ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নতুন অধ্যায়, স্বাক্ষরিত হলো ইসলামাবাদ এমওইউ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমিয়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘ইসলামাবাদ মেমোর্যান্ডম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (এমওইউ)’ নামে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। একই সময়ে তেহরানে নিজ কার্যালয়ে নথিতে সই করেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমও চুক্তি স্বাক্ষরের ছবি প্রকাশ করেছে।
১৪ দফার এই সমঝোতা স্মারককে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য স্থায়ী শান্তি চুক্তির প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তুলনামূলক সংক্ষিপ্ত হলেও এর কূটনৈতিক গুরুত্ব ব্যাপক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, যুদ্ধ-পরবর্তী ক্ষতিপূরণ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার জন্য দুই দেশকে ৬০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।
এই সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরান। এর বিপরীতে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ শিথিল করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র পদক্ষেপ নেবে বলে জানা গেছে।
চুক্তি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। গত মে মাসে ইসলামাবাদের মাধ্যমে সমঝোতা স্মারকের খসড়া তেহরানের কাছে পাঠানো হয়েছিল বলে মার্কিন সূত্র জানিয়েছিল।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আশা প্রকাশ করে বলেন, সমঝোতার শর্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।