নবীনগরে ইউপি চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল আউয়াল রবি এবং তার ভাই যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম শফিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সরকারি জমি দখল ও মাদক ব্যবসার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) কোম্পানীগঞ্জ-নবীনগর সীমান্তবর্তী বাঙ্গরা বাজার পরিচালনা কমিটির আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, চেয়ারম্যান রবি ও তার ভাই শফিক দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এলাকায় চাঁদাবাজি এবং মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। অভিযোগে বলা হয়, গত মঙ্গলবার সকালে বাঙ্গরা বাজারের সরকারি খাস জমিতে দোকান নির্মাণের চেষ্টা করা হলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ বাধা দেন। এ সময় ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করা হয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় জনতা অভিযুক্তদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেই তারা বাঙ্গরা বাজারের সরকারি জমি দখল করে রেখেছেন। এর আগে মুরগি বাজারের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম শফিককে এলাকায় ‘চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী’ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে এবং অতীতে ইয়াবাসহ আটক হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দোকান বরাদ্দের নামে বিভিন্ন সময়ে মোটা অংকের চাঁদা আদায়ের অভিযোগও তোলা হয়।
বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব শামীম আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আতিক সরকার বলেন, “তাদের অত্যাচারে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ দিয়েও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি। আমরা এই চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
সংবাদ সম্মেলন থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান রবিউল আউয়াল রবি বর্তমানে কারাগারে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার ভাই শফিকুল ইসলাম শফিক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সংবাদ সম্মেলনে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি যৌথবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি, যাতে প্রকৃত অপরাধীরা চিহ্নিত হয়।”