বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • লোগো ও নথিতে বদল এলেও পোশাকে পুরোনো মনোগ্রাম: এসআরবিকে ঘিরে আস্থার সংকট ডেঙ্গুতে আরও ৭ মৃত্যু, এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৫৯৬ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন যুদ্ধের বিরুদ্ধে মার্কিন জনরায়, ট্রাম্পের জন্য সতর্কবার্তা সংসদ অধিবেশন ঘিরে ৮ নভেম্বর থেকে সংসদ ভবন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ৩৪ মুসলিম প্রার্থীর জয়, ইতিহাস গড়লেন আল-সাইয়েদ সঙ্গী খোঁজার আয়োজনে ১৬ জনকে বিনা খরচে ফিনল্যান্ডে নিচ্ছে পর্যটন সংস্থা স্ত্রীর ছবি ফেসবুকে পোস্ট, বন্ধুকে হত্যায় কুয়েতে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়বে সরকার: প্রধানমন্ত্রী বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরাতে হবে: হুমায়ুন কবির
  • যুদ্ধের বিরুদ্ধে মার্কিন জনরায়, ট্রাম্পের জন্য সতর্কবার্তা

    যুদ্ধের বিরুদ্ধে মার্কিন জনরায়, ট্রাম্পের জন্য সতর্কবার্তা
    ছবি: এআই
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির পরাজয় এবং কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়াকে শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পালাবদল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ইরান যুদ্ধ, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতা নিয়ে জনমনে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, নির্বাচনের ফল তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন। ইরান এই ফলকে নিজেদের অবস্থানের পক্ষে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছে। তবে এর চেয়েও বড় বিষয় হলো, যুদ্ধের সিদ্ধান্তের মূল্য শেষ পর্যন্ত দেশের সাধারণ মানুষকেই দিতে হয়- মার্কিন ভোটারদের রায়ে সেই বাস্তবতা আবারও সামনে এসেছে।

    নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, আমেরিকানরা যুদ্ধকে ‘না’ বলেছে। তাঁর বক্তব্যে তেহরানের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট। অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। অর্থাৎ ইরান একদিকে মার্কিন ভোটের ফলকে নিজেদের পক্ষে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে ওয়াশিংটনের নীতিগত পরিবর্তন নিয়ে এখনো আস্থাশীল নয়।

    ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এই ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত। কোনো দেশের সরকার যখন অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে হিমশিম খায়, তখন বিদেশে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত জনসমর্থন হারানোর ঝুঁকি তৈরি করে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, যুদ্ধের ব্যয় এবং জীবনযাত্রার ব্যয়- এসব বিষয় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে পররাষ্ট্রনীতির সাফল্য কেবল সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে বিচার করা যায় না; জনগণের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বস্তি ও স্থিতিশীলতাও তার গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি।

    মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর আশঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘদিনের বৈরিতা, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা ইতিমধ্যে অঞ্চলটিকে অস্থিতিশীল করে রেখেছে। নতুন সংঘাত শুরু হলে তার প্রভাব শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিশ্ব অর্থনীতিও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

    ইরানের তেহরানে ১৯৭৯ সালে মার্কিন দূতাবাস দখলের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সরকার আয়োজিত মিছিলে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী স্লোগান দুই দেশের বৈরী সম্পর্কের গভীরতাই তুলে ধরে। তবে রাজনৈতিক স্লোগান কিংবা শক্তির প্রদর্শন কোনো সংকটের স্থায়ী সমাধান দিতে পারে না। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে ইরানের ওপর চাপ বাড়ালেও দীর্ঘমেয়াদে শান্তি প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত হবে না।

    এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন- ইরানের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে একমত হওয়া আর যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নেওয়া এক বিষয় নয়। ইরানের অভ্যন্তরীণ নীতি বা আঞ্চলিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু কোনো দেশের নীতির বিরোধিতা করার অর্থ এই নয় যে তার বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতই একমাত্র পথ। কূটনীতি, আলোচনা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সমঝোতার সুযোগ তৈরি করাই দায়িত্বশীল রাষ্ট্রনীতির পরিচয়।

    মার্কিন নির্বাচনের ফল ট্রাম্প প্রশাসনকে সেই বাস্তবতা উপলব্ধি করার সুযোগ দিয়েছে। জনগণের রায়কে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফল হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে এর অন্তর্নিহিত বার্তা বুঝতে হবে। যুদ্ধের ব্যয় কমানো, জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এখন জরুরি।

    বিশ্বের মানুষ আরেকটি যুদ্ধের বিস্তার দেখতে চায় না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান- উভয় দেশেরই উচিত সংঘাতের পথ থেকে সরে এসে আলোচনার টেবিলে বসা। সামরিক শক্তি দিয়ে ভয় তৈরি করা যায়, কিন্তু স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় না। ট্রাম্পের জন্য নির্বাচনের এই ফল তাই শুধু রাজনৈতিক ধাক্কা নয়; যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তি ও কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন