স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টে ম্যাগনেসিয়ামের গুরুত্ব

আধুনিক জীবনের প্রতিযোগিতামূলক ইঁদুর দৌড়ে অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা স্ট্রেস এখন নিত্যসঙ্গী। দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস কেবল মন নয়, শরীরের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত পরিমাণে ‘ম্যাগনেসিয়াম’ গ্রহণ করলে এই অসহনীয় মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ম্যাগনেসিয়ামকে এমন একটি খনিজ বলা হয়, যা সরাসরি আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখতে এবং শরীরের স্ট্রেস রেসপন্স নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে।
ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি ও স্ট্রেস হরমোন
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি হলে ‘কর্টিসল’ নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। এর ফলে মানুষ অকারণে চিন্তিত, অস্থির এবং অতিরিক্ত চাপগ্রস্ত হয়ে পড়ে। পর্যাপ্ত ম্যাগনেসিয়াম শরীরে থাকলে তা কর্টিসলের মাত্রা কমিয়ে মনকে শান্ত রাখে। এছাড়া এটি ‘গাবা’ (GABA) নামক নিউরোট্রান্সমিটার নিয়ন্ত্রণ করে, যা মস্তিষ্ককে প্রশান্তি দেয় এবং ভালো ঘুমে সহায়তা করে।
ম্যাগনেসিয়ামের বহুমুখী উপকারিতা
-
পেশির শিথিলতা: স্ট্রেসের কারণে শরীরে যে পেশির টান বা ব্যথা তৈরি হয়, তা কমাতে ম্যাগনেসিয়াম কার্যকর।
-
মানসিক প্রশান্তি: এটি স্নায়বিক উত্তেজনা কমিয়ে মনকে স্থির রাখতে সাহায্য করে।
-
হজম ও নার্ভ সিস্টেম: এটি কেবল স্ট্রেস কমায় না, বরং হজম প্রক্রিয়া ও পুরো নার্ভ সিস্টেমের কার্যকারিতা বজায় রাখতে অবদান রাখে।
খাদ্যতালিকায় যা রাখবেন
ম্যাগনেসিয়ামের চাহিদা মেটাতে দামি ওষুধের চেয়ে প্রাকৃতিক খাবারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা। পাম্পকিন সিডস (মিষ্টি কুমড়ার বীজ), পালং শাক, কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, চিয়া সিডস, কিনোয়া এবং ডাবের পানি ম্যাগনেসিয়ামের চমৎকার উৎস। এছাড়া প্রতিদিনের ডায়েটে ডাল, বিনস ও কলা রাখা জরুরি।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে, তবে এর বিভিন্ন ধরণ থাকায় একজন ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্ট বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া শ্রেয়।
সকালের নাশতায় ডাবের পানি, দুপুরে মসুর ডাল ও শাক এবং বিকেলে বাদাম বা বীজ জাতীয় খাবার খাওয়ার অভ্যাস আপনার শরীরকে প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দিতে পারে। আজ থেকেই ম্যাগনেসিয়াম-সমৃদ্ধ খাবারের অভ্যাস গড়ে তুলে স্ট্রেস মুক্ত সুস্থ জীবন গড়ার সিদ্ধান্ত আপনার।
দৈএনকে/জে, আ