লোডশেডিংয়ে বাড়ছে হাতপাখার চাহিদা, নওগাঁয় ব্যস্ত কারিগররা

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে তালপাতার তৈরি হাতপাখার চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। স্থানীয়দের মতে, প্রতি বছর গরমের সময় এই পণ্যের চাহিদা বাড়লেও এবার লোডশেডিং পরিস্থিতির কারণে তা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
উপজেলার উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের ভালাইন গ্রাম, যা স্থানীয়ভাবে ‘পাখা গ্রাম’ নামে পরিচিত, সেখানে প্রায় ৮০টি পরিবারের ছয় শতাধিক মানুষ হাতপাখা তৈরির কাজে যুক্ত রয়েছেন। গ্রামজুড়ে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই এখন পাখা তৈরির ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে।
এই পেশায় নারী ও পুরুষ সদস্যদের আলাদা দায়িত্ব রয়েছে। নারীরা মূলত পাখা তৈরি ও সুতা দিয়ে বাঁধাইয়ের কাজ করেন, আর পুরুষরা তালের পাতা সংগ্রহ, ছাঁটাই এবং বাজারজাতকরণের দায়িত্ব পালন করেন। একজন নারী কারিগর প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১২০টি পাখা তৈরি করতে পারেন, যার মাধ্যমে দৈনিক আয় দাঁড়ায় প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা।
কারিগররা জানান, একটি পাখা তৈরি করতে গড়ে ২০ থেকে ২৫ টাকা খরচ হয়, যা তারা ৪০ থেকে ৫০ টাকায় মহাজনদের কাছে বিক্রি করেন। এসব পাখা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়, পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও এর চাহিদা রয়েছে।
তবে এই পেশার সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে পুঁজি সংকটকে উল্লেখ করছেন তারা। কারিগর মনিরা জানান, কাঁচামাল যেমন সুতা ও রং কিনতে অনেক সময় উচ্চ সুদে ঋণ নিতে হয়। তিনি সহজ শর্তে সরকারি ঋণ সহায়তার দাবি জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ বলেন, পাখা তৈরির সঙ্গে জড়িত নারীরা যোগাযোগ করলে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ঋণ ও সহায়তা প্রদান করা হবে।