‘শামীম আকতারের দুর্নীতি’ প্রতিবেদন নিয়ে প্রতিবাদ, তথ্য সংশোধনের দাবি

দৈনিক নতুন কাগজের অনলাইন সংস্করণে গত ৩১ আগস্ট প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি কর্মকর্তা শামীম আকতারের দুর্নীতি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্যকে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও বাস্তবতার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উপপরিচালক এস. এম. শামীম আকতার। একই সঙ্গে প্রতিবেদনটি অপসারণ করে তার প্রতিবাদলিপি যথাযথ গুরুত্বসহ প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দৈনিক নতুন কাগজের সম্পাদক বরাবর পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে এসব কথা জানান শামীম আকতার।
প্রতিবাদলিপিতে শামীম আকতার দাবি করেন, প্রতিবেদনে রাজশাহীর যে ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি ২০০৯ সালে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এক কর্মচারীর করা আবেদনসংক্রান্ত বিষয়। তার দাবি, তদন্তে ওই অভিযোগের কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি এবং এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। ফলে তার বিরুদ্ধে কোনো বরখাস্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতিবাদলিপিতে তিনি আরও দাবি করেন, ২০১৭ সালে রাজশাহী থেকে সংযুক্ত করে তাকে পুনরায় পদায়নের যে তথ্য প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে, সেটিও সঠিক নয় এবং এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।
সংবাদ প্রকাশের আগে তার বক্তব্য পূর্ণাঙ্গভাবে নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন শামীম আকতার। তার দাবি, প্রতিবেদকের নিজস্ব ব্যাখ্যাকে তার বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেও প্রতিবেদকের কাছ থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করেন তিনি।
হাজিরা-সংক্রান্ত বিষয়টিকেও পুরোনো ও কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া একটি দাপ্তরিক বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। তার ভাষ্য, এ বিষয়টি নতুন অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর।
নিজের সম্পত্তি ও আর্থিক সামর্থ্য নিয়ে প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্যেরও প্রতিবাদ জানিয়েছেন শামীম আকতার। তিনি দাবি করেন, এসব তথ্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তার আয়কর নথি পর্যালোচনা করলেই প্রকৃত তথ্য জানা যাবে।
এ ছাড়া এক নারী কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি। প্রতিবাদলিপিতে তার দাবি, এ অভিযোগের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর পরিচয়, সময় বা ঘটনার সুনির্দিষ্ট কোনো প্রেক্ষাপট উল্লেখ করা হয়নি এবং তার সঙ্গে এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ‘খোলস বদলের চেষ্টা’ সংক্রান্ত প্রতিবেদনের বক্তব্যেরও প্রতিবাদ জানিয়েছেন শামীম আকতার। তিনি দাবি করেন, বিগত সরকারের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে সরকারি নথিতে তার পরিচয় রয়েছে এবং জুলাই আন্দোলনে তার ভূমিকার প্রমাণও সংরক্ষিত আছে। তাই তাকে নতুন করে ‘খোলস বদলের চেষ্টা’কারী হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তিনি।
প্রতিবেদনে তার পারিবারিক বিষয়ে সাবেক ডিবি কর্মকর্তা হারুন অর রশীদের সহযোগিতা নেওয়ার যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটিও অস্বীকার করেছেন শামীম আকতার। এ বিষয়ে কোনো ঘটনা বা প্রয়োজন তার হয়নি এবং প্রতিবেদনে এ দাবির পক্ষে কোনো নথি বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি বলে প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করেন তিনি।
এ ছাড়া প্রতিবেদনে তার স্থায়ী ঠিকানা সম্পর্কেও ভুল তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি করেন শামীম আকতার। তার ভাষ্য, জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট ও টিআইএনসহ সরকারি নথিতে তার স্থায়ী ঠিকানা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
প্রতিবাদলিপির শেষাংশে তিনি দৈনিক নতুন কাগজ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদনটি পুনর্বিবেচনা ও অপসারণের পাশাপাশি তার প্রতিবাদলিপি অনলাইন ও অফলাইন উভয় সংস্করণে যথাযথ গুরুত্বসহ প্রকাশের অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে তার বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সরকারি নথি ও তার বক্তব্য যথাযথভাবে যাচাই করার আহ্বান জানান তিনি।