মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

সহযোগিতাই সম্পর্কের ভিত্তি, নির্ভরতা নয়: ইইউ রাষ্ট্রদূত

সহযোগিতাই সম্পর্কের ভিত্তি, নির্ভরতা নয়: ইইউ রাষ্ট্রদূত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো সংকট ক্রমেই জটিল হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, পারস্পরিক আস্থা ও কার্যকর সংলাপ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) ও ফ্রেডরিখ-এবার্ট-স্টিফটুঙ (এফইএস) বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে মাইকেল মিলার বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা এবং উন্মুক্ত নাগরিক পরিসর নিশ্চিত করা গেলে দেশটি আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, একটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার অন্যতম ভিত্তি হলো আইনের শাসন। একই সঙ্গে কার্যকর আইনি কাঠামো আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্কের বিষয়ে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই পক্ষের অংশীদারত্ব এখন আরও কৌশলগত ও রাজনৈতিক সহযোগিতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

তার মতে, দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক কোনো এক পক্ষের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে না। পারস্পরিক স্বার্থ, সহযোগিতা ও অংশীদারত্বের মাধ্যমেই টেকসই সম্পর্ক তৈরি হয়।

তিনি বাণিজ্যের পাশাপাশি শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-ইইউ সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার ন্যায্য ও উন্মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও স্বচ্ছ বাণিজ্য পরিবেশ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গবেষণা সম্প্রদায়ের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আগ্রহের কথাও জানান তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রায় নয় বছর ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ মানবিক দায়িত্ব পালন করছে।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তার কথা উল্লেখ করে তিনি সংকটটির স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন মাইকেল মিলার।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে জ্বালানি নিরাপত্তা ও সবুজ রূপান্তরের লক্ষ্য অর্জনে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের একটি পরিবর্তনকালীন সময়ে তিনি দায়িত্ব নিয়ে এসেছিলেন। যেকোনো রূপান্তর ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় সময়, ধৈর্য ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারের মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে এফইএস বাংলাদেশের রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. ফেলিক্স গ্রেদেস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী এবং সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান বক্তব্য দেন।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন