মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

আয়-ব্যয়ের গরমিল ধরতে এনবিআরের ডেটা বিপ্লব

আয়-ব্যয়ের গরমিল ধরতে এনবিআরের ডেটা বিপ্লব
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

বাংলাদেশে কর ফাঁকি শনাক্ত ও রাজস্ব আদায়ের প্রচলিত পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। করদাতার দেওয়া আয়কর রিটার্ন, কাগজপত্র ও কর্মকর্তাদের অনুসন্ধানের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিভিন্ন উৎসের তথ্য একত্র করে আয়, সম্পদ ও ব্যয়ের মধ্যে অসঙ্গতি খুঁজে বের করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় কোনো ব্যক্তি কত আয় দেখিয়েছেন, ব্যাংক হিসাবে কী পরিমাণ অর্থ রয়েছে, কত দামের গাড়ি কিনেছেন, জমি বা ফ্ল্যাটে কত বিনিয়োগ করেছেন, শেয়ারবাজারে কী পরিমাণ অর্থ রেখেছেন কিংবা বছরে কতবার বিদেশ ভ্রমণ করেছেন—এসব তথ্য সমন্বিতভাবে বিশ্লেষণ করা হবে। একইভাবে বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল আমদানি, উৎপাদন, বিক্রি, বাজার অংশীদারত্ব এবং প্রদত্ত কর ও ভ্যাটের তথ্যও মিলিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অর্থাৎ কর ফাঁকি শনাক্তে এনবিআরের নতুন কৌশলের মূল ভিত্তি হবে তথ্যের সমন্বয় এবং তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি শনাক্ত করা।

আয় ও জীবনযাত্রার মধ্যে মিল আছে কি না

এনবিআরের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে করদাতাদের জন্য একটি সমন্বিত প্রোফাইল তৈরির লক্ষ্য রয়েছে। এতে আয়কর রিটার্নে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে ব্যাংক লেনদেন, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার, জমি-ফ্ল্যাট কেনাবেচা, গাড়ির মালিকানা, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ, বিদেশ ভ্রমণ, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়সহ বিভিন্ন তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে।

ধরা যাক, কোনো ব্যক্তি বছরে ১২ লাখ টাকা আয় দেখিয়েছেন। কিন্তু তার ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা রয়েছে, ৫০ লাখ টাকার গাড়ি কিনেছেন এবং কোটি টাকার জমি করেছেন। পাশাপাশি নিয়মিত বিদেশ ভ্রমণও করছেন। এ ক্ষেত্রে ঘোষিত আয় ও বাস্তব আর্থিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

বর্তমানে এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করতে কর কর্মকর্তাদের আলাদাভাবে অনুসন্ধান করতে হয়। এতে সময় ও জনবল দুটিই বেশি প্রয়োজন হয়। নতুন ব্যবস্থায় প্রযুক্তি প্রথমে অস্বাভাবিক লেনদেন বা জীবনযাত্রার ধরন চিহ্নিত করবে। এরপর কর্মকর্তারা উচ্চঝুঁকির করদাতাদের বিষয়ে বিস্তারিত যাচাই করতে পারবেন।

করজালের বাইরে থাকা ব্যক্তিদেরও খুঁজবে এনবিআর

বাংলাদেশের কর প্রশাসনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো কর দেওয়ার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কর ব্যবস্থার বাইরে থাকা। আবার কারও টিআইএন থাকলেও নিয়মিত রিটার্ন জমা দেন না, কেউ রিটার্ন দিলেও কর দেন না।

এনবিআর এসব করদাতাকে আলাদা শ্রেণিতে চিহ্নিত করে একটি সক্রিয় করদাতা রেজিস্ট্রি তৈরির পরিকল্পনা করছে।

এর ফলে করদাতা খুঁজতে শুধু প্রচলিত পদ্ধতির ওপর নির্ভর করতে হবে না। একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য বিশ্লেষণ করেই তার কর ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে কি না, তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

করপোরেট প্রতিষ্ঠানের হিসাবেও বাড়ছে নজরদারি

ব্যক্তি করদাতার পাশাপাশি বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর ফাঁকি শনাক্তেও তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ রয়েছে।

একটি প্রতিষ্ঠানের টার্নওভার, ঘোষিত মুনাফা, গ্রস প্রফিট রেশিও, সুদ ব্যয়, ব্যবস্থাপনা ফি, রয়্যালটি, কমিশন, অবচয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেনসহ বিভিন্ন আর্থিক সূচক বিশ্লেষণ করা হবে।

এর সঙ্গে আমদানি করা কাঁচামালের পরিমাণ, স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত উপকরণ, উৎপাদন সক্ষমতা, বাজারে প্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্ব এবং ভ্যাট ও আয়কর রিটার্নে দেখানো বিক্রয়ের হিসাবও তুলনা করা হবে।

একই শিল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য বেঞ্চমার্ক তৈরির কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফলে একই ধরনের ব্যবসায় এক প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও বিক্রির তুলনায় কর প্রদানের পরিমাণ অস্বাভাবিক কম হলে সেটি সহজেই নজরে আসতে পারে।

প্রাথমিকভাবে সিমেন্ট, সিগারেট, খাদ্য ও পানীয় এবং এমএস পণ্যসহ কয়েকটি খাতে এ ধরনের তথ্য বিশ্লেষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কাঁচামাল থেকে বিক্রি পর্যন্ত মিলবে হিসাব

নতুন ব্যবস্থায় একটি কোম্পানি কত কাঁচামাল আমদানি করেছে এবং সেই কাঁচামাল দিয়ে আনুমানিক কত পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে—সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

যেমন, কোনো সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কত ক্লিংকার আমদানি করেছে, সেই কাঁচামাল দিয়ে কত উৎপাদন হওয়ার কথা এবং বাজারে তার বিক্রির পরিমাণ কত—এসব তথ্য মিলিয়ে দেখা যাবে।

একইভাবে সিগারেট, খাদ্য ও পানীয় কিংবা রড-ঢেউটিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও কাঁচামাল থেকে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের পুরো চিত্র বিশ্লেষণ করা হবে।

এতে শুধু কর ফাঁকি নয়, অসৎ ব্যবসায়ীদের কারণে সৃষ্ট অসম প্রতিযোগিতাও কমানো সম্ভব হতে পারে। কারণ কর ও ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে কম দামে পণ্য বিক্রি করা প্রতিষ্ঠান নিয়ম মেনে চলা ব্যবসায়ীদের তুলনায় বাড়তি সুবিধা পায়।

পুরোনো বকেয়া রাজস্বও আসছে নজরে

নতুন করদাতা শনাক্তের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের বকেয়া রাজস্ব আদায়েও গুরুত্ব দিচ্ছে এনবিআর। সংস্থাটির হিসাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছে ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব পাওনা রয়েছে।

বকেয়া আদায়ে পৃথক ইনকাম ট্যাক্স ডেট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে অখালাসকৃত ও বাজেয়াপ্ত পণ্য দ্রুত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি, বন্ড সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি এবং কর অব্যাহতির সুবিধা আরও যৌক্তিক করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ৭৭ হাজার ১৬০ কোটি টাকার কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে এনবিআরের তথ্য রয়েছে।

ধাপে ধাপে বদলাবে কর প্রশাসন

এনবিআরের পরিকল্পনায় আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই টিআইএন ডেটাবেজ পরিচ্ছন্ন ও শ্রেণিবিন্যাস, বড় বকেয়াদারদের তালিকা এবং উচ্চঝুঁকির ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করার কথা রয়েছে।

পরবর্তী সময়ে ব্যাংক হিসাব, সম্পত্তি, যানবাহন ও কোম্পানির মালিকানার তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। স্বয়ংক্রিয় আয়-সম্পদ প্রোফাইলিং এবং ইলেকট্রনিক অডিট নির্বাচনও চালু করা হবে।

এক থেকে দুই বছরের মধ্যে প্রি-ফিল্ড আয়কর রিটার্ন, ঝুঁকিভিত্তিক অডিট, ফেসলেস অ্যাসেসমেন্ট এবং স্বয়ংক্রিয় কর ফেরত ব্যবস্থার লক্ষ্য রয়েছে। আর দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে তৃতীয় পক্ষের তথ্যের পূর্ণাঙ্গ ক্রস-ম্যাচিং, ইনকাম ট্যাক্স ডেটা ওয়্যারহাউস এবং আধুনিক ডেটা অ্যানালিটিক্সভিত্তিক আইন প্রয়োগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

অডিটে কমবে কর্মকর্তার ব্যক্তিনির্ভরতা

বর্তমানে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কর হিসাব বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা হবে, সে সিদ্ধান্তে কর্মকর্তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নতুন ব্যবস্থায় বিভিন্ন ঝুঁকি সূচকের ভিত্তিতে প্রযুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অডিটের জন্য করদাতা নির্বাচন করবে।

এর সঙ্গে ফেসলেস অ্যাসেসমেন্ট ও ফেসলেস অডিট চালু হলে করদাতার সঙ্গে কর্মকর্তার সরাসরি যোগাযোগও কমে আসতে পারে। এতে হয়রানি ও অনিয়মের সুযোগ কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এর জন্য তথ্যের নির্ভুলতা ও অ্যালগরিদমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে উচ্চঝুঁকির করদাতা হিসেবে চিহ্নিত করা হলে নতুন ব্যবস্থাই হয়রানির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

উচ্চ সম্পদশালীদের জন্য আলাদা নজর

উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি বা হাই-নেট-ওয়ার্থ ব্যক্তিদের সম্পদ ও কর প্রদানের মধ্যে সামঞ্জস্য যাচাইয়ের জন্য পৃথক প্রোফাইল তৈরির পরিকল্পনা করেছে এনবিআর।

ব্যাংক লেনদেন, বিনিয়োগ, সম্পত্তি, বিদেশ ভ্রমণ, কোম্পানির মালিকানা এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করে তাদের প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে প্রদত্ত করের সামঞ্জস্য যাচাই করা হবে।

তবে এসব তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইন, তথ্যের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থপাচার শনাক্তে বিদেশেও নজর

বাণিজ্যের আড়ালে অর্থপাচার ও মিস-ইনভয়েসিং শনাক্তে প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার দেশগুলোতে কাস্টমস অ্যাটাশে নিয়োগের প্রস্তাবও দিয়েছে এনবিআর।

বাংলাদেশে কোনো পণ্য ১০০ ডলারে আমদানি দেখানো হলেও রপ্তানিকারক দেশের তথ্য অনুযায়ী তার প্রকৃত মূল্য যদি ৬০ বা ১৫০ ডলার হয়, তাহলে দুই দেশের তথ্যের মধ্যে পার্থক্যটি যাচাই করা প্রয়োজন। এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ে বিদেশে কাস্টমস অ্যাটাশে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।

কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর বড় লক্ষ্য

এনবিআরের পরিকল্পনায় দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোরও উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য রয়েছে। বর্তমানে এই হার ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। স্বল্পমেয়াদে আরও ২ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়ে মধ্যমেয়াদে ১০ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর তথ্য বিনিময়, দক্ষ জনবল, তথ্য সুরক্ষা, দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি এবং হয়রানিমুক্ত কর প্রশাসন।

এনবিআর গত অর্থবছরে ৪ লাখ ১৫ হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। চলতি অর্থবছরে সংস্থাটির রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। ফলে প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ মনে করেন, লক্ষ্য অর্জন কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। তার মতে, সাধারণ করদাতাদের অডিট করে হয়রানি না করে করের আওতার বাইরে থাকা ব্যক্তি ও বড় করদাতাদের দিকে বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন।

আসল শক্তি প্রযুক্তি নয়, তথ্যের সমন্বয়

এনবিআরের নতুন উদ্যোগগুলোকে আলাদা করে দেখলে ডেটা ওয়্যারহাউস, স্বয়ংক্রিয় প্রোফাইলিং, ঝুঁকিভিত্তিক অডিট, ফেসলেস অ্যাসেসমেন্ট কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো প্রযুক্তিগত উদ্যোগ মনে হতে পারে। কিন্তু এসবের মূল শক্তি আসলে এক জায়গায়—বিভিন্ন উৎসের তথ্য একত্র করা এবং সেই তথ্য সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করা।

ব্যাংকের কাছে রয়েছে লেনদেনের তথ্য, ভূমি অফিসের কাছে জমির তথ্য, বিআরটিএর কাছে গাড়ির তথ্য, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের তথ্য, কোম্পানি নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের কাছে মালিকানার তথ্য, কাস্টমসের কাছে আমদানি-রপ্তানির তথ্য এবং ভ্যাট প্রশাসনের কাছে ব্যবসায়িক লেনদেনের তথ্য।

এসব তথ্য এক জায়গায় এনে করদাতার ঘোষিত আয়, ব্যয় ও সম্পদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা গেলে কর ফাঁকি শনাক্ত করা অনেক সহজ হতে পারে।

তবে প্রযুক্তি নিজে কোনো জাদুর কাঠি নয়। ভুল তথ্যের ওপর তৈরি ব্যবস্থা ভুল ফল দিতে পারে। দুর্বল সাইবার নিরাপত্তা করদাতার সংবেদনশীল তথ্যকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। আবার কর্মকর্তাদের অযাচিত হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকলে ডিজিটাল ব্যবস্থাও হয়রানির নতুন মাধ্যম হতে পারে।

তাই এনবিআরের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ পরিকল্পনা ঘোষণা নয়, বরং এর বাস্তবায়ন। তথ্য যদি নির্ভুল হয়, ব্যবস্থাটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হয় এবং আইন প্রয়োগ হয় নিরপেক্ষভাবে, তাহলে তথ্যের সমন্বয়ই হয়ে উঠতে পারে কর ফাঁকি রোধে এনবিআরের সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন