যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৭

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে নাবাতিয়েহ জেলার আনসার শহরের উপকণ্ঠে এ হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ)।
এনএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান আনসার শহরের উপকণ্ঠে জারারিয়েহের দিকে অবস্থিত একটি বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় ভবনটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। পরে উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে হতাহতদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। আহতদের নাবাতিয়েহের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রায় দুই মাস আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দক্ষিণ লেবাননের এতটা ভেতরে ইসরায়েলের চালানো এটিই প্রথম বিমান হামলা।
এদিকে একই সময়ে নাবাতিয়েহ আল-ফাওকার উপকণ্ঠে আলী আল-তাহের পাহাড় এলাকায়ও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান একাধিক হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে এনএনএ। এসব হামলার বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত ২৬ জুন বৈরুত ও তেল আবিবের মধ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে চলমান হামলায় এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৩৫ জন নিহত এবং ১২ হাজার ২৭৭ জন আহত হয়েছেন।
চুক্তির আওতায় লেবাননের ভূখণ্ডে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটির সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে। এর বিনিময়ে ইসরায়েল ধাপে ধাপে দখল করা লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে। একই সঙ্গে হিজবুল্লাহসহ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টিও চুক্তিতে রয়েছে।
তবে চুক্তির পরও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এসব এলাকার কিছু দীর্ঘদিন ধরে দখলে থাকলেও ২০২৩-২৪ সালের সংঘাতের সময় নতুন করে আরও কিছু এলাকা দখল করা হয়।
চলমান সংঘাতের সময় ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের ভূখণ্ডের ১০ কিলোমিটারেরও বেশি ভেতরে অগ্রসর হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুদ্ধবিরতি ও কাঠামোগত চুক্তির পরও নতুন করে বিমান হামলার ঘটনায় দক্ষিণ লেবাননে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এতে চুক্তির কার্যকারিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।।