চাঁদপুরে পরিত্যক্ত ভবনে ১৫ বছর ধরে চলছে পাঠদান

চাঁদপুর সদর উপজেলার ৯নং বালিয়া ইউনিয়নের পূর্ব গুলিশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যালয় ভবনটি বর্তমানে এতটাই জরাজীর্ণ যে, এটি এখন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্ক বা ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। তবুও বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এই ভাঙাচুরা ভবনেই বাধ্য হয়ে চলছে ১২১ জন কোমলমতি শিক্ষার্থীর পাঠদান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, স্থানীয় আমিন পাটয়ারী বিএসসির বাড়িতে অবস্থিত এই বিদ্যালয়ের একতলা ভবনটির অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। চার কক্ষবিশিষ্ট এই ভবনটির দেয়ালের ইট ও প্লাস্টার খসে পড়েছে অনেক আগেই। ছাদের ঢালাই নষ্ট হয়ে মরিচা ধরা লোহার রড বেরিয়ে আছে। জানালার অংশ ভেঙে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। ভবনের প্রতিটি অংশই এখন নড়বড়ে। যেকোনো মুহূর্তে ভবনটি ধসে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানি বা দুর্ঘটনা ঘটার তীব্র আশঙ্কা বিরাজ করছে।
জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED) ১৯৯৩-৯৪ অর্থ বছরে এই ভবনটি নির্মাণ করেছিল। ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় কর্তৃপক্ষ প্রায় ১৫ বছর আগেই এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। কিন্তু দীর্ঘ এই দেড় দশকেও সেখানে নতুন কোনো ভবন নির্মিত হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই নিয়মিত ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা।
বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ মোট ৬ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এই পরিবেশে সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে অভিভাবকরা সবসময় চরম উৎকণ্ঠায় থাকেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টি অবহেলিত পড়ে থাকলেও এটি দ্রুত অপসারণ ও নতুন ভবন নির্মাণের ব্যাপারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শরীফুল ইসলাম ফাহিম জানান, ভবনটি অনেক আগেই পরিত্যক্ত ঘোষিত হয়েছে। বর্তমানে এটি নিলামের জন্য প্রয়োজনীয় আবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ভবনটি ভেঙে ফেলা হবে এবং দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পুনরায় আবেদন করা হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, কোমলমতি শিশুদের জীবনের নিরাপত্তা এবং এলাকায় শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই জরাজীর্ণ ভবনটি দ্রুত অপসারণ করা জরুরি। আধুনিক ও নিরাপদ একটি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য তারা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।