নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে নির্বাচনী ব্যয় কমানোর তাগিদ

রাজনীতি ও নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে নির্বাচনী ব্যয় কমানো, রাষ্ট্রীয় অর্থায়ন এবং নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মুহম্মদ সানাউল্লাহ। রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬-এর দ্বিতীয় দিনের একটি অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
সানাউল্লাহ বলেন, সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৯৯১ সালের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চসংখ্যক নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তবে প্রার্থীর সংখ্যা বাড়লেও তাদের জয়ী হওয়ার হার তুলনামূলকভাবে কম ছিল। অর্থনৈতিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এবং প্রয়োজনীয় সম্পদে প্রবেশাধিকারের ঘাটতি নারী প্রার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, বর্তমানে জাতীয় সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব প্রায় ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ। এ হার আঞ্চলিক গড়ের তুলনায় কিছুটা বেশি। পাশাপাশি নির্বাচনে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণও সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি। আগের তুলনায় সামাজিক ও ধর্মীয় বাধাও কিছুটা কমেছে বলে জানান সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণকে শুধু নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। ভোটার হিসেবে অংশগ্রহণের পাশাপাশি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ, নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন, রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব এবং নাগরিক সমাজ ও তৃণমূল সংগঠনে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগও বাড়াতে হবে।
নারী প্রার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্ব দেন নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধিতে সহিংসতা ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধে বিভিন্ন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এসব ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে নারী প্রার্থীদের জন্য নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।