শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

স্বাধীনতা দিবসে ককরোচ পার্টির ইনস্টাগ্রাম উধাও

স্বাধীনতা দিবসে ককরোচ পার্টির ইনস্টাগ্রাম উধাও
ছবি : সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ভারতের স্বাধীনতা দিবসের সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লালকেল্লার ভাষণের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে যায় আলোচিত সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট। সংগঠনটির নেতারা ঘটনাটিকে তাঁদের কার্যক্রম ও আন্দোলনের কণ্ঠরোধের চেষ্টা বলে অভিযোগ করেছেন।

শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে সিজেপির ইনস্টাগ্রাম পেজে প্রবেশ করতে গিয়ে ব্যবহারকারীরা ‘ইউজার নট ফাউন্ড’ এবং ‘এই মুহূর্তে পেজটি পাওয়া যাচ্ছে না’—এ ধরনের বার্তা দেখতে পান। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই অ্যাকাউন্টটি আবার সচল হয়ে যায়।

সংগঠনটির প্রধান উদ্যোক্তা অভিজিৎ দীপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, সকাল ৬টা ১৬ মিনিটের দিকে তাঁদের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলটি আর দেখা যাচ্ছে না—বিষয়টি তাঁরা প্রথম জানতে পারেন। এরপর তিনি পোস্ট করে লেখেন, ‘ককরোচ জনতা পার্টির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল সরিয়ে দিয়েছে কাপুরুষেরা।’

প্রায় ৩০ মিনিট পর সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে অ্যাকাউন্টটি পুনরায় চালু হয়। পরে অভিজিৎ জানান, সকালে হ্যান্ডলটি সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হলেও তাঁরা সেটি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।

স্বাধীনতা দিবসের দিনেই কেন স্থগিত, প্রশ্ন

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বাধীনতা দিবসের ভাষণের ঠিক আগে অ্যাকাউন্টটি সাময়িকভাবে অচল হয়ে যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

অভিজিৎ দীপ অভিযোগ করেন, তাঁদের বিরোধিতাকারীরা আন্দোলনের কণ্ঠস্বর থামাতে স্বাধীনতা দিবসের মতো একটি দিনকে বেছে নিয়েছে। তবে অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করে তাঁদের কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে ইনস্টাগ্রাম কর্তৃপক্ষ কেন অ্যাকাউন্টটি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে এটি কারিগরি সমস্যা, নীতিমালা-সংক্রান্ত পদক্ষেপ নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছিল—তা স্পষ্ট নয়।

আগেও স্থগিত হয়েছিল অ্যাকাউন্ট

সিজেপির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট নিয়ে এর আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। গত ২২ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বিক্ষোভের সময়ও অ্যাকাউন্টটি স্থগিত করা হয়েছিল বলে জানায় সংগঠনটি।

সেবারও অভিজিৎ দীপ কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লক্ষ্য করে বক্তব্য দেন।

সিজেপির দাবি, ইনস্টাগ্রামে তাদের অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৬২ লাখ। অল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক তরুণের মধ্যে সংগঠনটির কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ায় এটি ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।

বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে প্ল্যাটফর্মের জন্ম

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ প্ল্যাটফর্মটির যাত্রা শুরু হয় বলে জানা যায়। পরবর্তী সময়ে দ্রুতই বিপুলসংখ্যক তরুণ এতে যুক্ত হন।

সাম্প্রতিক সময়ে নিট পরীক্ষা ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যে আন্দোলন গড়ে ওঠে, তাতেও সিজেপি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় নতুন করে সংগঠনটির কার্যক্রম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর প্রভাব এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন