বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস উদ্বোধনে বৃহস্পতিবার খুলনা যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৬৬ মারধর-ভাঙচুরের মামলায় পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাংলাদেশ-কসোভোর মধ্যে সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব দিলেন স্পিকার উপকূলীয় নিরাপত্তায় নৌবাহিনীর সঙ্গে আনসার-ভিডিপির যৌথ প্রশিক্ষণ শুরু প্রবাসীদের মেধা ও বিনিয়োগ কাজে লাগিয়ে উন্নত বাংলাদেশ গড়তে হবে: প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী চুল পড়া ও ভাঙন কমাতে মেনে চলুন ৮টি সহজ নিয়ম নিউইয়র্কের প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান ও হিজাবি নারী সিনেটর অ্যাবার কাওয়াস মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবির পেছনে ইরান যুদ্ধের প্রভাব স্বীকার করলেন ট্রাম্প ডিবিসি কার্যালয় থেকে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক
  • সাভারে শ্রমিক আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য বন্ধে কঠোর হোক রাষ্ট্র

    সাভারে শ্রমিক আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য বন্ধে কঠোর হোক রাষ্ট্র
    ছবি: এআই
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সাভারের হেমায়েতপুরে ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধি, কালো তালিকাভুক্তি বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন সহিংস রূপ নেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বুধবার সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ, পুলিশের গাড়িতে আগুন এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। শ্রমিকদের দাবির যৌক্তিকতা থাকলেও তা আদায়ের নামে সহিংসতা, ভাঙচুর কিংবা সাধারণ মানুষের চলাচল বাধাগ্রস্ত করার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।

    শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, চাকরির নিরাপত্তা এবং কালো তালিকাভুক্তির মতো বিষয়গুলো নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এই শিল্পের শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা মালিকপক্ষ এবং সরকারের দায়িত্ব। শ্রমিকদের অভিযোগ থাকলে তা গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। কিন্তু কোনো দাবি আদায়ের জন্য মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশের ওপর হামলা, গাড়িতে আগুন কিংবা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

    হেমায়েতপুরে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা বিশেষভাবে নিন্দনীয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হলে তা শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ওপর আঘাত নয়, রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগের সক্ষমতাকেও চ্যালেঞ্জ করে। একইভাবে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনগণের জানার অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাঁদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

    তবে শ্রমিকদের সামগ্রিকভাবে সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত করা ঠিক হবে না। আন্দোলনে অংশ নেওয়া প্রত্যেক শ্রমিক সহিংসতায় জড়িত- এমন ধারণা যেমন অন্যায়, তেমনি শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে উপেক্ষা করাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে। যারা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানাচ্ছেন, তাঁদের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখতে হবে। আর যারা হামলা, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর কিংবা জনদুর্ভোগ সৃষ্টির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

    এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাভার ও আশুলিয়ার মতো শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীকে পেশাদারত্ব, সতর্কতা ও সংযমের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি শ্রমিক, পথচারী, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বা নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি করা যাবে না। একই সঙ্গে সহিংসতার মুখে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

    মহাসড়ক অবরোধের কারণে শুধু শ্রমিক বা সংশ্লিষ্ট কারখানার কার্যক্রম নয়, সাধারণ যাত্রী, রোগী, পরিবহনকর্মী ও ব্যবসায়ীরাও দুর্ভোগে পড়েন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই শ্রমিকদের দাবি নিষ্পত্তিতে মালিকপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দ্রুত কার্যকর আলোচনায় বসতে হবে। প্রয়োজনে শ্রম অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মধ্যস্থতায় একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করতে হবে।

    পাশাপাশি পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং অন্যান্য সহিংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিওচিত্র, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে প্রমাণ ছাড়া দায়ী করা যাবে না। আবার অপরাধীদের রাজনৈতিক বা পেশাগত পরিচয় যা-ই হোক, তাঁদের দায়মুক্তি দেওয়ার সুযোগও থাকা উচিত নয়।

    শ্রমিকের ন্যায্য দাবি এবং জননিরাপত্তা- দুটিই রাষ্ট্রের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। একটির অজুহাতে অন্যটি উপেক্ষা করা যাবে না। মালিকপক্ষকে শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবির প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে, শ্রমিকদেরও আন্দোলনের নামে সহিংসতা থেকে বিরত থাকতে হবে। আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আইনের সীমার মধ্যে থেকে দৃঢ়ভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সাভারের ঘটনা যেন আরও বড় অস্থিরতার কারণ না হয়, সে জন্য দ্রুত সংলাপ, নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ পদক্ষেপ জরুরি। দাবি আদায়ের পথ হোক আলোচনা ও সমঝোতা; সহিংসতা ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে থাকতে হবে দৃঢ়।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন