ফুয়েল পাস চালুর পর কমেছে পেট্রল পাম্পের দীর্ঘ অপেক্ষা

রাজধানীর জ্বালানি তেল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। নতুনভাবে চালু হওয়া ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থার কারণে গ্রাহকরা একবারে তুলনামূলক বেশি পরিমাণ তেল নিতে পারছেন, যা কয়েক দিন ব্যবহার করা যাচ্ছে।
ফলে বারবার পাম্পে আসার প্রয়োজন কমে গিয়ে ভিড় ও লাইনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। সরজমিনে দেখা গেছে, আগে যেখানে জ্বালানি নিতে ৪–৫ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো, এখন তা কমে ১–২ ঘণ্টার মধ্যে নেমে এসেছে। এতে গ্রাহকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি পাম্পে তেল না থাকায় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে কিছু পাম্প আগের দিনের মজুদ থেকে দুপুর পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহ চালিয়ে গেছে। ছুটির দিন হওয়ায় নতুন সরবরাহ না এলেও পরিস্থিতি তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে ছিল।
পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগের তুলনায় লাইনের দৈর্ঘ্য কমেছে এবং যানবাহনের চাপও নিয়ন্ত্রিত রয়েছে। যদিও সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি ছিল, তবুও লাইনে দাঁড়ানোর সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
রমনা পেট্রল পাম্পের স্বত্বাধিকারী সোহাগ জানান, “ছুটির কারণে আজ তেলের গাড়ি আসেনি। গতকালের মজুদ থেকেই দুপুর পর্যন্ত সরবরাহ করা হয়েছে। আগামীকাল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।”
অন্যদিকে শাহবাগ এলাকার মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টারে সকালে ভিড় কম থাকলেও দুপুরের পর কিছুটা চাপ বাড়ে। তবে আগের তুলনায় লাইনের গতি দ্রুত ছিল বলে জানিয়েছেন কর্মীরা।
বুয়েটের শিক্ষার্থী শামীম বলেন, “আগে ৪–৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো, এখন প্রায় ১ ঘণ্টার মধ্যেই তেল পাওয়া যাচ্ছে।”
তালুকদার ফিলিং স্টেশনের হিসাবরক্ষক বিমল কৃষ্ণ মৃধা বলেন, ফুয়েল পাসের কারণে গ্রাহকরা একবারে বেশি তেল নিতে পারছেন, ফলে বারবার আসতে হচ্ছে না এবং ভিড়ও কমেছে।
তবে কিছু গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, ফুয়েল পাস ছাড়া নির্দিষ্ট সীমার বেশি তেল পাওয়া যাচ্ছে না, যা জরুরি প্রয়োজনে সমস্যা তৈরি করছে। অন্যদিকে পাসধারীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাচ্ছেন বলে মত দিয়েছেন অনেকে।
এদিকে সরকারি ছুটির কারণে ডিপো থেকে নতুন তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় কিছু পাম্পে মজুদ দ্রুত শেষ হয়ে যায় এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়। পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, ব্যাংক ও ডিপো খোলার পর পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হবে।