দেশের সব প্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত অবস্থায় আছে: শফিকুর রহমান

দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাসহ প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই বিধ্বস্ত অবস্থায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর মধুবাগ খেলার মাঠে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে ‘৪–১০ অক্টোবর দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সপ্তাহ’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “দেশ আমাদের সবার। আমরা বিরোধী দলে থাকলেও দায়িত্বহীন নই। আমাদেরও দায়িত্ব আছে।”
দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু স্বাস্থ্যব্যবস্থা নয়, ব্যাংক, বিমা, করপোরেশন ও শেয়ারবাজারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও সংকটের মধ্যে রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, রাজধানীতে দিনের পাশাপাশি রাতেও বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ঘটনা ঘটছে। রাজধানী যেহেতু সরকারের কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক অবস্থান, সেখানকার পরিস্থিতি দিয়ে সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।
বিমানবন্দরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভোগান্তি ও অনিয়মের প্রতিবাদ করায় আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি দাবি করেন, ওমরাহ শেষে দেশে ফেরার সময় আখতারুজ্জামান ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের জমজমের পানি নিয়ে বিমানবন্দরে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও তাদের পানি ফেরত না দেওয়ায় তিনি প্রতিবাদ করেন বলে উল্লেখ করেন জামায়াত আমির।
শফিকুর রহমানের ভাষ্য, এ ঘটনায় আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা করা হয়েছে এবং তাকে একজনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তিনি কারও গায়ে হাত তোলেননি বলে দাবি করেন জামায়াত আমির।
আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের পর তাকে হাতকড়া ও হেলমেট পরানোরও সমালোচনা করেন তিনি। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে এভাবে অপমান করা হয়েছে দাবি করে ঘটনার নিন্দা জানান শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, আখতারুজ্জামান এখন শুধু জামায়াতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন ব্যক্তি নন, বরং ভুক্তভোগী ও নির্যাতিত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছেন।
এর আগে আখতারুজ্জামানের সঙ্গে নিজের ফোনালাপের কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, মামলা হওয়ার পর তিনি জামায়াতের পক্ষ থেকে আগাম জামিন নেওয়ার বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন। তখন আখতারুজ্জামান তাকে বলেছিলেন, তিনি অন্যায় করেননি এবং নিজে আত্মসমর্পণ না করে গ্রেপ্তার হতে চান।
শফিকুর রহমান বলেন, “মানুষ হিসেবে আমরা কেউ ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নই। আমাদের এবং উনার কোনো ভুলত্রুটি থাকলে আল্লাহ তাও ক্ষমা করে দিন।”
রাজধানীর একটি মেডিকেল সেন্টারে হামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরে সরকারকে সতর্ক করেন তিনি। তার অভিযোগ, সেখানে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নষ্ট করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডেঙ্গু ও হামের প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ডেঙ্গুর পাশাপাশি হামের কারণেও অনেক পরিবার স্বজন হারিয়েছে। সংসদে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হলে সমস্যার ব্যাপকতা যথাযথভাবে তুলে ধরা হয় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ডেঙ্গুর টিকার প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, বিশ্বে ডেঙ্গুর টিকা রয়েছে। সরকারিভাবে টিকা আমদানির সুযোগ না থাকলে বেসরকারি খাতের মাধ্যমে তা আনার সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, “আমরা কি দেখে বসে থাকব? জামায়াতে ইসলামী বসে থাকার সংগঠন নয়। দেশে যখনই কোনো দুর্যোগ এসেছে, আমরা আমাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি।”
ডেঙ্গুকে মহামারির মতো পরিস্থিতি হিসেবে দেখছে জামায়াত উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু লিফলেট বিতরণ নয়, জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখার লক্ষ্যেই সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী হিসেবে যাকে সমর্থন দেওয়া হচ্ছে, তিনি ইতোমধ্যে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছেন বলেও জানান শফিকুর রহমান। বিভিন্ন খাল, বদ্ধ নালা ও মশার প্রজননস্থল পরিষ্কারে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ডেঙ্গু আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, চিকিৎসাসেবায় কোনো রোগী যাতে অবহেলার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হলে সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা করা হবে, অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি মোকাবিলা করা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ও মহানগর জামায়াতে ইসলামীর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।