পাকিস্তানের কাছে হেরে ফাইনাল হাতছাড়া বাংলাদেশের

এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের প্রথম সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরে ফাইনালে ওঠার সুযোগ হারিয়েছে বাংলাদেশ। ১৩ ওভারে বাংলাদেশের দেওয়া ১১২ রানের লক্ষ্য ৯ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় পাকিস্তান। ফলে স্বর্ণপদকের লড়াই থেকে ছিটকে গিয়ে এখন ব্রোঞ্জের জন্য খেলতে হবে লিটন দাসের দলকে।
নাগোয়ার নিশিন করোগি স্পোর্টস পার্কের ধীরগতির উইকেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে শুরুতে ম্যাচটি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। প্রথম তিন ওভারে পাকিস্তান ২ উইকেট হারিয়ে মাত্র ২০ রান করেছিল। কিন্তু মুস্তাফিজুর রহমানের দুই ওভার ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে দেয়।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে মুস্তাফিজকে আক্রমণে আনেন অধিনায়ক লিটন দাস। প্রথম দুই বলেই সাইম আইয়ুব ছক্কা হাঁকান। ওভারের শেষ বলে মুস্তাফিজ আইয়ুবকে ফিরিয়ে দিলেও ওই ওভারে আসে ১৮ রান।
এরপর দশম ওভারে আবার মুস্তাফিজের হাতে বল তুলে দেওয়া হয়। সেই ওভারে আব্দুল সামাদকে সামলাতে পারেননি তিনি। দ্বিতীয় বলে ছক্কা এবং পরের চার বলে টানা চার হাঁকিয়ে ওভার থেকে ২৩ রান তুলে নেন সামাদ। দুই ওভারে মুস্তাফিজের খরচ দাঁড়ায় ৪১ রান।
ওই ওভারের পর পাকিস্তানের প্রয়োজন নেমে আসে মাত্র ১৩ রানে। শেষ পর্যন্ত ১১.৩ ওভারেই ১১২ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে তারা। আব্দুল সামাদ ১৫ বলে ৩০ রান করে অপরাজিত থাকেন। সাইম আইয়ুব করেন ১২ বলে ২১ রান। নাসান নেওয়াজের ব্যাট থেকে আসে ২২ বলে ২৭ রান।
এর আগে বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের সোয়া এক ঘণ্টা পর শুরু হওয়া ম্যাচটি ১৩ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ১১১ রান সংগ্রহ করে।
পাওয়ার প্লের চার ওভারেই বাংলাদেশ হারায় তিন উইকেট। ৬.৩ ওভারে দলের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ৪৫ রান। এরপর তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত জুটি গড়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের ব্যাটে ৪৩ রান যোগ হলেও অল্প ব্যবধানে দুজনের বিদায়ে আবার চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
তাওহীদ হৃদয় ২৫ বলে ৪২ রান করে বাংলাদেশের ইনিংসের সর্বোচ্চ সংগ্রাহক। সাইফ হাসান ও মোসাদ্দেক ছাড়া আর কেউ দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি। অধিনায়ক লিটন দাস ৩ বলে মাত্র ২ রান করে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে বোল্ড হন।
পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে সুফিয়ান মুকিম ৩ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। সাইম আইয়ুব ২ ওভারে মাত্র ৩ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটারদের রান তোলার গতি আটকে রাখেন। যদিও পাকিস্তান অতিরিক্ত হিসেবে ১৫টি ওয়াইড দিয়েছে।
ধীরগতির উইকেট ও দীর্ঘ সময় বৃষ্টির কারণে কাভারের নিচে থাকা আউটফিল্ডে রান নেওয়াও কঠিন ছিল। বাংলাদেশ চার স্পিনার নিয়ে মাঠে নামলেও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে বোলিংয়ে ব্যবহার করা হয়নি। নাসুম আহমেদ ৩ ওভারে ৩৩ রান দেন।
এশিয়ান গেমসের এই আসরে পাকিস্তান পূর্ণশক্তির দল না পাঠালেও বাংলাদেশের জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা বড় লক্ষ্য দাঁড় করাতে পারেননি। ব্যাটিংয়ে ধীরগতি এবং বোলিংয়ে কার্যকর প্রতিরোধের অভাব শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দেয়।
দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দলের বিপক্ষে ফাইনাল খেলবে পাকিস্তান। আর পরাজিত দলের বিপক্ষে ৩ অক্টোবর ব্রোঞ্জ পদকের জন্য মাঠে নামবে বাংলাদেশ।