দুর্নীতির বিষাক্ত সম্রাট ফ্যাসিস্ট ডোনার জাকির হোসেন মহিনের ভয়ঙ্কর নীল নকশা ফাঁস!

# গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা'র নামে হাজার কোটির স্কুল ফিডিং কাজ বাগিয়ে নেয়ার অভিযোগ.।
# সংস্থার টাকায় আ'লীগকে সু-সংগঠিত ;
# রা্ষ্ট্রয়াত্ত্ব দারিদ্র্য বিমোচন সংস্থা পিকেএসএফ'র পার্টনার হয়ে হাজার কোটি টাকা ঋন গ্রহণ।
# সরকারি খাল ও স্থাপনা দখলের অভিযোগ...!
তার বয়স পঞ্চাশোর্ধ্ব। নাম জাকির হোসেন মহিন। একজন বিচক্ষণ,মতলববাজ,অর্থলোভী, ধূরন্ধর, ধান্দাবাজ, অতি কৌশলী মহা জ্ঞানের ভান্ডার তিনি। বহু গুনে গুণান্বিত এ ব্যাক্তিকে দূর্ণীতি ও দূর্বৃত্তায়নের বিষবৃক্ষ বললেও কম বলা হবে। তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বহুমাত্রিক রঙ্গরসের লীলাখেলা ভোলার জনপদে স্বিকৃত। দক্ষিণাঞ্চলের উপকুলীয় জেলা ভোলায় জন্মস্থান হলেও পুরো বরিশাল, চট্রগ্রাম ও ঢাকা বিভাগটিকে ধূয়ে মুছে,চেটেপুটে খাচ্ছেন তিনি। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ভোলায় একসময়কার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জাতীয় বন্ধুজন পরিষদের সামান্য কর্মচারীর চাকুরী করতেন জাকির। পুরনো একটি বাইসাইকেল চালিয়ে অজোপাড়াগাঁয়ে গিয়ে কৃষকের অসূস্থ হাঁস-মুরগিকে ইনজেকশন পুশ করাই ছিলো তার নিত্যদিনের কর্ম ডিউটি। সামান্য বেতনে নিজের সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হতো। বন্ধুজন নামক ওই এনজিওটির মূল ব্যবসা ছিলো মানুষের কাছে চড়া সুদে অর্থ লগ্নির কারবার। এসব সুদ ব্যবসার ফাঁফফোঁকড় খুব কাছ থেকেই রপ্ত করতেন জাকির হোসেন মহিন। এভাবে সুদের টাকার সাধের নেশায় মত্ত্ব হয়ে উঠেন জাকির। হাঁস-মুরগির ইনজেকশনের সিরিঞ্জ ছুড়ে ফেলে চাকুরী ছেড়ে দেন তিনি। সিদ্ধান্ত নেন আর হাঁস-মুরগি নয়,এবার নিজেই দোকান খুলে মানুষের শরীরে সূদের ব্যবসার সিরিঞ্জ ঢোকাবেন। একপর্যায়ে যেই চিন্তা সেই কাজ। খুলে ফেলেন সুদের দোকান। দীর্ঘদিনের চাকুরী থেকে জমানো বেশ কিছু টাকা দিয়ে ছোট পরিসরে শুরু করেন এই সুদ ব্যবসা। বছরখানেক সুদের ব্যবসায় ভালো লাভের মুখ দেখতে পেয়ে দোকানের নাম রাখেন-গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা। জেলার চরফ্যাসনের পরিবার উন্নয়ন সংস্থা নামক একটি এনজিওর পরিচালক মো.কামাল উদ্দিন ১৯৯৭ সালের ১লা জানুয়ারী জাকির হোসেন মহিনকে এ নামকরনটি করে দেন বলে জানা গেছে। জেলা সদর ভোলার চরনোয়াবাদ এলাকার পুলিশ লাইন্স মোড়ে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দেয়ার পর জাকির হোসেন মহিনকে আর পিছু তাকাতে হয়নি। সুদের ব্যবসা আরো রমরমা হয়ে উঠে। কাগজে কলমে আর্থসামাজিক উন্নয়নের কাজ দেখানো হলেও মূলত: এ সংস্থাটির প্রধান কাজ-ই হলো চড়া সূদে অর্থ লগ্নির ব্যবসা। এভাবে কার্যক্রম চালানোর মাঝে আ'লীগ ক্ষমতায় আসলে জাকির হোসেন মহিন তার সুদের দোকানটিকে এনজিও ব্যুরোর তালিকাভূক্ত করে প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো গড়ে তুলে একটি পূর্ণাঙ্গ এনজিও হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। শুরু হয় তার ধান্দাবাঁজির দ্বিতীয় মিশন।
সূদের বাহক উত্তম-কমল:
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,ভোলা শহরের আলোচিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী তৃষ্ণা জুয়েলারি'র মালিক উত্তম হালদার ও ডিস ব্যবসায়ী কমল বৈদ্য জাকির হোসেন মহিনের সূদ ব্যবসার অন্যতম হাতিয়ার। এই দুই ব্যাক্তির মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন এলাকার বিত্ত্বশালীদেরকে মোটাদাগের সূদের বিনিময়ে অর্থ লগ্নি দেয়া হয়। সবচাইতে আতঙ্কের বিষয় হলো-জুলাই বিপ্লবের পর থেকে অদ্য পর্যন্ত এই দুই ব্যাক্তির মাধ্যমে ভারতে পলাতক নিষিদ্ধ আ'লীগ নেতাদের কাছে খরচের টাকা পাঠিয়ে থাকেন জাকির হোসে মহিন। তাছাড়া জাকির হোসেন এদের মাধ্যমে দেশের টাকার বিশাল একটি অংশ ভারতে পাচার করে থাকেন বলেও কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। এছাড়াও ভোলার বিভিন্ন ব্যবসয়ীরা চড়া সূদে উত্তম-কমলের মাধ্যমে গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার কাছ হতে ঋন নিয়ে এখন বিপাকে পড়েছেন। জানা গেছে, বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক লিজিং প্রতিষ্ঠান হতে পাঁচ পার্সেন্ট সুদে টাকা নিয়ে ওই টাকা পনের পার্সেন্ট সুদে ঋন দেয়া হয়;যা একপর্যায়ে ২৫ পার্সেন্ট হারে গিয়ে দাঁড়ায়। কোনো কোনো সুদের মাত্রা ৩৫ পার্সেন্টে গিয়েও দাঁড়ায় বলে জানান ভুক্তভোগীরা। এসব সুদের টাকা আদায় করতে জাকির হোসেন মহিনের স্পেশাল হিটার বাহিনী রয়েছে বলে জানান,ভোলার শ্রেণীপেশার মানুষেরা।
যেভাবে আ'লীগে যোগদান:
সরেজমিন তথ্যানুসন্ধানকালে ভোলার শ্রেণীপেশার মানুষ জানান,আ'লীগ সরকারের জমানার প্রথমদিকে উক্ত জাকির হোসেন মহিন সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের হাতধরে ওইদলে যোগ দেন। আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান অনুষ্ঠান না করা হলেও তোফায়েলের ভাগ্নে ভোলা পৌরসভার সাবেক মেয়র মনিরুজ্জামান অতি গোপনীয়তার মধ্য দিয়েই এ যোগদান কাজের তদারকী করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এরপর থেকে পুরো আ'লীগের ১৫ বছর ধরে জাকির হোসেন মহিনের শাসন-শোষণ আর নিপীড়নের শিকার হয়ে দক্ষিণাঞ্চলের বহু পরিবার নি:স্ব হয়ে পথের ভিখারী হয়ে গেছেন; আর সূদের কারবারে টাকার টাকশাল গড়েছেন জাকির হোসেন মহিন। আ'লীগের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে জাকির হোসেন তার সংস্থার পরিধি পুরো বরিশাল বিভাগ ও চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোতে সম্প্রসারণ করেছেন। আ'লীগ'র দাপটের দৌড়ে হয়েছেন রাষ্ট্রের অন্যতম জনসহায়ক প্রতিষ্ঠান পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকে এসএফ'র) এর পার্টনার। রাষ্ট্রীয় সংস্থা'র পার্টনার হয়ে মহিন সেখান থেকে বাগিয়ে নেন কয়েক হাজার কোটি টাকা। ওই টাকায় পুরো দক্ষিণাঞ্চলব্যাপী সুদের ব্যবসা চালিয়ে জাকির হোসেন মহিন হয়ে উঠেন বিশাল বিত্ত্ববৈভবের এক মুকুটহীন সম্রাট। তার দোর্দণ্ড দাপট আর হারামের রোজগারের টাকায় জেলায় জেলায় গড়ে তোলা হয় বিলাসবহুল সূরম্য প্রাসাদ। ওইসব অট্রালিকাগুলোতে সংস্থার কার্যক্রম চালানো হয়। ফ্যাসিস্ট জমানায় জেলাগুলোর সেই সূরম্য প্রাসাদে চাকুরী দেয়া হয় স্ব'স্ব জেলার আ'লীগের নেতাকর্মীদের। জুলাই বিপ্লবের পর সেই আ'লীগের লোকজনই এখন দলটির চোরাগোপ্তা দায়িত্ব পালন করছেন বলে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়,ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালানোর পর আ'লীগের পালিয়ে থাকা দুর্বৃত্তদের পরিচালনা করা হচ্ছে গ্রামীণ জন উন্নয়নের কালো টাকায়। দায়িত্বশীল বেশ কিছু সূত্র জানায়,বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আ'লীগকে যে কয়টি এনজিও অতি গোপনে বিপুল অর্থ যোগান দিচ্ছে জাকিরের এনজিওটি তার মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে। ভোলার বেশ কয়েকজন সুশীল ব্যাক্তি জানান,তোফায়েল আহমেদের ভাগ্নে মনিরুজ্জামান ভোলা পৌরসভার মেয়র থাকাকালীন জাকির হোসেনের সাথে মনিরের ছিলো হরেহর আত্মার সম্পর্ক। সেই সু্বাদে ভোলা পৌরসভার মেয়র মনিরুজ্জামানের পাশাপাশি জাকির হোসেন মহিনও হয়ে উঠেন ভোলা পৌরসভার অঘোষিত সেকেন্ড মেয়র। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,ভোলার আ'লীগ'র রাজনীতির কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য যত টাকা প্রয়োজন হতো তার সিংহভাগই দিতেন জাকির হোসেন মহিন। এখনো দিচ্ছেন। তাই ভোলার আ'লীগের কাছে জাকির হোসেন মহিন দাতা হাতেমতাই'র মতো একজন কামেল পূজনীয় মানুষ হিসেবে সমাদৃত। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বদাণ্যতায়-জাকির হোসন মহিন তার এনজিওকর্মের স্বিকৃতি স্বরুপ তৎকালীন ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে জাতীয় পুরস্কার বাগিয়ে নেন। পাশাপাশি তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের হাত থেকেও আরেকটি পুরস্কার গ্রহন করে নিজ সংস্থাকে আরো উচ্চতায় আসীন করান। একাধিক সূত্র জানায়,নিজ জেলা ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিটি জেলার সরকারি অফিসগুলোতে সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক পুরস্কার গ্রহণের ছঁবিটি টানাতে বাধ্য করেছিলেন-এই জাকির হোসেন মহিন। সেই ছঁবি সাটিয়ে নিজেকে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজন পরিচয় দিয়ে দেশব্যাপী দূর্ণীতি আর লুটের রাজত্ব চালাতেন জাকির হোসেন মহিন। তার ভয়ে সরকারি দপ্তরগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা থাকতো তটস্থ।
সরকারি খাল দখল করে বিনোদন কেন্দ্র :
বিগত আ'লীগ সরকারের আমলে ভোলা পৌরসভার মেয়র মনিরুজ্জামানের কাছ থেকে সৌন্দর্য বর্ধ্বনের নামে জাকির হোসেন মহিন ভোলার কয়েকশত বছররের পুরনো ঐতিহ্যবাহী একমাত্র ভোলা খালটি নিজ বব্জায় নিয়ে যান। খালটির হাসপাতাল সংলগ্ন অংশে পানির স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ করে সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে ভাসমান বিনোদন কেন্দ্র। যার নাম দেয়া হয়েছে ওয়াটার ল্যান্ডিং স্টেশন। খালের গতিপথ রুদ্ধ করে নিজের ভোগবিলাসের কেন্দ্র বানানোর এমন ধৃষ্টতার বিরুদ্ধে পরিবেশবিদগণ প্রতিবাদ করেও কোনো ফল মেলেনি। এ বিষয়ে জাকির হোসেন মহিন একেবারেই ডেমকেয়ার। ভোলার পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক তোতা মিয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা হলে তিনি এ প্রতিবেদকের কাছ নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন। বলেন-উক্ত ল্যান্ডিং স্টেশনটি এখনো অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। পরিবেশবিদরা বলছেন-যেখানে পরিবেশ রক্ষা, কৃষি ও সেচকাজের সুবিধার্থে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি চলছে সেখানে একজন জাকির হোসেনের কাছে কিভাবে ভোলার দুইশত বছরের ঐতিহ্যবাহী খালটি জিম্মি হয়ে আছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। ভোলার পরিবেশপ্রেমী ও সাধারণ মানুষ এই খাল দখলের অবসান চান।
কিচেন মার্কেট দখল:
ভোলার তৎকালীন মেয়র মনিরুজ্জামানের সাথে সখ্যতাকে কাজে লাগিয়ে জাকির হোসেন মহিন জেলা শহর ভোলার দৃষ্টি নন্দন বহুতল কিচেন মার্কেটটি দখল করে নিয়ে গেছে। পৌরসভার দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা নামপ্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে জানান,পৌর নির্বাচন করতেে মনিরুজ্জামান জাকির হোসেনের কাছ থেকে কয়েককোটি টাকা লোন নিয়ে তা পরিশোধ করেননি। বিনিময়ে সাধারণ ব্যবসায়ীদের রুটি রুজির একমাত্র স্থান কিচেন মার্কেটটি জাকিরকে হস্তান্তর করে দিয়েছেন। তাছাড়া জাকির হোসেন মহিন টাকার দায়ে ওই মার্কেটটি আগেভাগেই নিজের কব্জায় নিয়ে রাখেন বলেও জানান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দৈনিক পত্রিকার মালিকানা দখল:
ভোলার গণমাধ্যমের সাথে সংশ্লিষ্ট একাধিক সাংবাদিক জানান,ভোলা সদর রোডের জাহানার আর্কেড নামক একটি ভবনের এক তৃতীয়াংশের মালিক গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা। ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় "দৈনিক ভোলার বানী" নামক একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন মো.মাকসুদুর রহমান নামের এক ব্যাক্তি। পত্রিকা অফিসটির ভাড়া ঠিকমত দিতে না পারায় কাগজটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়া হয় জাকির হোসেন মহিনের ছেলেকে। গণমাধ্যমে গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার দখল রয়েছে এমনটি প্রমানের জন্যই দৈনিকটিতে নিজের ছেলের পোস্ট পজিশন রাখা। বিনিময়ে সম্পাদককে আর অফিস ভাড়া দিতে হতনা। একটি সূত্র জানায়,নিজের পারিবারিক প্রয়োজনে পত্রিকাটির সম্পাদক গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার কাছ হতে বেশ কিছু টাকা ঋণ গ্রহন করেন। প্রতি মাসে ওই ঋণের কিস্তি শোধ করা হলেও এক পর্যায়ে বড়ধরনের সুদের পাহাড় দেখিয়ে বিপদের মূখোমূখি করা হয় পত্রিকাটি মালিক-সম্পাদক মো. মাকসুদুর রহমানকে। পরবর্তীতে সুদের টাকার দায়ে গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা সম্পাদককে পুরো পত্রিকাটির মালিকানা দিয়ে দিতে বাধ্য করা হয়। যদিও ওই পত্রিকার সম্পাদক মো. মাকসুদুর রহমান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে এই সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে গেলেই তার চোখে-মুখে এক অজানা আতঙ্ক,ভয় ও উৎকন্ঠার ছাঁপ দেখেন জেলার গণনাধ্যম সংশ্লিষ্টরা। সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে,জাকির হোসেন মহিনের দখলে থাকা কিচেন মার্কেটের উপর তলায় খুব ডেকোরেশন করে ওই পত্রিকার নতুন অফিস সাজানো হয়েছে। লুটে নেয়া ওই কাগজটির বর্তমান সম্পাদক গ্রানীণ জন উন্নয়ন সংস্থা'র কর্মচারী মো. হারুন অর রশিদ। কিচেন মার্কেটটির অপর একটি রুম সাজিয়ে কতেক গণমাধ্যমকর্মীকে ফ্রি-তে তাদের কর্মকাণ্ড চালাতে দেয়া হয়েছে। তারা বিনা ভাড়ায় এখন তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারছেন আর জাকির হোসেন মহিন তাদের পূঁজি করে নিজের মিডিয়া আধিপত্যের জানান দিচ্ছেন বলে মনে করছেন ভোলার প্রবীণ সাংবাদিক ব্যাক্তিত্বরা।
সুদের টাকার জন্য ছিনতাই,পলাতক বহুজন-!
সুদের ব্যবসা করতে গিয়ে জাকির বাহিনী মানুষের চাল চুলো সবই লুটে নেন বলে বিস্তর অভিযোগের অন্ত: নেই। দক্ষিণাঞ্চলের জনপদের প্রান্তিক অসহায় মানুষগুলোতে জাকির মহিনের সুদ নামক ভয়ঙ্কর দানবের কাছে জিম্মি হয়ে আছে। সুদের কিস্তির জন্য এমন কোনো নোংরামি নেই যা সে না করছে। তার সুদের ছোবলের শিকার এমনি এক নারী চরফ্যাসন উপজেলার চরমানিকা ইউনিয়ন ৬ নম্বর ওয়ার্ড দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা কাঞ্চন মিস্ত্রির স্ত্রী কুলসুম বেগম। ঘটনাটি ছিলো-২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর শনিবারের। ভুক্তভোগী দৌলতপুর গ্রামের কাঞ্চন মিস্ত্রির স্ত্রী কুলসুম বেগম জানাম,দক্ষিণ আইচা গ্রামীণ জনউন্নয়ন সংস্থা থেকে ৭০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করি। সেই টাকার কিস্তি হিসেবে সপ্তাহে ২৫শ টাকা করে ১৩টি কিস্তি দেই। হঠাৎ দেশের চলমান পরিস্থিতির কারণে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় ওই এনজিওর মাঠকর্মী হাসিনা ও ম্যানাজার মো. শামীম আমার বাড়িতে এসে গোয়ালঘর থেকে একটি গাভী গরু ছিনিয়ে নেন। ওই সময় গরুটি নিতে তাদেরকে নিষেধ করলে তারা আমার কোনো কথা শুনেন নাই। আমি কোনো রকম ক্ষেতখামারে কাজ করে সংসার চালাই। আমি তাদেরকে বলছি সমিতির টাকা পরিশোধ করব, তাও শুনেন নাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওই গরুটি নিয়ে যাওয়ার সময় তাদেরকে বলছি, গরুটির একটি ৪ মাসের বাচ্চা রয়েছে। বাচ্চাটি এখন চিৎকার করছে তার মায়ের জন্য। তবুও তারা গরুটি ছাড়েনি।’ সেখানকার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ছালাউদ্দিন মুন্সি বলেন, এনজিওর টাকা দিতে না পারায় গোয়ালঘর থেকে একটি গরু ছিনিয়ে নিয়ে অমানবিক কাজ করেছেন এনজিওর লোকজন। আইনগতভাবে এটা করতে পারে না। এনজিওটির বিরুদ্ধে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এদিকে ভোলার বিসিক শিল্পনগরীর ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বাবুল সর্দার গণমাধ্যমকে জানান,জাকির হোসেন মহিনের কাছ থেকে কিছু ঋণ নিয়ে কয়েক কিস্তিতে তা শোধ করেও নিস্তার পাননি তিনি। চক্রবৃদ্ধি সূদের দায়ে তার উপর ক্যাডার লেলিয়ে নির্যাতন চালানো হয়েছে। একপর্যায়ে সব ব্যবসা গুটিয়ে জীবন বাঁচাতে এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন এ ব্যবসায়ী। ভোলা বিসিকের এমন অনেক ব্যবসায়ীকে সুদের জালে আবদ্ধ করে পুরো বিসিক শিল্পনগরীটিকে দখলে নেয়ার মাস্টার প্ল্যান নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সেখানকার শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ। একই অবস্থা ভোলা শহররে জিয়া সুপার মার্কেটের পাকিজা স্টোরের ব্যবসায়ী মো. ইসমাঈল হোসেনের অবস্থা। তিনিও মহিনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করেও নিস্তার পাননি। সুদের টাকার জন্য এ ব্যবসায়ীর উপর মাস্তান লেলিয়ে দেয়া হয়েছে। জীবন বাঁচাতে ইসমাঈল এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। জেলা সদরের অপর ঠিকাদার মো. মমিনও ঋন নিয়ে সুদের আক্রমনের শিকার। ব্যবসায়ী মমিনের ঘনিষ্টজনরা জানিয়েছেন,সুদের টাকার দায়ে জাকির বাহিনী স্টেডিয়াম এলাকায় অবস্থিত মমিন মিয়ার বাড়ী দখলে বহুবার স্বশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী পাঠিয়েছিলো।
আ'লীগের জার্সি বদলে এবার গায়ে বিএনপি'র জার্সি :
ফ্যাসিস্ট আ'লীগের অন্যতম ডোনারখ্যাত গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা'র নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মহিন ২০২৪ইং সালের জুলাই বিপ্লবের পর বেশ কয়েকমাস গা ঢাকা দিয়ে থাকলেও সম্প্রতি সে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,ঢাকা ও ভোলায় জেলা বিএনপির বেশ কয়েকজন বিপদগামী নেতাকে ম্যানেজ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাতারাতি মহিন শরীর থেকে নিজের আওয়ামী জার্সি খুলে ফেলেছেন। তার শরীরে এখন উঠে বিএনপির জার্সি। সে এখন সদ্য ভূমিষ্ট ভোলা বিএনপির নীতি নির্ধারক। নির্ভরযোগ্য তথ্যমতে,যেই জাকির হোসেন মহিন ক্ষমতার অপ-ব্যবহার ও গ্রেপ্তার এড়াতে এতোদিন পলাতক ছিলো,তার হঠাৎ প্রকাশ্যে এসে বিএনপি স্রোতে গা ভাসিয়ে দেয়াটি দলটির ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীরা স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছেননা। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তারা বিএনপির হাইকমান্ডের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
সরকারের হাজার কোটির স্কুল ফিডিং কাজ দখল:
শুধু জার্সি বদল করেই খ্যান্ত হননি সুচতুর জাকির হোসেন মহিন। এবার বিএনপি সরকারের বরাদ্দকৃত কোমলমতি শিশুদের স্কুল ফিডিং এর হাজার কোটি টাকার নাস্তা সাপ্লাইয়ের কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন জাকিরের গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা। জাতীয় দৈনিক আইবার্তা,দৈনিক সমতল মাতৃভূমি এবং দ্বীপকথা নামক পত্রিকার অনলাইন পোর্টালের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক মেধা বিকাশের লক্ষ্যে সরকার স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চালু করেছেন। দেশের বিভিন্ন জেলার এনজিওগুলোর সাথে এসব ফিডিং সরবরাহের চুক্তি করেন সরকার। সেই আলোকে দেশের উপকূলীয় এলাকার ৬ টি জেলার স্কুল ফিডিং কন্ট্রাক্ট পায় ভোলার গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা নামের অর্থ লগ্নিকারী এ প্রতিষ্ঠানটি।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত ও বিদ্যালয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়াতে ভোলা'সহ দেশের ছয় জেলায় স্কুল ফিডিং এর কাজ বাগিয়ে নেন এ সংস্থাটি। চলতি বছরের ২৯ মার্চ উপকূলীয় জেলা ভোলা,পটুয়াখালী,বরগুনা, পিরোজপুর,ফরিদপুর,ও গোপালগঞ্জে একযোগে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, স্ব'স্ব জেলায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে এবং জিজেইউএস-এর বাস্তবায়নে কর্মসূচিটি পরিচালিত হচ্ছে। এতে ভোলার দৌলতখান উপজেলার ১০৬টি, বোরহানউদ্দীন উপজেলার ১৫৬টি, তজুমুদ্দিন উপজেলার ১১০টি এবং মনপুরা উপজেলার ৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ৫২,৭২৭ জন শিক্ষার্থীর জন্য ডিম, কলা, রুটি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। ওই গণমাধ্যমগুলো আরো জানায়,গ্রামীন জন উন্নয়ন সংস্থা'র অতিরিক্ত পরিচালক ও প্রকল্প সমন্বয়কারী ডা. খলিলুর রহমান তাদেরকে জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের আওতায় ভোলা,পটুয়াখালী,বরগুনা, পিরোজপুরের বানরি পাড়া ফরিদপুর, রাজবাড়ি ও গোপালগঞ্জ জেলার মোট ২,৬৭৩টি প্রতিষ্ঠানে ৩,৬১,৭৩৫ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ডিম, রুটি ও কলা খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। যা আগমী ১ বছর পর্যন্ত চলবে। গণমাধ্যমগুলোর রিপোর্টে আরো বলা হয়,স্কুল ফিডিং কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা উপকূলীয় জেলাগুলোর স্কুলগুলোতে শিশুদের নিম্নমানের পঁচা ও বাসি নাস্তা দিয়ে আসছেন। সে জন্য সম্প্রতি প্রাথমিক ও গন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ঘোষনা করেন যে,যারা স্কুল ফিডিং সরবরাহে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন শুধু তারাই ফিডিং সরবরাহ করতে হবে; কোনোপ্রকার সাব কন্ট্রাক্ট দেয়া যাবেনা। এটি প্রমানিত হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সাথে সরকার চুক্তি বাতিল করবেন। প্রতিমন্ত্রীর এমন ঘোষণার পরও গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার টোনক নড়েনি। তারা সরকারের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে প্রতিটি জেলায় সাব কন্ট্রাক্টের মাধ্যমেই স্কুলগুলোতে অস্বাস্থ্যকর নিম্নমানের পঁচা ও বাসি নাস্তা সরবরাহ করছেন।
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার স্কুলগুলোতে নাস্তা সরবরাহ করেন সাব কন্ট্রাক্টর শাহাবুদ্দিন বাচ্চু। এ বিষয়ে তার সাথে কথা হলে তিনি সেসব গণমাধ্যমকে জানান, গ্রামীন জন উন্নয়ন সংস্থার সাথে আমি স্থানীয় ঠিকাদার হিসেবে স্কুলে নাস্তা সরবরাহের সাব কন্ট্রাক্ট নিয়েছি। তিনি জানান,সর্বশেষ আমি গত ২১ মে' বৃহস্পতিবার স্কুলগুলোতে নাস্তা সরবরাহ করেছি। বরিশাল অঞ্চলের সচেতন মহল মনে করছেন,জার্সি বদল করে বিএনপিতে ঢুকে পড়া এসব ফ্যাসিস্টদের চিহ্নিত করা এখন সময়ের দাবী। নচেৎ পূর্বের ধারাবাহিকতায় উক্ত জাকির হোসেন মহিন এবার স্কুল ফিডিং এর হাজার কোটি টাকার কন্ট্রাক্ট কব্জা করে বিএনপি সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার নীল নকশা বাস্তবায়ন করবে।
তারা মনে করেন-এভাবে চলতে থাকলে সরকারের এ উদ্যোগ শিশুদের সুস্থ বিকাশে বাঁধাগ্রস্থ হবে এবং দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও ওইসকল গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আ'লীগকে শক্তিশালী করতে গোপন বৈঠক :
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়,দেশের দক্ষিণাঞ্চলের গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক জাকির হোসেন মহিনের নেতৃত্বে নিষিদ্ধ ঘোষিত আ'লীগ ফের সংগঠিত হচ্ছে। যা পিলে চমকে যাওয়ার মতো ঘটনা। সংস্থাটির জেলা ও উপজেলা কার্যালয়গুলো আওয়ামীলীগের অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব অফিস সমূহে প্রতিনিয়ত আ'লীগ নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন এবং বর্তমান সরকার বিরোধী নাশকতার নীল নকশা আঁটেন। সূত্রটি আরো জানায়,প্রান্তিক পর্যায়ে গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা অন্তত: দশলাখ আলীগ কর্মী ও সমর্থকদের বিশেষ ছাড়ে ঋণ সুবিধা দিয়ে থাকেন। ফলে এরা আ'লীগের কার্যক্রম চালাতে আর বেগ পেতে হয়না। এখানকার রাজনৈতিক বিশ্লষকগণ মনে করছেন,বিএনপিতে আকস্মিক উঁড়ে এসে জুৃঁড়ে বসা এসব ফ্যাসিস্টদের চিহ্নিত করে এখনই আইনের আওতায় আনতে না পারলে আগামী দিনগুলোতে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার মারাত্মক ক্ষতির মূখোমূখি হতে পারেন। এজন্য দুদক ও সব ক'টি গোয়েন্দা সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে গভীর তদন্ত করে সরকার বিরোধী এসব ষড়যন্ত্রকারীদের এখনি মূলোৎপাটন করতে হবে বলেও মনে করছেন তারা।
এসব বিষয়ে অভিযুক্ত গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা'র প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক মো.জাকির হোসেন মহিন'র সাথে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি গণমাধ্যমের কল রিসিভ করেননি। তবে ওই সংস্থায় কর্মরত তার ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান,এগুলো সবই ষড়যন্ত্র। একটি মহল তাদের কাছ থেকে মোটাদাগের ঋন নিয়ে তা ফেরত না দেয়ার অশুভ উদ্দেশ্যেই তাদের পরিচালক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন বলে দাবী করেন তারা।