ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও কমলো

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তির পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দাম আবারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে বৈশ্বিক বাজারে এই দরপতন দেখা যায়।
এদিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দাম ২.৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৪.৮১ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ব্রেন্ট নর্থ সি ক্রুডের দাম ২.৪ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৭৭.৬৬ ডলারে।
চুক্তির প্রভাবে শুধু জ্বালানি নয়, বৈশ্বিক শেয়ার ও মুদ্রাবাজারেও ওঠানামা দেখা গেছে। নিউইয়র্কের ডাও জোন্স সূচক আগের দিনের তুলনায় ১.০ শতাংশ কমে ৫১,৪৯২.৫৫ পয়েন্টে বন্ধ হয়। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ১.৭ শতাংশ বেড়ে ৭১,০৫৩.৪৯ পয়েন্টে ওঠে। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ২.২ শতাংশ এবং সাংহাই কম্পোজিট সূচক ০.৪ শতাংশ কমে যায়। লন্ডনের এফটিএসই ১০০ সূচকও ০.৬ শতাংশ কমে ১০,৪৪৯.৩৭ পয়েন্টে দাঁড়ায়।
মুদ্রাবাজারে ইউরো ও পাউন্ড ডলারের বিপরীতে সামান্য শক্তিশালী হয়েছে। ইউরো-ডলার বিনিময় হার বেড়ে ১.১৫২১ ডলারে এবং পাউন্ড-ডলার হার বেড়ে ১.৩৩১৫ ডলারে পৌঁছায়। অন্যদিকে ডলার-ইয়েন সামান্য কমে ১৬০.৬৮ ইয়েনে নেমে আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে চলা উত্তেজনা কমে আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। এতে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা কিছুটা কমেছে এবং মূল্যস্ফীতির চাপও হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তবে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। বাজারে এখন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ সুদের হার নীতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির দিকেও নজর রয়েছে বিনিয়োগকারীদের। বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের বড় একটি অংশ এই জলপথ দিয়ে চলাচল করে।
সূত্র: এএপপি