বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়ন চূড়ান্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটে কোকোর অবদান চিরস্মরণীয়: রুমন ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জুতা বহনের’ প্রচারণা ভিত্তিহীন: পুলিশ মেসির প্রত্যাবর্তনের রাতেও লিগস কাপ থেকে ছিটকে গেল মিয়ামি আর্কটিকে ‘আইসব্রেকার অব নলেজ’-এর বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ, যুব উৎসবের প্রতি সংহতি জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের নিদর্শন রক্ষায় কঠোর আইন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে অগ্রগতি নেই: ইরান এনআইডি সংশোধনে ইসির নতুন নির্দেশনা, জন্মতারিখ ও নাম বদলে নতুন নিয়ম সোনার অলঙ্কারের দাম ভরিতে বাড়ল ১,৬৩৩ টাকা শিশুশিল্পী থেকে বলিউডের প্রথম নারী সুপারস্টার, জন্মবার্ষিকীতে স্মরণ শ্রীদেবীকে
  • সুখের খোঁজে যে ৪ ভুল করছেন

    সুখের খোঁজে যে ৪ ভুল করছেন
    ছবি: সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    জীবনে সুখী হতে মানুষ নানা কিছুর পেছনে ছুটে। বেশি অর্থ, আরাম-আয়েশ, সুন্দর চেহারা কিংবা কাঙ্ক্ষিত জীবনসঙ্গী—এসবকে আমরা অনেক সময় সুখের চাবিকাঠি মনে করি। কিন্তু বাস্তবে এসবের কোনোটিই একা দীর্ঘস্থায়ী সুখ নিশ্চিত করতে পারে না। বরং এগুলোর প্রতি অতিরিক্ত প্রত্যাশা অনেক সময় হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

    বেশি টাকা

    অর্থ জীবনের প্রয়োজন মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ এবং আর্থিক স্বচ্ছলতা অনেক সমস্যা কমাতে পারে। কিন্তু অর্থের পরিমাণ বাড়লেই যে সুখ একই হারে বাড়বে, তা নয়। নতুন বেতন, বোনাস কিংবা হঠাৎ পাওয়া অর্থ সাময়িক আনন্দ দিতে পারে। কিন্তু কিছুদিন পর মানুষ সাধারণত নতুন আর্থিক অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেয়।

    তখন আগের চেয়ে বেশি আয় থাকলেও নতুন চাহিদা তৈরি হয়। ফলে সুখের জন্য আরও বেশি অর্থের প্রয়োজন বলে মনে হতে থাকে। অর্থের এই অন্তহীন আকাঙ্ক্ষা মানুষকে সন্তুষ্টির বদলে আরও বেশি পাওয়ার প্রতিযোগিতায় ঠেলে দিতে পারে।

    ইসলামেও সম্পদের প্রতি অতিরিক্ত মোহ সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদের উদাসীন করে রাখে, যতক্ষণ না তোমরা কবরস্থানে পৌঁছাও।’—সুরা আত-তাকাসুর, আয়াত ১-২।

    বিলাসী জীবনযাপন

    প্রযুক্তির উন্নতির কারণে আজকের মানুষ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে। আধুনিক বাসাবাড়ি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, স্মার্টফোন, বিনোদনের অসংখ্য মাধ্যম কিংবা ঘরের নানা ধরনের যন্ত্রপাতি জীবনকে অনেক সহজ করেছে।

    তবু এসব সুবিধা সবসময় মানসিক প্রশান্তি এনে দেয় না। বরং নতুন পণ্যের প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ মানুষকে ক্রমাগত আরও কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় ব্যস্ত রাখতে পারে।

    একটি নতুন ফোন কেনার পর কিছুদিন ভালো লাগলেও পরে সেটিই স্বাভাবিক মনে হয়। তখন আরও আধুনিক মডেলের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। এভাবে বস্তুগত সুবিধা বাড়লেও মানসিক তৃপ্তি বাড়বে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

    বাহ্যিক সৌন্দর্য

    সুন্দর দেখতে সবাই চায়। কিন্তু সৌন্দর্যকেই সুখের প্রধান শর্ত মনে করা বিপজ্জনক। বিজ্ঞাপন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রায়ই এমন ধারণা তৈরি করে যে নির্দিষ্ট চেহারা, গায়ের রং, শরীরের গঠন বা চুলের ধরন অর্জন করতে পারলেই মানুষ বেশি আত্মবিশ্বাসী ও সুখী হবে।

    এই ধারণাকে কেন্দ্র করে বিশাল সৌন্দর্যশিল্প গড়ে উঠেছে। ত্বকের রং পরিবর্তন, বয়সের ছাপ কমানো, ওজন নিয়ন্ত্রণ কিংবা চেহারার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বদলানোর জন্য বাজারে অসংখ্য পণ্য রয়েছে।

    নিজের যত্ন নেওয়া অবশ্যই ভালো। তবে আত্মমর্যাদা ও মানসিক শান্তিকে কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্যের সঙ্গে যুক্ত করলে অসন্তুষ্টি বাড়তে পারে। বয়স, শারীরিক পরিবর্তন কিংবা অন্য মানুষের সঙ্গে তুলনা তখন আত্মবিশ্বাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    বিয়েকেই সুখের চূড়ান্ত ঠিকানা ভাবা

    জীবনসঙ্গী পাওয়ার স্বপ্ন মানুষের স্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষা। অনেকেই মনে করেন, পছন্দের মানুষকে বিয়ে করতে পারলেই জীবনের সব অপূর্ণতা দূর হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তব দাম্পত্য জীবন রূপকথার মতো হয় না।

    বিয়ের সঙ্গে আসে দায়িত্ব, পারস্পরিক বোঝাপড়া, মতপার্থক্য, আর্থিক পরিকল্পনা, পরিবার ও নানা ধরনের বাস্তব চ্যালেঞ্জ। তাই বিয়েকে ‘সুখের নিশ্চয়তা’ হিসেবে দেখার বদলে এটিকে দুজন মানুষের যৌথ পথচলা হিসেবে দেখা বেশি বাস্তবসম্মত।

    পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, ধৈর্য, দায়িত্ববোধ ও যোগাযোগ একটি সম্পর্ককে সুন্দর করে তুলতে পারে। শুধু বিয়ে করলেই সুখী হওয়া যায় না; সুখী দাম্পত্য গড়ে তুলতে দুজনেরই সচেতন প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

    তাহলে সুখ কোথায়?

    দীর্ঘস্থায়ী সুখ অনেক সময় বাইরের অর্জনের চেয়ে মানুষের মানসিক অবস্থার ওপর বেশি নির্ভর করে। অর্থ ও প্রয়োজনীয় বস্তু জীবনকে সহজ করতে পারে, সৌন্দর্য আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে এবং সুন্দর দাম্পত্য জীবন আনন্দ দিতে পারে। কিন্তু এগুলোকে জীবনের একমাত্র সুখের উৎস বানালে প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান তৈরি হতে পারে।

    কৃতজ্ঞতা, সুস্থ সম্পর্ক, আত্মতৃপ্তি, অর্থপূর্ণ কাজ, মানসিক প্রশান্তি এবং নিজের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জীবনযাপন—এসবই তুলনামূলকভাবে স্থায়ী সন্তুষ্টির ভিত্তি তৈরি করতে পারে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ