শুকরিয়ার সিজদা কীভাবে করবেন, জেনে নিন নিয়ম

আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো বিশেষ নিয়ামত লাভ, বিপদ থেকে মুক্তি কিংবা আনন্দের সংবাদ পাওয়ার পর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি সুন্নত আমল হলো শুকরিয়ার সিজদা। ইসলামী বর্ণনায় আনন্দের সংবাদ পাওয়ার পর রাসুলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সিজদা করেছেন বলে উল্লেখ রয়েছে।
আবু বাকরা (রা.) থেকে বর্ণিত, কোনো আনন্দের ঘটনা ঘটলে অথবা আনন্দের সংবাদ পেলে রাসুলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের উদ্দেশ্যে সিজদায় লুটিয়ে পড়তেন। (সুনানে আবু দাউদ)
এ ছাড়া সাহাবি কাব ইবনে মালেক (রা.) নিজের তওবা কবুল হওয়ার সংবাদ পাওয়ার পর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে সিজদায় পড়ে গিয়েছিলেন। (সহিহ বুখারি)
শুকরিয়ার সিজদা করার নিয়ম
শুকরিয়ার সিজদা মূলত আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য করা হয়। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, ‘আল্লাহু আকবার’ বলে সিজদায় যেতে হয়। সিজদায় গিয়ে সাধারণত তিনবার, পাঁচবার বা সাতবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আ‘লা’ পাঠ করা যায়।
এরপর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে সিজদা থেকে উঠে বসা বা দাঁড়ানোর মাধ্যমে আমলটি শেষ করা হয়।
শুকরিয়ার সিজদায় নামাজের মতো তাকবিরে তাহরিমা বলা এবং শেষে সালাম ফেরানো নেই। এটি স্বতন্ত্রভাবে আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের একটি আমল।
অজু ও কিবলামুখী হওয়া নিয়ে মতভেদ
শুকরিয়ার সিজদার জন্য অজু করা, কিবলামুখী হওয়া এবং সতর ঢাকা আবশ্যক কি না—এ বিষয়ে ইসলামি আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
ইমাম ইবনে তাইমিয়াসহ কয়েকজন আলেমের মতে, শুকরিয়ার সিজদার জন্য অজু, সতর ঢাকা বা কিবলামুখী হওয়া শর্ত নয়। তাদের মতে, এটি নামাজের অংশ নয়; বরং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি পৃথক আমল।
অন্যদিকে হানাফি মাজহাবের আলেমসহ অধিকাংশ ফকিহের মতে, শুকরিয়ার সিজদা আদায়ের ক্ষেত্রে নামাজের মতো পবিত্রতা, সতর ঢাকা এবং কিবলামুখী হওয়ার বিষয়গুলো মানা উচিত। তাদের যুক্তি হলো, তিলাওয়াত ও শুকরিয়ার সিজদার ক্ষেত্রে নামাজের কিছু শর্ত প্রযোজ্য।
শুকরিয়ার সিজদার মূল বিষয়
শুকরিয়ার সিজদা কোনো নির্দিষ্ট আনন্দের সংবাদে সীমাবদ্ধ নয়। আল্লাহর বিশেষ কোনো অনুগ্রহ লাভ, বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া কিংবা কাঙ্ক্ষিত কোনো সুসংবাদ পাওয়ার পর বান্দা কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে এ সিজদা করতে পারেন।
তবে এ আমল পালনের ক্ষেত্রে মাজহাবভেদে যেহেতু কিছু মতপার্থক্য রয়েছে, তাই নিজ নিজ মাজহাবের নির্ভরযোগ্য আলেমের নির্দেশনা অনুসরণ করা উত্তম।