সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

একজন সাক্ষী থাকলে কি ইসলামে বিয়ে বৈধ হবে?

একজন সাক্ষী থাকলে কি ইসলামে বিয়ে বৈধ হবে?
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

প্রশ্ন: পাত্র-পাত্রী ও কাজি ছাড়া যদি বিয়ের সময় মাত্র একজন সাক্ষী উপস্থিত থাকেন, তাহলে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী সেই বিয়ে কি বৈধ হবে?

উত্তর: ইসলামী শরিয়তে বিয়ের আকদ সম্পন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে সাক্ষী থাকা গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। প্রচলিত ফিকহের মতে, পাত্র-পাত্রী ছাড়া কমপক্ষে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ সাক্ষী অথবা একজন পুরুষ ও দুজন নারী সাক্ষী উপস্থিত থাকা প্রয়োজন।

তবে বিয়ে পড়ানোর দায়িত্বে থাকা কাজি বা ব্যক্তি নিজেও সাক্ষী হিসেবে গণ্য হতে পারেন। ফলে বিয়ের আকদের সময় কাজি এবং পাত্র-পাত্রী ছাড়া আরও একজন উপযুক্ত পুরুষ সাক্ষী উপস্থিত থাকলে, কাজি নিজে সাক্ষী হিসেবে থাকায় মোট দুজন পুরুষ সাক্ষীর উপস্থিতি পূরণ হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে শুধু একজন সাক্ষী থাকলেই বিয়ে শুদ্ধ হয়ে যাবে—এমনটি সাধারণভাবে বলা ঠিক নয়। বিয়ের আকদের সময় শরিয়তসম্মত সংখ্যক সাক্ষীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি।

নির্দিষ্ট সাক্ষী বানানো কি জরুরি?

বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত দুজন ব্যক্তিকে আলাদাভাবে ‘সাক্ষী’ হিসেবে ঘোষণা করা বাধ্যতামূলক নয়। অনেক মানুষের উপস্থিতিতে যদি বিয়ের ইজাব-কবুল সম্পন্ন হয় এবং সেখানে সাক্ষী হওয়ার যোগ্য ব্যক্তিরা ইজাব ও কবুল শুনতে পান, তাহলে তারা সাক্ষী হিসেবে গণ্য হতে পারেন।

ইজাব ও কবুল কী?

বিয়ের আকদের মূল বিষয় হলো ইজাব ও কবুল। এক পক্ষ বিয়ের প্রস্তাব দেবেন এবং অপর পক্ষ তা গ্রহণ করবেন। সাধারণত কনেপক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং বর তা কবুল করেন।

কনের অভিভাবক তার সম্মতি নিয়ে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বিয়ের প্রস্তাব দিতে পারেন। এরপর বর তা গ্রহণ করলে বিয়ের আকদ সম্পন্ন হয়।

বিয়ের সময় কনের উপস্থিতি কি জরুরি?

বিয়ের আকদের সময় কনের শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকা আবশ্যক নয়। তবে প্রাপ্তবয়স্ক নারীর বিয়ের ক্ষেত্রে তার সম্মতি বা অনুমতি থাকা জরুরি।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বিধবা নারীকে তার স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া এবং কুমারী নারীকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, কুমারী নারীর নীরবতা তার অনুমতি হিসেবে গণ্য হতে পারে। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

অতএব, ইসলামী বিধান অনুযায়ী বিয়ের ক্ষেত্রে শুধু ইজাব-কবুলই নয়, যথাযথ সাক্ষী ও কনের সম্মতিও নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ পরিস্থিতিতে কোনো বিয়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে স্থানীয় নির্ভরযোগ্য আলেম বা মুফতির কাছ থেকে বিস্তারিত ফতোয়া নেওয়া উচিত।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন