উইন্ডোজ পিসিতে ২০২৬ সালে পেইড অ্যান্টিভাইরাস কেনা কি জরুরি?

কম্পিউটারকে ভাইরাস ও অনলাইন হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখতে একসময় আলাদা অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার কেনা ছিল প্রায় অপরিহার্য। ম্যাকাফি, এভিজি ও নর্টনের মতো সফটওয়্যার ব্যবহার করতেন অনেক উইন্ডোজ ব্যবহারকারী। তবে প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে বদলেছে নিরাপত্তাব্যবস্থাও। উইন্ডোজে এখন বিনামূল্যের বিল্ট-ইন নিরাপত্তা সুবিধা থাকায় প্রশ্ন উঠেছে, ২০২৬ সালে পিসির সুরক্ষায় আলাদা অ্যান্টিভাইরাস কিনতে আদৌ কতটা প্রয়োজন।
মাইক্রোসফটের নিজস্ব নিরাপত্তা সফটওয়্যার ‘মাইক্রোসফট ডিফেন্ডার অ্যান্টিভাইরাস’ বর্তমানে উইন্ডোজের গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষাব্যবস্থাগুলোর একটি। সময়ের সঙ্গে এর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীদের অনেকের জন্য আলাদা অ্যান্টিভাইরাস ছাড়াই কম্পিউটার সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হচ্ছে।
এভি-টেস্টের পরীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের মে-জুনে মাইক্রোসফট ডিফেন্ডারের সুরক্ষা স্কোর ছিল ৬-এর মধ্যে মাত্র ০.৫। তবে পরবর্তী সময়ে সফটওয়্যারটির উন্নয়ন হয়েছে। সরবরাহ করা তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জুলাই-আগস্টের পরীক্ষায় এটি সুরক্ষা বিভাগে পূর্ণ ৬ নম্বর পেয়েছে। বাস্তব পরিস্থিতিতে চালানো আক্রমণ এবং বহুল প্রচলিত ম্যালওয়্যার শনাক্ত করার পরীক্ষায়ও সফটওয়্যারটির সাফল্য উল্লেখযোগ্য ছিল।
উইন্ডোজ ১১-এ মাইক্রোসফট ডিফেন্ডার স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে এবং নিয়মিত নিরাপত্তা হালনাগাদ গ্রহণ করে। ফলে আলাদা কোনো সফটওয়্যার ইনস্টল না করেও ব্যবহারকারীরা প্রাথমিক অ্যান্টিভাইরাস সুরক্ষা পান। তবে কম্পিউটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু অ্যান্টিভাইরাসের ওপর নির্ভর না করে অপারেটিং সিস্টেম ও অন্যান্য সফটওয়্যার হালনাগাদ রাখাও জরুরি।
অনলাইন প্রতারণা ঠেকাতে বাড়তি সুবিধা কতটা প্রয়োজন?
বর্তমানে সাইবার ঝুঁকির মধ্যে শুধু ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার নয়, ভুয়া লগইন পেজ, ফিশিং লিংক, প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন ও ভুয়া পপ-আপও বড় সমস্যা। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন পেইড অ্যান্টিভাইরাস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যান্টি-স্ক্যাম সুরক্ষা, ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন), পাসওয়ার্ড ম্যানেজার এবং ক্লাউড ব্যাকআপের মতো সুবিধা যুক্ত করছে।
তবে এসব সুবিধার সবগুলো প্রত্যেক ব্যবহারকারীর প্রয়োজন হয় না। মাইক্রোসফট এজ ব্রাউজারের স্মার্টস্ক্রিনের মতো বিল্ট-ইন সুবিধা ক্ষতিকর ওয়েবসাইট ও সন্দেহজনক ডাউনলোড থেকে সুরক্ষায় সহায়তা করে। পাশাপাশি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড, মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন এবং সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করার অভ্যাস অনলাইন নিরাপত্তা বাড়াতে পারে।
কম্পিউটারের গতিতে প্রভাব ফেলতে পারে অ্যান্টিভাইরাস
অতিরিক্ত নিরাপত্তা সফটওয়্যার ব্যবহারের আরেকটি দিক হলো সিস্টেমের কর্মক্ষমতা। কিছু অ্যান্টিভাইরাস ব্যাকগ্রাউন্ডে চলার সময় প্রসেসর, মেমোরি ও ডিস্কের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে পূর্ণাঙ্গ স্ক্যান চলাকালে পুরোনো বা তুলনামূলক কম ক্ষমতার কম্পিউটারে এর প্রভাব বেশি বোঝা যেতে পারে।
টমস গাইডের পরীক্ষার বরাতে বলা হয়েছে, ম্যালওয়্যারবাইটস প্রিমিয়াম দিয়ে পূর্ণ স্ক্যান চালানোর সময় একটি কম্পিউটারে গেমের পারফরম্যান্স ৮৭ এফপিএস থেকে কমে ৭৫ এফপিএসে নেমে এসেছিল। তবে এ ফলাফল সব কম্পিউটার বা সব অ্যান্টিভাইরাসের ক্ষেত্রে একই হবে, এমন নয়। সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও স্ক্যানের ধরন অনুযায়ী পারফরম্যান্সের প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।
বিনামূল্যের কিছু থার্ড-পার্টি অ্যান্টিভাইরাসে পেইড সংস্করণে উন্নীত হওয়ার জন্য বারবার বিজ্ঞপ্তি দেখানো হয়। এতে ব্যবহারকারীর কাজে বিঘ্ন ঘটতে পারে। তাই কোনো সফটওয়্যার ইনস্টল করার আগে এর সুবিধা, সীমাবদ্ধতা ও অতিরিক্ত খরচ বিবেচনা করা প্রয়োজন।
কাদের জন্য পেইড অ্যান্টিভাইরাস প্রয়োজন হতে পারে?
সাধারণ ওয়েব ব্রাউজিং, ই-মেইল ব্যবহার, ভিডিও দেখা ও দৈনন্দিন কাজের জন্য উইন্ডোজের হালনাগাদ সংস্করণ এবং মাইক্রোসফট ডিফেন্ডার অনেক ব্যবহারকারীর জন্য যথেষ্ট হতে পারে। তবে যাঁরা নিয়মিত সংবেদনশীল তথ্য নিয়ে কাজ করেন, একাধিক ডিভাইস ব্যবহার করেন কিংবা বিশেষ ধরনের সাইবার ঝুঁকিতে থাকেন, তাঁদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা সুবিধা প্রয়োজন হতে পারে।
ভিপিএন, পরিচয় চুরি শনাক্তকরণ, উন্নত অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ বা একাধিক ডিভাইসের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার মতো সুবিধা দরকার হলে পেইড সিকিউরিটি স্যুট বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে কেনার আগে দেখতে হবে, সংশ্লিষ্ট সুবিধাগুলো আগে থেকেই অন্য কোনো সফটওয়্যার বা সেবার মাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে কি না।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালে উইন্ডোজ পিসি ব্যবহার করলেই আলাদা অ্যান্টিভাইরাস কিনতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সাধারণ ব্যবহারকারীরা মাইক্রোসফট ডিফেন্ডার, নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট এবং নিরাপদ অনলাইন অভ্যাসের মাধ্যমে ভালো সুরক্ষা পেতে পারেন। অন্যদিকে, বিশেষ নিরাপত্তা চাহিদা থাকলে বাড়তি সফটওয়্যার কেনা যৌক্তিক হতে পারে। অর্থাৎ, পুরোনো অভ্যাসের কারণে নয়, নিজের প্রয়োজন ও ঝুঁকি বিবেচনা করেই অ্যান্টিভাইরাসে অর্থ খরচের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।