মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

শিক্ষক পরিবার হত্যার রাতে বাড়িতে ছিলেন না দুই অভিযুক্ত

শিক্ষক পরিবার হত্যার রাতে বাড়িতে ছিলেন না দুই অভিযুক্ত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় (দাসপাড়া) অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস ঘটনার রাতে নিজ নিজ বাড়িতে ছিলেন না। তবে মরদেহ উদ্ধারের সময় সিদ্ধার্থকে আশপাশে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। পরে তিনি পাশের একটি বাড়িতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। অন্যদিকে মুগ্ধ দাস নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মুগ্ধ বাড়ি থেকে পালিয়ে গেলেও প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুজনই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যরাও ঘটনার রাতে তাদের নিজ বাড়িতে না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মুগ্ধ দাসের মা সেনা দাস জানান, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাবার খেয়ে মুগ্ধ নিজের কক্ষে চলে যায়। রাতের কোনো একসময় সে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। তবে কখন বেরিয়েছে, তা তিনি জানতেন না।

তিনি বলেন, শুক্রবার সকালে ছেলের ঘরে গিয়ে তাকে না পেয়ে পরে মুগ্ধ বাড়িতে ফিরলে কোথায় গিয়েছিল জানতে চান। জবাবে মুগ্ধ বল খেলতে গিয়েছিল বলে জানায়।

সেনা দাস আরও জানান, ছেলেকে নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ ছিল। মুগ্ধ মাদকাসক্ত হয়ে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় প্রায় এক মাস আগে তাকে সতর্কও করেছিলেন তিনি।

পুলিশের অভিযানের দিন মুগ্ধ বাড়িতেই ছিলেন বলে জানান তার মা। তিনি বলেন, পুলিশ গেটে এসে নক করলে দরজা খুলতে যান। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মুগ্ধ বাড়ির অন্য দিক দিয়ে পালিয়ে যায়।

অন্যদিকে সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস জানান, তার ছেলে মাঝেমধ্যে প্রতিবেশী বন্ধু ও আত্মীয়দের বাড়িতে রাত কাটাত। বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে না ফেরায় তিনি ধারণা করেছিলেন, হয়তো পরিচিত কারও বাড়িতে অবস্থান করছে।

শনিবার রাতে হত্যাকাণ্ডের মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ সিদ্ধার্থকে খুঁজতে শুরু করে। পরে তার বাবা প্রতিবেশী এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে ডেকে আনেন। সেখান থেকেই পুলিশ তাকে আটক করে।

যেভাবে আটক দুই অভিযুক্ত

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, সিদ্ধার্থের শরীরে আঁচড়ের দাগ পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি একটি ক্লিনিকে গিয়ে চিকিৎসাও নিয়েছিলেন।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে সিদ্ধার্থকে আটক করে পুলিশ। পরে মুগ্ধ দাসকে ধরতে তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে মুগ্ধ পালিয়ে গেলে তাকে ধরতে ধাওয়া শুরু হয়।

পুলিশ জানায়, এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধাওয়া করার পর তুতফার্ম এলাকা থেকে মুগ্ধকে আটক করা হয়। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন