইবনে মিজান। তিনি জানান, গাজী নজরুল ও মাকসুদাকে গ্রেপ্তারের পর তাদের বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

এর আগে গতকাল সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে ১৯ বছর বয়সী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফ্ল্যাটটি গাজী নজরুলের। সেখানে তিনি প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফ্ল্যাটের একটি কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। পরে দরজা খুলে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় মরিয়মকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। খবর পেয়ে শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই ও ডিবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহারে মরিয়মের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, গত জুনে গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ন্যাম ভবনের বাসায় তাঁরা একসঙ্গে থাকতেন। একই বাসায় গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকসুদাও থাকতেন।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নি র্যা তন করা হতো। পরিবারের সদস্যদের কাছে মুঠোফোনে এ বিষয়ে মরিয়ম অভিযোগও করতেন। মামলার এজাহারে মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধেও প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলায় বলা হয়, রোববার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে গাজী নজরুল মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত ন্যাম ভবনের বাসায় যেতে বলেন। পরে তিনি তাঁর শ্যালিকা সুফিয়াকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান। বাসায় পৌঁছে তিনি অনেক মানুষের উপস্থিতি দেখতে পান। পরে জানতে পারেন, একটি কক্ষের ভেতরে মরিয়মকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

পুলিশের উপস্থিতিতে দরজা খুলে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তাঁর বিছানার ওপর থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. ফজলুল করিম জানান, প্রাথমিকভাবে চিরকুটটি মরিয়মের লেখা হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে সেটি তাঁরই লেখা কি না, ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ডিসি মো. ইবনে মিজান জানান, গ্রেপ্তার দুজনকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে কি না, তা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে গাজী নজরুল জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত জুলাইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পরে তিনি জানান, ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কার করে। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছেও চিঠি দেয় দলটি।

মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় আনা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন