রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

রমজানে ইলিশ নিষেধাজ্ঞায় হতাশ লক্ষ্মীপুরের জেলেরা

রমজানে ইলিশ নিষেধাজ্ঞায় হতাশ লক্ষ্মীপুরের জেলেরা
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ঝাটকা ইলিশ সংরক্ষণে ১ মার্চ মধ্যরাত থেকে (মার্চ–এপ্রিল) দুই মাসের জন্য মেঘনা নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে উপকূলীয় লক্ষ্মীপুর জেলার হাজারো জেলে পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। একদিকে পবিত্র রমজান, অন্যদিকে আয়ের একমাত্র উৎস বন্ধ—দ্বিমুখী চাপে দিশেহারা তারা।

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, রামগতি উপজেলার চর আলেকজান্ডার এলাকা থেকে চাঁদপুরের ষাটনাল পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার নদী এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এ এলাকায় মাছ ধরা, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজারজাত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। ২৩ সেন্টিমিটারের কম আকারের ইলিশ—যা ‘ঝাটকা’ নামে পরিচিত—রক্ষায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

জেলেপল্লীতে হাহাকার
কমলনগর উপজেলা, রামগতি উপজেলা ও রায়পুর উপজেলার বিভিন্ন মাছঘাট ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ নৌকা ঘাটে বাঁধা। জেলেরা জাল শুকানো ও নৌকা মেরামতের কাজে ব্যস্ত। কেউ কেউ বিকল্প কাজের সন্ধানে দিনমজুরিতে নামার চেষ্টা করছেন। তবে সবার মুখে একই কথা—“ঘরে চাল নেই, হাতে টাকা নেই; রোজা ও ঈদ কীভাবে কাটবে ?”

মজুচৌধুরীর হাট ভাসমান জেলেপল্লীর সর্দার সৌরভ হোসেন মাঝি জানান, প্রায় ৩০০ ভাসমান জেলের মধ্যে মাত্র ৯৩ জন ভিজিএফ চাল পান। অনেক প্রকৃত জেলে নিবন্ধন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অভিযোগ রয়েছে, কার্ড পেতে ঘুষের প্রয়োজন হয়—যা দিতে না পারায় অনেকেই তালিকার বাইরে থেকে যান।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় নিবন্ধিত জেলে সংখ্যা ৪৬ হাজার ৪৯ জন। এর মধ্যে ২৯ হাজার ৬০ জেলে পরিবারের জন্য ৪ হাজার ৬৪৯ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফেব্রুয়ারি থেকে চার মাস ৪০ কেজি হারে ভিজিএফ চাল বিতরণ চলছে। তবে নিবন্ধিত প্রায় ১৬ হাজার ৯৮৯ জেলে এ সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বেসরকারি হিসাবে জেলের সংখ্যা আরও বেশি।

মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে টাস্কফোর্স গঠন, বরফকলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ, জ্বালানি দোকান বন্ধ ও নদীপাড়ে মাইকিং কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আইন অমান্য করলে জেল-জরিমানা ও জাল জব্দের বিধান রয়েছে।

জেলেদের ভাষ্য, শুধু চাল সহায়তা যথেষ্ট নয়। নিষেধাজ্ঞার সময়ে বিশেষ আর্থিক অনুদান ও এনজিও ঋণের কিস্তি স্থগিতের ব্যবস্থা না হলে পরিবার নিয়ে টিকে থাকা কঠিন হবে। তাদের আশঙ্কা, পর্যাপ্ত সহায়তা না পেলে পেটের তাগিদে কেউ কেউ আইন অমান্য করতে বাধ্য হতে পারেন।

রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে উপকূলের জেলেপল্লীগুলোতে এখন নীরবতা আর দীর্ঘশ্বাস। সরকারের নিষেধাজ্ঞা ইলিশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ হলেও, জীবিকার বিকল্প ও সুষম সহায়তা নিশ্চিত না হলে উপকূলের এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য সময়টি হয়ে উঠবে কষ্টের।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন