১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ল ২৫২ টাকা

ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম আবারও বেড়েছে। এবার প্রতি কেজিতে ২১ টাকা ৪ পয়সা বাড়িয়ে এলপিজির নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫৩ টাকা ৬ পয়সা। ফলে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা হয়েছে। এর আগে এই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা।
রোববার (৪ অক্টোবর) নতুন এ দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দর সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে।
এর আগে গত মাসে ১২ কেজি এলপিজির দাম ১৩ টাকা কমানো হয়েছিল। তবে গত দুই মাস ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দামে ওঠানামার পর চলতি মাসে বড় ধরনের বৃদ্ধি ঘটেছে।
বিইআরসি জানিয়েছে, বিভিন্ন ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এখন থেকে প্রতি কেজি ১৫৩ টাকা ৬ পয়সা দরের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। এর আগে প্রতি কেজি এলপিজির নির্ধারিত দাম ছিল ১৩২ টাকা ১২ পয়সা।
তবে বাজারে নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি না হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গত তিন সপ্তাহ ধরে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা।
বিইআরসি প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে। গ্যাসের সরবরাহ সংকটের কারণে অনেক পরিবার রান্নার কাজে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় ১২ কেজির সিলিন্ডারের চাহিদাও বেড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। গত এপ্রিল মাসে দেশে এলপিজির দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা যায়। ওই মাসের শুরুতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩৮৭ টাকা বাড়ানো হয়। পরে ১৯ এপ্রিল আরও ২১২ টাকা বাড়ানো হয়। তবে জুন ও জুলাইয়ে টানা দুই মাস দাম কমানো হয়েছিল।
সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম অবশ্য অপরিবর্তিত রয়েছে। এ সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা। অন্যদিকে যানবাহনে ব্যবহৃত এলপিজি বা অটো গ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে এর দাম ছিল ৭৩ টাকা ৯ পয়সা।
২০২১ সালের এপ্রিল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশে এলপিজির মূল্য নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। এলপিজির প্রধান উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। প্রতি মাসে এসব উপাদানের আন্তর্জাতিক মূল্য প্রকাশ করে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো। এই মূল্য ‘সৌদি কার্গো মূল্য’ বা সিপি নামে পরিচিত।
সৌদি আরামকোর ঘোষিত সিপিকে ভিত্তি ধরে দেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর চালান বা ইনভয়েস মূল্য বিবেচনায় নিয়ে পুরো মাসের জন্য ডলারের গড় মূল্য হিসাব করেও এলপিজির দাম নির্ধারণ করে কমিশন।