২৫ কোটি টাকার বরাদ্দ বিতর্কে মুখ খুললেন আসিফ ও হাসনাত

কুমিল্লা জেলা পরিষদের উন্নয়ন বরাদ্দ নিয়ে সম্প্রতি শুরু হওয়া বিতর্কের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন জাতীয় নাগরিক আন্দোলনের নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও হাসনাত আব্দুল্লাহ। তারা দাবি করেছেন, আলোচিত অর্থ কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা নয়; বরং স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকারি বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় আসিফ মাহমুদ বলেন, কিছু গণমাধ্যমে বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে মনে হতে পারে তিনি ও হাসনাত ব্যক্তিগতভাবে অর্থ গ্রহণ করেছেন। বাস্তবে এটি স্থানীয় সরকার বিভাগের উন্নয়নমূলক বিশেষ বরাদ্দ, যা সংশ্লিষ্ট এলাকার বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয়ের জন্য অনুমোদিত হয়েছিল।
তিনি জানান, সরকারি বাজেট বা বিশেষ বরাদ্দ কোনো ব্যক্তি নিজের নামে গ্রহণ করেন না। বরাদ্দ অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নির্ধারিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তা ব্যয় করা হয়।
আসিফ মাহমুদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দ বিভিন্ন জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহার করা হয়। বরাদ্দের অর্থ কোন খাতে ব্যয় হবে, সে সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কমিটি গ্রহণ করে।
তিনি আরও বলেন, কুমিল্লা জেলা পরিষদের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আলোচিত অর্থ সোলার লাইট স্থাপন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্র ক্রয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ধর্মীয় স্থাপনা সংস্কারসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারি ক্রয়বিধি অনুসরণ করে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়ার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। সেই ফোনালাপের অডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
অডিওতে প্রশাসক জানান, আলোচিত ২৫ কোটি টাকা দুই উপজেলার উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে হাসনাত আব্দুল্লাহর এলাকার জন্য ১০ কোটি এবং আসিফ মাহমুদের এলাকার জন্য ১৫ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়। তবে তিনি কখনোই তাদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেননি বলেও স্পষ্ট করেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহও দাবি করেন, বরাদ্দকৃত অর্থ তার ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নয়; বরং সংশ্লিষ্ট এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দ এবং ব্যক্তিগতভাবে অর্থ গ্রহণ—এই দুটি বিষয়কে এক করে দেখানো বিভ্রান্তিকর। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে সংশ্লিষ্টরা আরও পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেবেন।