হাড়ক্ষয় রোগের ঝুঁকি কমাতে দেশজুড়ে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান ডা. জুবাইদার

অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয় রোগ প্রতিরোধে দেশব্যাপী সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান। এ রোগ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে বছরের একটি মাসকে হাড়ক্ষয় সচেতনতা মাস হিসেবে নির্ধারণের প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বিশ্ব হাড়ক্ষয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ‘অস্টিওপোরোসিস: প্রতিরোধযোগ্য মহামারি’ শীর্ষক সেমিনারটির আয়োজন করে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, সমন্বিত উদ্যোগ, রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে হাড়ক্ষয়জনিত জটিলতা কমানো সম্ভব। এ জন্য স্বাস্থ্যসেবা খাতের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ক্যানসার চিকিৎসার সঙ্গে হাড়ক্ষয়ের সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের একটি বড় অংশ অস্টিওপোরোসিসে ভোগেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কেমোথেরাপির কারণে এ ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত উল্লেখ করে ডা. জুবাইদা বলেন, ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হাড়ক্ষয়ের অন্যতম কারণ। তাই শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি জেলা ও বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষার সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।
যেসব স্থানে হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই, সেখানে ফ্র্যাকচার রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট টুলের মাধ্যমে হাড় ভাঙার ঝুঁকি মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ডা. মোহাম্মদ আবদুল মুহিত এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।
অস্টিওপোরোসিস দিবস উদযাপন উপকমিটির আহ্বায়ক ছিলেন অধ্যাপক ডা. শেখ ফরহাদ। আয়োজক কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক ডা. মো. সিরাজুস সালেহীন।
সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে প্রশ্নোত্তর পর্ব, প্যানেল আলোচনা ও কুইজ অনুষ্ঠিত হয়। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী ও অধ্যাপক ডা. ফারুক।