হামে সংক্রমণ বাড়ছে, নতুন মৃত্যু ৮

দেশজুড়ে উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে হাম। সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতির মধ্যেই গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিলেন এবং বাকি ৭ জন মারা গেছেন হামের উপসর্গ নিয়ে।
রোববার (২৬ এপ্রিল, ২০২৬) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ২৮ জনে। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় ৪ হাজার ৬০৩ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ভর্তি ও সুস্থতা: এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মিলিয়ে মোট ২১ হাজার ৪৩৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৯৫৫ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
মৃত্যুর পরিসংখ্যান: প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত হাম নিশ্চিত হয়ে মারা গেছেন ৪৩ জন। অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২১৬ জন। অর্থাৎ, এ পর্যন্ত সর্বমোট ২৫৯ জন এই প্রাদুর্ভাবে প্রাণ হারিয়েছেন।
২৪ ঘণ্টার আপডেট: গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ১ হাজার ৪২১ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে।
মাঠ পর্যায়ের চিত্র বিশ্লেষণ করে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণের তীব্রতা বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে পর্যাপ্ত আইসোলেশন বা পৃথক রাখার ব্যবস্থার অভাব। অত্যন্ত ছোঁয়াচে এই রোগটি আক্রান্ত শিশুদের মাধ্যমেই দ্রুত অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে হাসপাতালে শয্যা সংকটের কারণে আক্রান্ত শিশুদের সাধারণ রোগীদের কাছাকাছি রাখা হচ্ছে, যা নতুন করে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করছে। দ্রুত আইসোলেশন নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আক্রান্তদের বড় একটি অংশই শিশু। হাসপাতালগুলোতে ক্রমাগত রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকা না নেওয়া এবং আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসায় এই প্রাদুর্ভাব দীর্ঘায়িত হচ্ছে। শিশুদের তীব্র জ্বর ও শরীরে লালচে দানা দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে এবং আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।