সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • আগস্টের ২২ দিনেই রেমিট্যান্স ২১৫ কোটি ডলার ছুঁইছুঁই পদ্মা ব্যাংকের সাবেক এমডিসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৭০৫, মৃত্যু ৩ সাংবাদিক দম্পতি শাকিল-ফারজানার সম্পদের হিসাব চাইল দুদক বিচারকের বিরুদ্ধে চালককে মারধরের অভিযোগ, ট্রাইব্যুনালের দাবি ‘ঘটেনি’ দুই ইনিংসে শতরানও ছুঁতে পারেনি বাংলাদেশ, এমন নজির বিশ্বে কত? দূতাবাসে হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি, ‘ভুয়া গ্রুপের’ কাজ বলছে ডিবি ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক এগোতে ‘অভিন্ন স্বার্থে’ জোর জয়শঙ্করের ইরানসংশ্লিষ্ট সাইবার হামলায় চার দিন বন্ধ যুক্তরাজ্যের বিদ্যুৎকেন্দ্র শেয়ারবাজারে বড় দরপতন, বিমা খাতে সবচেয়ে বেশি চাপ
  • যৌবনের সময় ইবাদতে কাটানোর গুরুত্ব ও ফজিলত

    যৌবনের সময় ইবাদতে কাটানোর গুরুত্ব ও ফজিলত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    মানুষের জীবনে শৈশব, কৈশোর, যৌবন ও বার্ধক্য—প্রতিটি পর্যায়েরই রয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য। এর মধ্যে যৌবনকে জীবনের সবচেয়ে কর্মক্ষম ও উদ্যমী সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ সময় শারীরিক শক্তি, মানসিক সক্ষমতা ও কাজ করার আগ্রহ তুলনামূলক বেশি থাকে। তাই এই শক্তি ও সময়কে আল্লাহর সন্তুষ্টির কাজে ব্যয় করা একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ইসলামে যৌবনকে কেবল জীবন উপভোগের সময় হিসেবে দেখা হয়নি। বরং এ সময় আত্মসংযম, নেক আমল ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে নিজেকে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ যৌবনে যেমন ভালো কাজ করার সামর্থ্য বেশি থাকে, তেমনি প্রবৃত্তির টান ও নানা ধরনের পাপের প্রলোভনও প্রবল হতে পারে। এসব থেকে নিজেকে রক্ষা করে আল্লাহর আনুগত্যে জীবন পরিচালনা করা বিশেষ মর্যাদার বিষয়।

    রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন সাত শ্রেণির মানুষকে আল্লাহ তাঁর আরশের ছায়ায় আশ্রয় দেবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না। তাদের মধ্যে একজন হলো—‘সে যুবক, যে আল্লাহর ইবাদতের মধ্যে বেড়ে উঠেছে।’ (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)।

    এই হাদিস থেকে যৌবনে ইবাদত ও আত্মসংযমের বিশেষ গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। একজন তরুণ যখন নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া ও সৎকাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখে এবং অন্যায় থেকে দূরে থাকে, তখন তার এই প্রচেষ্টা আল্লাহর কাছে মর্যাদা লাভের কারণ হতে পারে।

    ইবাদতের জন্য বার্ধক্যের অপেক্ষা নয়

    যৌবন স্থায়ী নয়। সময়ের সঙ্গে মানুষের শারীরিক শক্তি ও কর্মক্ষমতা কমতে থাকে। তাই ইবাদত শুরু করার জন্য ভবিষ্যতের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। অনেকেই মনে করেন, বয়স বাড়লে নিয়মিত নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত বা তওবার দিকে মনোযোগ দেবেন। কিন্তু মানুষের আয়ু কতদিন, তা কেউ জানে না। তাই নেক আমলের জন্য বর্তমান সময়টাকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা উচিত।

    ভালো অভ্যাস গড়ে তুলুন

    যৌবনে তৈরি হওয়া ভালো অভ্যাস মানুষের পরবর্তী জীবনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়, কোরআন পড়া, বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া, হালাল উপার্জনের চেষ্টা, দৃষ্টির হেফাজত, মিথ্যা ও অন্যায় থেকে দূরে থাকা এবং মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ—এসব একজন তরুণের চরিত্র ও জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারে।

    দায়িত্ব পালনও হতে পারে ইবাদত

    ইবাদত বলতে শুধু নফল নামাজ, রোজা বা দীর্ঘ সময় মসজিদে অবস্থান করাকেই বোঝায় না। একজন তরুণের পড়াশোনা, চাকরি, ব্যবসা, পরিবারের দায়িত্ব পালন কিংবা মানুষের উপকার করার কাজও ইবাদতের মর্যাদা পেতে পারে, যদি কাজটি বৈধ হয় এবং এর পেছনে সৎ নিয়ত থাকে।

    ইসলামে হালাল পথে জীবনযাপন এবং মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ারও গুরুত্ব রয়েছে। তাই একজন তরুণ নিজের শিক্ষা, পেশা ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আল্লাহর বিধান মেনে চলার চেষ্টা করতে পারেন।

    যৌবনের সময়কে কাজে লাগানো জরুরি

    সময় ও যৌবনের শক্তি একবার চলে গেলে তা আর ফিরে আসে না। তাই অবহেলা, অন্যায় কিংবা অনর্থক কাজে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট না করে আল্লাহর আনুগত্যে তা কাজে লাগানো উচিত।

    যে তরুণ জীবনের সবচেয়ে শক্তিশালী সময়টুকু নেক আমল, আত্মসংযম ও মানুষের কল্যাণে ব্যয় করতে পারে, তার এই প্রচেষ্টা দুনিয়ার জীবনে যেমন আত্মিক প্রশান্তি আনতে পারে, তেমনি আখিরাতের জন্যও হয়ে উঠতে পারে গুরুত্বপূর্ণ সঞ্চয়। দুনিয়ার সম্পদ ও সাফল্য একদিন শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করা নেক আমলের প্রতিদান আখিরাতে স্থায়ী কল্যাণের কারণ হতে পারে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ