অন্যের ভিডিও কেটে বানানো শর্টসের প্রচার কমাবে ইউটিউব

অন্য নির্মাতার ভিডিও কেটে বা সামান্য সম্পাদনা করে ইউটিউব শর্টসে প্রকাশ করে ভিউ ও সাবস্ক্রাইবার বাড়ানো ‘ক্লিপার’ অ্যাকাউন্টগুলোর কনটেন্টের প্রচার কমাতে রিকমেন্ডেশন ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছে ইউটিউব।
নতুন ব্যবস্থায় শর্টসের রিকমেন্ডেশন সিস্টেমে মৌলিক কনটেন্টকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। অন্য নির্মাতার ভিডিও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ছাড়াই নিয়মিত পুনরায় প্রকাশ করা চ্যানেলের ভিডিও শর্টস ফিডে তুলনামূলক কম দেখানো হতে পারে।
তবে অন্যের ভিডিও ব্যবহার করলেই কনটেন্টের প্রচার কমে যাবে না বলে জানিয়েছে ইউটিউব। ভিডিওতে নির্মাতার নিজস্ব মন্তব্য, বিশ্লেষণ, সৃজনশীল সম্পাদনা বা গল্প বলার ধরন যুক্ত করে নতুন কিছু উপস্থাপন করা হলে সেটিকে স্বতন্ত্র কনটেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।
ইউটিউবের নতুন ব্যবস্থায় শুধু ভিডিওর গতি পরিবর্তন, ক্রপ করা বা সামান্য কারিগরি সম্পাদনাকে যথেষ্ট পরিবর্তন হিসেবে দেখা হবে না। অন্যের ভিডিও ব্যবহার করলে সেটির সঙ্গে নিজস্ব বক্তব্য, তথ্য, বিশ্লেষণ বা গল্প বলার ধরন যুক্ত করে দর্শকের জন্য নতুন মূল্য তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অর্থাৎ কোনো নির্মাতা অন্যের ভিডিও ব্যবহার করলেও তাতে পর্যাপ্ত মৌলিক সংযোজন থাকতে হবে, যাতে সেটি শুধু মূল ভিডিওর পুনঃপ্রকাশ না হয়ে স্বতন্ত্র উপস্থাপনায় পরিণত হয়।
তবে দীর্ঘ ভিডিও থেকে তৈরি শর্টসের ক্ষেত্রে নতুন ব্যবস্থাটি কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে কিছু বিষয় এখনও স্পষ্ট নয়। অনেক নির্মাতা নিজেদের পডকাস্ট, সাক্ষাৎকার বা দীর্ঘ ভিডিওর গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে শর্টস তৈরি করেন। ইউটিউবের ঘোষণায় নিজেদের কনটেন্ট থেকে তৈরি এমন শর্টসকে আলাদাভাবে কম প্রচারের কথা বলা হয়নি।
শর্টস কনটেন্টে মৌলিকতার ওপর ইউটিউবের গুরুত্ব অবশ্য নতুন নয়। প্ল্যাটফর্মটির স্প্যাম নীতিতে অন্যের ভিডিওতে নিজস্ব মন্তব্য, তথ্য বা স্বতন্ত্র সম্পাদনা যুক্ত না করে পুনরায় প্রকাশ করা কনটেন্টকে অননুমোদিত পুনর্ব্যবহৃত কনটেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
গত ১ অক্টোবর থেকে নতুন রিকমেন্ডেশন ব্যবস্থা চালু করেছে ইউটিউব। এর ফলে শর্টস নির্মাতাদের কনটেন্ট তৈরির কৌশলেও পরিবর্তন আসতে পারে। দ্রুত ভিউ পাওয়ার জন্য অন্যের জনপ্রিয় ভিডিওনির্ভর কনটেন্ট তৈরির পরিবর্তে নিজস্ব ধারণা, বক্তব্য ও উপস্থাপনায় গুরুত্ব দিতে হবে নির্মাতাদের।
নতুন ব্যবস্থায় শর্টস ফিডে শুধু কতসংখ্যক ভিডিও প্রকাশ করা হচ্ছে, সেটি নয়; কনটেন্টের স্বাতন্ত্র্য এবং দর্শকের জন্য নতুন কী মূল্য তৈরি করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।