ফাইনালের সমীকরণে বাংলাদেশ, এখন জয়ই প্রথম শর্ত

ত্রিদেশীয় সিরিজে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে হারের পর এখন আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি হয়ে উঠেছে ফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকার বড় পরীক্ষা। এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই বললেই চলে। তবে জয় পেলেই যে ফাইনাল নিশ্চিত হবে, তা নয়; শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে হিসাব মেলাতে হবে পয়েন্ট ও অন্যান্য সমীকরণেরও। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—চাপ সামলে নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলতে পারা।
প্রথম ম্যাচের ব্যর্থতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে একাদশে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ওপেনিং জুটিতে নতুন সমন্বয় দেখা যেতে পারে। তানজিদ হাসান তামিমের সঙ্গে ইনিংস শুরু করতে পারেন পারভেজ হোসেন ইমন। সে ক্ষেত্রে সৌম্য সরকারকে একাদশের বাইরে থাকতে হতে পারে। লিটন দাস চোটের কারণে ছিটকে যাওয়ায় তাঁর বদলি হিসেবে দলে জায়গা পেয়েছেন ইমন। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাঁকে সুযোগ দেওয়া হলে সেটি হবে নিজের সামর্থ্য প্রমাণের বড় মঞ্চ।
ব্যাটিং অর্ডারে তিন নম্বরে নাজমুল হোসেন শান্ত এবং চারে সাইফ হাসানকে দেখা যেতে পারে। অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়ের দায়িত্ব থাকবে পাঁচ নম্বরে থেকে ইনিংসের ভিত শক্ত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রানের গতি বাড়ানো। লোয়ার মিডল অর্ডারে মেহেদী হাসান মিরাজের ফেরার সম্ভাবনাও রয়েছে। তাঁর অভিজ্ঞতা ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই দলকে সহায়তা করতে পারে। এরপর থাকবেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।
বোলিং বিভাগেও পরিবর্তনের আভাস রয়েছে। রিশাদ হোসেনকে বাইরে রেখে আলিস আল ইসলামকে একাদশে নেওয়া হলে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের সুযোগ তৈরি হতে পারে। পেস আক্রমণে তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ ও মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে তিন পেসারের সমন্বয় দেখা যেতে পারে। তবে শেষ মুহূর্তে উইকেট, কন্ডিশন ও খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করেই একাদশ চূড়ান্ত করা হবে।
সম্ভাব্য একাদশে পরিবর্তনের পেছনে মূল লক্ষ্য থাকবে ব্যাটিংয়ের ভারসাম্য বাড়ানো এবং বোলিং আক্রমণকে কার্যকর করা। তবে শুধু খেলোয়াড় বদলালেই সমস্যার সমাধান হবে না। ব্যাটিংয়ে দায়িত্বশীলতা, মাঝের ওভারগুলোতে উইকেট ধরে রাখা এবং বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার সক্ষমতাই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে।
বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ: তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, নাজমুল হোসেন শান্ত, সাইফ হাসান, তাওহিদ হৃদয় (অধিনায়ক), মেহেদী হাসান মিরাজ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, আলিস আল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ ও মুস্তাফিজুর রহমান।
এই ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে তাই দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ—প্রথমত, জয় তুলে নিয়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা; দ্বিতীয়ত, ফাইনালে যাওয়ার সমীকরণ নিজেদের অনুকূলে আনার চেষ্টা। দলীয় সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও ধারাবাহিকতার অভাবই বড় উদ্বেগ। এখন প্রয়োজন পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়ন, চাপের মুহূর্তে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত এবং দল হিসেবে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া।
সম্ভাব্য একাদশে পরিবর্তন কতটা কাজে আসে, সেটি মাঠেই বোঝা যাবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—ফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে বাংলাদেশকে আজ নিজেদের সেরাটা দিতে হবে। ভুলের সুযোগ কম, আর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগটিও হাতছাড়া করা যাবে না।