ফরজ নামাজের সিজদায় দোয়া করা যাবে? যা বলছে ইসলাম

নামাজের সিজদা বান্দার আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী হওয়ার অন্যতম সময়। এ সময় মুসল্লিরা তাসবিহ পাঠের পাশাপাশি দোয়া করতে পারেন কি না, বিশেষ করে ফরজ নামাজের সিজদায় এ বিষয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে।
প্রশ্ন: ফরজ নামাজের সিজদায় নির্ধারিত তাসবিহ পড়ার পাশাপাশি দোয়া করা যাবে কি?
উত্তর: ফরজ নামাজের সিজদায় নির্ধারিত তাসবিহ পাঠ করাই মূল নিয়ম। নিজের ভাষায় কোনো দোয়া করা যাবে না। কোরআন-হাদিসে বর্ণিত দোয়া পড়ার ক্ষেত্রেও ফরজ নামাজের সিজদায় বিধিনিষেধ রয়েছে—এ বিষয়ে ফিকহের মতপার্থক্য থাকায় নিজ মাযহাবের নির্ভরযোগ্য আলেমের নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।
নফল নামাজের সিজদায় কোরআন-হাদিসে বর্ণিত দোয়া করার সুযোগ রয়েছে। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) সিজদায় বিভিন্ন দোয়া করতেন।
আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) সিজদায় এ দোয়া করতেন—
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِى ذَنْبِى كُلَّهُ دِقَّهُ وَجِلَّهُ وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফিরলি জামবি’ কুল্লাহু দিক্কাহু ওয়া জিল্লাহু ওয়া আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমার ছোট-বড়, প্রথম ও শেষ—সব গুনাহ ক্ষমা করে দিন।
তবে নামাজের ভেতরে নিজের ভাষায় বা মানুষের রচিত বাক্যে দোয়া করার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। নামাজ মূলত তাসবিহ, তাকবির ও কোরআন তিলাওয়াতের ইবাদত। রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজে মানুষের কথাবার্তা বলার বিষয়টি নিষেধ করেছেন। (সহিহ মুসলিম)
এ কারণে নামাজের মধ্যে দুনিয়াবি কথাবার্তার মতো করে নিজের প্রয়োজন প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। যেমন—‘হে আল্লাহ, আমাকে এক লাখ টাকা দিন’, ‘আমার চাকরির ব্যবস্থা করে দিন’—এ ধরনের বাক্য নামাজে বলা নিয়ে ফিকহবিদদের মধ্যে বিস্তারিত বিধান রয়েছে এবং মাযহাবভেদে পার্থক্যও রয়েছে। তাই এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়া উত্তম।
নফল নামাজ কী?
যে নামাজ আদায় করলে সওয়াব পাওয়া যায়, কিন্তু ছেড়ে দিলে ফরজের মতো গুনাহ হয় না, তাকে সাধারণভাবে নফল নামাজ বলা হয়। পাঁচ ওয়াক্তের ফরজ নামাজ ও অন্যান্য ওয়াজিব নামাজের বাইরে বিভিন্ন সুন্নত ও নফল নামাজ রয়েছে।
নামাজের মাসআলা-মাসায়েল মাযহাব ও ফিকহের ব্যাখ্যা অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই ব্যক্তিগত আমলের ক্ষেত্রে স্থানীয় নির্ভরযোগ্য আলেম বা মুফতির পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।