বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj

এআই ব্যবহারের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব দিচ্ছে চীন

এআই ব্যবহারের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব দিচ্ছে চীন
প্রতীকী ছবি
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি এর ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ ও নীতিগত কাঠামো শক্তিশালী করার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে চীন। প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে ব্যবহারিক প্রয়োগ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে দেশটির নতুন এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার চীনা ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক ইনফরমেশন কেন্দ্রের নীতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছরে জেনারেটিভ এআই নিয়ে চীনের নীতিমালায় বেশ কিছু পরিবর্তন ও পরিমার্জন আনা হয়েছে। লেখা, ছবি, সংগীত ও ভিডিওসহ বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরি করতে সক্ষম এআই প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন বাড়ছে, তেমনি এর সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় বিভাগের প্রধান ওয়াং চাংছিং এআইয়ের উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, চীনে এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় ২০২৫ সালের জুন থেকে দেশটির কর্তৃপক্ষ এআই-সংক্রান্ত প্রায় ২০টি বিধিবিধান প্রণয়ন করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত চীনে জেনারেটিভ এআই ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭০ কোটি ছাড়িয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় এ সংখ্যা বেড়েছে ৯ কোটি ৮০ লাখ। দেশটির মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর প্রায় ৭৬ শতাংশ বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর পেতে এআই ব্যবহার করছেন। এ ছাড়া ছবি, ভিডিও ও লেখা প্রক্রিয়াকরণ এবং সভার সারসংক্ষেপ তৈরিতেও প্রযুক্তিটির ব্যবহার রয়েছে।

চীনে এআই লার্জ মডেল, এআই এজেন্ট, রোবোটিকস ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও ১০ হাজার ৭৪০টিতে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কৃষি, শিল্প উৎপাদন, প্রোগ্রামিং, অফিস ব্যবস্থাপনা, এমবডিড ইন্টেলিজেন্স ও বৈজ্ঞানিক গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসব প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে।

ওয়াং চাংছিং বলেন, বিভিন্ন খাতে এআই প্রযুক্তি যুক্ত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনসহ একাধিক কর্তৃপক্ষ নির্দেশিকা তৈরি করেছে। শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ও এআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থার সমন্বয় নিয়ে নির্দেশিকা জারি করেছে। এর মাধ্যমে এআই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিবেদনে এআই খাতে কার্যকর নজরদারি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দায়িত্ব আরও স্পষ্ট করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে। বিশেষ করে এআইয়ের উন্নয়নকারী, পরিচালনাকারী ও ব্যবহারকারীদের দায়িত্ব নির্ধারণ করে একটি সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া এআই দিয়ে তৈরি ডিপফেকের মতো প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং শিশুদের ক্ষতিকর এআই-নির্মিত কনটেন্ট থেকে সুরক্ষায় কার্যকর নীতিমালা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।


সূত্র: সিএমজি
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন