শুধু ইবাদত করলেই কি কবুল হয়? জেনে নিন আমল কবুলের শর্ত

আল্লাহ তাআলা জিন ও মানুষকে তাঁর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি জিন ও মানুষকে শুধু আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।’ তাই একজন মুমিনের জীবনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত আল্লাহর আনুগত্য করা এবং তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা।
তবে শুধু ইবাদত করলেই তা আল্লাহর দরবারে কবুল হবে—বিষয়টি এমন নয়। ইবাদত ও আমল কবুল হওয়ার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। সেগুলো সম্পর্কে জানা এবং নিজের আমলে তা বাস্তবায়ন করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জরুরি।
শুধু আল্লাহর ইবাদত করা
আমল কবুলের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো আল্লাহকে একমাত্র উপাস্য হিসেবে মেনে নেওয়া এবং ইবাদতের ক্ষেত্রে তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক না করা। আল্লাহ তাঁর সত্তা, গুণাবলি ও ইবাদতের ক্ষেত্রে একক। তাই নামাজ, রোজা, দোয়া, কোরবানি, মানতসহ সব ধরনের ইবাদত শুধু তাঁর সন্তুষ্টির জন্যই করতে হবে।
ইবাদতে থাকতে হবে ইখলাস
ইবাদত কবুলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো ইখলাস বা একনিষ্ঠতা। কোনো আমল আল্লাহর সন্তুষ্টির পরিবর্তে মানুষের প্রশংসা, পরিচিতি কিংবা দুনিয়াবি লাভের উদ্দেশ্যে করা হলে তার প্রকৃত মূল্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
মহান আল্লাহ বলেন, ‘তাদের তো এ ছাড়া কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি যে, তারা একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে।’
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই সব আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিয়ত অনুযায়ী ফল পাবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)
অর্থাৎ আমলের বাহ্যিক রূপের পাশাপাশি নিয়তও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করা আমলই কবুলের উপযোগী হয়।
লোকদেখানো আমল থেকে বাঁচতে হবে
রিয়া বা লোকদেখানো ইবাদত একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য দান করা, নামাজ পড়া, কোরআন তিলাওয়াত করা কিংবা অন্য কোনো নেক আমল করা উচিত নয়।
আল্লাহ তাআলা সতর্ক করে বলেছেন, খোঁটা ও কষ্ট দিয়ে দান-খয়রাত নষ্ট করে দিতে নেই। লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে সম্পদ ব্যয়কারীর আমল এমন পাথরের মতো, যার ওপর সামান্য মাটি ছিল; প্রবল বৃষ্টিতে সেই মাটি ধুয়ে যায়। ফলে তার আমলের কোনো ফল অবশিষ্ট থাকে না।
হাদিসেও লোকদেখানো আমলকারীদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ‘জুব্বুল হাযন’ নামের জাহান্নামের একটি উপত্যকা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে বলেছেন। তিনি জানান, এটি এমন এক উপত্যকা, যেখান থেকে জাহান্নামও প্রতিদিন বহুবার আশ্রয় চায়। (সুনানে ইবনে মাজা)
হালাল ও পবিত্র খাবার গ্রহণ
আমল কবুল হওয়ার সঙ্গে মানুষের উপার্জন ও খাদ্যেরও সম্পর্ক রয়েছে। হারাম উপার্জন ও হারাম খাদ্য থেকে বেঁচে থাকা তাই অত্যন্ত জরুরি।
মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে রাসুলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু থেকে আহার করো এবং সৎকাজ করো। নিশ্চয়ই তোমরা যা করো সে সম্পর্কে আমি সম্যক অবগত।’
এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, পবিত্র ও হালাল খাদ্য গ্রহণের পাশাপাশি সৎকাজ করাও মুমিনের দায়িত্ব।
রাসুলের সুন্নাহ অনুসরণ
ইবাদত অবশ্যই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দেখানো পদ্ধতি অনুযায়ী করতে হবে। নিজের ইচ্ছামতো ইবাদতের পদ্ধতি তৈরি করার সুযোগ নেই।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা আমাকে যেভাবে নামাজ পড়তে দেখেছ, সেভাবেই নামাজ পড়ো।’ হজের ক্ষেত্রেও তিনি সাহাবিদের বলেছেন, ‘তোমরা আমার কাছ থেকে তোমাদের হজের নিয়মাবলি শিখে নাও।’
তাই ইবাদতের ক্ষেত্রে কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সব ইবাদত একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য করার, নিয়তকে বিশুদ্ধ রাখার, রিয়া থেকে বেঁচে থাকার, হালাল রিজিক গ্রহণের এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন।
মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তাদের আতিথেয়তার জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফিরদাউস। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে এবং সেখান থেকে স্থান পরিবর্তন করতে চাইবে না।’
আল্লাহ তাআলা আমাদের এবং সব মুসলমানকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন। আমিন।