সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • সাত শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলবে না: ইরান মুস্তাফিজের এমন বোলিং অপ্রত্যাশিত, মোসাদ্দেককে ব্যবহার করা উচিত ছিল: সুজন পুলিশে বড় রদবদল, ডিআইজি-এসপি পদমর্যাদার ২৪ কর্মকর্তার নতুন দায়িত্ব ১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ল ২৫২ টাকা ডেঙ্গু ও হাম উপসর্গে ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩ হাজার ৩০৭ নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে নির্বাচনী ব্যয় কমানোর তাগিদ জয়শঙ্করের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ দিল্লিতে রিয়াজ হামিদুল্লাহর বাংলাদেশের ৯২% পণ্যে যুক্তরাজ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা বহাল থাকবে: সারাহ কুক টোকিওতে বাড়ছে যৌন পর্যটনের অভিযোগ, উদ্বেগে জাপান ভার্চুয়াল যোগাযোগেই কি ভাঙছে দাম্পত্যের বিশ্বাস?
  • ভার্চুয়াল যোগাযোগেই কি ভাঙছে দাম্পত্যের বিশ্বাস?

    ভার্চুয়াল যোগাযোগেই কি ভাঙছে দাম্পত্যের বিশ্বাস?
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। কর্মব্যস্ত জীবনে অনেক দম্পতিকে কাজের প্রয়োজনে ভিন্ন শহরে থাকতে হয়। ফলে সামনাসামনি কথা বলার সুযোগ কমে গেলে ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মই হয়ে ওঠে যোগাযোগের অন্যতম ভরসা। তবে এই ভার্চুয়াল যোগাযোগই কখনো কখনো দাম্পত্য জীবনে তৈরি করছে টানাপোড়েন।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত আসক্তি, সন্দেহ, ভুল বোঝাবুঝি কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্ক দাম্পত্য সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ডিজিটাল মাধ্যমে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা বা পুরোনো স্মৃতি দীর্ঘদিন সংরক্ষিত থাকায় সম্পর্কের পুরোনো ক্ষতও নতুন করে সামনে আসতে পারে।

    এক আইনজীবীর ভাষ্য, এখন ডিজিটাল মাধ্যমে কোনো কিছুই পুরোপুরি হারিয়ে যায় না। রাগের মাথায় পাঠানো একটি বার্তা বহু বছর পরও খুঁজে পাওয়া সম্ভব। একইভাবে অনেক আগে প্রকাশ করা কোনো ছবি হঠাৎ সামনে চলে আসতে পারে। এতে পুরোনো কোনো ঘটনা বা কষ্টের স্মৃতি আবারও মনে পড়ে যেতে পারে।

    তিনি বলেন, আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো বিষয়ে তর্ক হলে অনেক সময় সেটি আলোচনার মধ্যেই মিটে যেত। কিন্তু বর্তমানে পুরোনো মেসেজ, ছবি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট সংরক্ষিত থাকায় কোনো ঘটনার রেশ দীর্ঘদিন ধরে টিকে থাকতে পারে।

    এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের জীবনের সাজানো ও বাছাই করা মুহূর্ত নিয়মিত দেখার কারণেও দাম্পত্য সম্পর্কে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। মানুষ নিজের বাস্তব জীবনের সঙ্গে অন্যের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জীবনযাত্রার তুলনা করতে গিয়ে হতাশ বা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠতে পারেন।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবির আড়ালে বাস্তবে কী ঘটছে, তা না জেনেই অনেক দম্পতি নিজেদের সম্পর্কের সঙ্গে অন্যদের সম্পর্কের তুলনা শুরু করেন। এর ফলে নিজের দাম্পত্য জীবন নিয়ে অযৌক্তিক প্রত্যাশা ও হতাশা তৈরি হতে পারে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুলসংখ্যক মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের বিষয়টিও অনেক সময় দাম্পত্য সম্পর্কে সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কার সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে, কেন কথা বলা হচ্ছে বা কোনো যোগাযোগের বিষয়টি কেন গোপন রাখা হচ্ছে—এসব প্রশ্ন থেকে তৈরি হতে পারে অবিশ্বাস।

    এক পর্যায়ে এই সন্দেহ ও ভুল বোঝাবুঝি সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব বাড়িয়ে দিতে পারে। এমনকি দীর্ঘদিনের একটি স্থিতিশীল সম্পর্কেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিজে দাম্পত্য ভাঙনের একমাত্র কারণ নয়। এর ব্যবহার কীভাবে হচ্ছে, পারস্পরিক আস্থা ও যোগাযোগ কতটা রয়েছে এবং কোনো সমস্যা তৈরি হলে দম্পতি কীভাবে তা সমাধান করছেন—এসব বিষয়ও সম্পর্কের স্থায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ভার্চুয়াল যোগাযোগের পাশাপাশি পারস্পরিক বিশ্বাস, খোলামেলা আলোচনা ও বাস্তব জীবনে একে অপরকে সময় দেওয়াই দাম্পত্য সম্পর্ক সুস্থ রাখার অন্যতম উপায়।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ