মোজতবা খামেনির বিরল ভিডিও প্রকাশ, প্রথমবার শোনা গেল কণ্ঠ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির একটি বিরল ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। চলমান সংঘাতের মধ্যে এই প্রথম তার কণ্ঠ শুনতে পাওয়া গেল। ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওটিতে ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনিকে একটি ধর্মীয় একাডেমিক অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে এবং এক শিক্ষার্থীর গবেষণাপত্র মূল্যায়ন করতে দেখা গেছে।
ভিডিওতে ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থার নিরাপত্তা মডেল নিয়ে আলোচনা করতে শোনা যায় তাকে। এক শিক্ষার্থীর গবেষণাপত্র মূল্যায়ন করে তিনি ২০-এর মধ্যে ১৯ দশমিক ৫ নম্বর দেন এবং সেটিকে ‘ত্রুটিহীন’ বলে মন্তব্য করেন। তবে ভিডিওটি ঠিক কবে ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চলমান সংঘাতের প্রথম দিনে হামলায় তার বাবা নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে জনসমক্ষে তার উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত সীমিত। এ কারণে হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের খবর ও গুঞ্জন ছড়িয়েছে।
এর আগে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স সূত্রের বরাতে জানিয়েছিল, হামলায় মোজতবা খামেনি মুখমণ্ডলে গুরুতর আঘাত ও পায়ে ট্রমার শিকার হন। এপ্রিলে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি এসব আঘাত থেকে সেরে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও একসময় দাবি করেছিলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আহত হয়েছেন এবং তার চেহারায় গুরুতর ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে।
তবে ইরানি কর্মকর্তারা বরাবরই বলে আসছেন, আহত হলেও তার শারীরিক অবস্থা নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বড় বাধা সৃষ্টি করেনি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছিল, শারীরিক সমস্যার মধ্যেও মোজতবা খামেনি মানসিকভাবে সজাগ ছিলেন এবং অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিচ্ছিলেন। যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্রিয় ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সাম্প্রতিক ভিডিওতে তাকে স্বাভাবিকভাবে একটি একাডেমিক অধিবেশন পরিচালনা করতে দেখা গেলেও এটি তার বর্তমান শারীরিক অবস্থার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নয়। কারণ ভিডিওটি কখন ধারণ করা হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে তার স্বাস্থ্য নিয়ে আগের বিভিন্ন প্রতিবেদনের সঙ্গে নতুন ভিডিওটির সম্পর্কও স্পষ্ট নয়।
তবে ভিডিওটি প্রকাশের ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ দায়িত্ব নেওয়ার পর মোজতবা খামেনির জনসমক্ষে উপস্থিতি খুবই সীমিত ছিল। তার স্বাস্থ্য, নেতৃত্বের ধরন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানা প্রশ্নও রয়েছে।
এদিকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। হরমুজ প্রণালিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের সম্পর্ক জটিল হয়ে ওঠার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কণ্ঠসহ নতুন ভিডিও প্রকাশ দেশটির নেতৃত্বের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।