শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj

রায়পুরে দুই চিকিৎসকের গাফিলতি নিয়ে বিস্ময়

রায়পুরে দুই চিকিৎসকের গাফিলতি নিয়ে বিস্ময়
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় দুই চিকিৎসক এক দিনের ছুটি নিয়ে টানা প্রায় এক দশক ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। দায়িত্বশীল পেশায় থেকে এমন দীর্ঘ অনুপস্থিতি যেমন গুরুতর অনিয়ম, তেমনি এটি প্রশাসনিক নজরদারির বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অনুপস্থিত চিকিৎসকরা হলেন রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অর্থোপেডিকস) আবুল কাশেম মহিউদ্দিন এবং উপজেলার সাইচা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার কাজী সামসুদ্দোহা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তারা ২০১৫ সাল থেকে কর্মস্থলে নেই।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৬ এপ্রিল রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অর্থোপেডিক চিকিৎসক হিসেবে যোগ দেন আবুল কাশেম মহিউদ্দিন। একই বছরের ১৩ জুলাই পারিবারিক কারণ দেখিয়ে এক দিনের ছুটি নেন তিনি। এরপর আর কর্মস্থলে ফেরেননি। 

অন্যদিকে, ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর সাইচা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগ দেওয়া কাজী সামসুদ্দোহা ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর এক দিনের ছুটি নিয়ে আর ফিরে আসেননি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ বছরে একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হলেও তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এমনকি স্থায়ী ঠিকানায় পাঠানো চিঠিপত্রও ‘প্রাপক নেই’ উল্লেখ করে ফেরত এসেছে। স্থানীয়দের ধারণা, তারা নিয়মবহির্ভূতভাবে বিদেশে অবস্থান করছেন।

বিস্ময়কর হলেও সত্য, দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও এখনো তাদের পদ দুটি শূন্য ঘোষণা করা হয়নি। ফলে নতুন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রায় ৪ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবা নির্ভর করছে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর, যেখানে বর্তমানে মাত্র ২১ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন।

বিশেষ করে অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ না থাকায় দুর্ঘটনায় আহত ও হাড় ভাঙা রোগীরা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাধ্য হয়ে অনেককে জেলা সদর বা রাজধানীতে যেতে হচ্ছে, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতি মাসেই জনবল সংক্রান্ত প্রতিবেদন জেলা সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়। সেখানে নিয়মিতভাবেই এই দুই চিকিৎসকের অনুপস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। 

তবে রহস্যজনকভাবে এখনো তাদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

রায়পুর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সাব্বির আলম মিয়াজী বলেন, “এটি চরম দায়িত্বহীনতা। শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতাই নয়, এটি রায়পুরবাসীর সঙ্গে এক ধরনের তামাশা। আইন ভঙ্গকারী এই চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে পদগুলো শূন্য ঘোষণা করা উচিত।”

এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. বাহারুল আলম বলেন, “আমরা নিয়মিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করে আসছি। বারবার নোটিশ দেওয়ার পরও তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পদ দুটি টেকনিক্যালি শূন্য না হওয়ায় নতুন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। সীমিত জনবল দিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষকে সেবা দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।”

দীর্ঘ এক দশক ধরে অনুপস্থিত থেকে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদ ‘দখলে’ রেখে জনসেবায় বাধা সৃষ্টি করার এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয় এবং কবে নাগাদ শূন্য পদে নতুন চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে জনদুর্ভোগ লাঘব করা হয়।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন