সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • আগস্টের ২২ দিনেই রেমিট্যান্স ২১৫ কোটি ডলার ছুঁইছুঁই পদ্মা ব্যাংকের সাবেক এমডিসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৭০৫, মৃত্যু ৩ সাংবাদিক দম্পতি শাকিল-ফারজানার সম্পদের হিসাব চাইল দুদক বিচারকের বিরুদ্ধে চালককে মারধরের অভিযোগ, ট্রাইব্যুনালের দাবি ‘ঘটেনি’ দুই ইনিংসে শতরানও ছুঁতে পারেনি বাংলাদেশ, এমন নজির বিশ্বে কত? দূতাবাসে হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি, ‘ভুয়া গ্রুপের’ কাজ বলছে ডিবি ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক এগোতে ‘অভিন্ন স্বার্থে’ জোর জয়শঙ্করের ইরানসংশ্লিষ্ট সাইবার হামলায় চার দিন বন্ধ যুক্তরাজ্যের বিদ্যুৎকেন্দ্র শেয়ারবাজারে বড় দরপতন, বিমা খাতে সবচেয়ে বেশি চাপ
  • ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক এগোতে ‘অভিন্ন স্বার্থে’ জোর জয়শঙ্করের

    ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক এগোতে ‘অভিন্ন স্বার্থে’ জোর জয়শঙ্করের
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেছেন, যেকোনো সম্পর্ক কার্যকর রাখতে হলে উভয় পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে একটি ‘অভিন্ন জায়গা’ বা সমঝোতার ক্ষেত্র খুঁজে বের করা জরুরি।

    ইকোনমিক টাইমস ওয়ার্ল্ড লিডার্স ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের নীতি ব্যাখ্যা করেন জয়শঙ্কর।

    তিনি বলেন, কোনো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক তখনই কার্যকর হয়, যখন সেটি দুই পক্ষের জন্যই কিছুটা সুবিধা বয়ে আনে। একটি দেশ শুধু নিজের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে প্রতিবেশী দেশের কাছ থেকে সবকিছু প্রত্যাশা করতে পারে না। একইভাবে অপর পক্ষের স্বার্থকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

    জয়শঙ্করের ভাষায়, দুই দেশ যখন নিজেদের স্বার্থের মধ্যে সমন্বয় করে একটি ‘কমন গ্রাউন্ড’ বা অভিন্ন জায়গায় পৌঁছাতে পারে, তখন সম্পর্কও স্বাভাবিক ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।

    হাসিনার প্রত্যর্পণ ঘিরে অস্বস্তি

    জয়শঙ্করের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে।

    বাংলাদেশ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠাতে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে। বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগে বিচারও হয়েছে। ফলে বিষয়টি দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।

    অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। সফর নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চললেও এখনো চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হয়নি।

    দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সমঝোতার গুরুত্ব

    তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে বলে এর আগে ভারতীয় কূটনৈতিক মহলের কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন। তবে প্রত্যর্পণসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকায় সফরটি শেষ পর্যন্ত কবে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

    এ অবস্থায় জয়শঙ্করের বক্তব্যকে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের বৃহত্তর কূটনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার বক্তব্যে একতরফা প্রত্যাশার পরিবর্তে পারস্পরিক স্বার্থের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলায় ‘ডি-রিস্কিং’

    বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও সতর্কতার কথা বলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার মতে, সংঘাত, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা ও অনিশ্চয়তা বাড়ায় বিভিন্ন দেশ ও উৎসের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা এখন গুরুত্বপূর্ণ।

    তিনি ‘ডি-রিস্কিং’-এর ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, কোনো একটি দেশ বা উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই সরবরাহ ব্যবস্থা ও অর্থনীতিতে বিকল্প উৎস তৈরি করা প্রয়োজন।

    জ্বালানি, সার ও আন্তর্জাতিক নৌপথের বাজারে সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গ তুলে জয়শঙ্কর বলেন, ভবিষ্যৎ ঝুঁকি বিবেচনায় রেখেই অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

    চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও কথা

    চীনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়েও বক্তব্য দেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সীমান্ত পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

    তবে সীমান্ত পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে ভারত ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি। দুই দেশই বড় অর্থনীতি হওয়ায় পারস্পরিক বাণিজ্যের গুরুত্ব রয়েছে।

    জয়শঙ্কর বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো চীনের সঙ্গেও ভারতকে ব্যবসা করতে হবে। একই সঙ্গে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়িয়ে আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপরও জোর দিতে হবে।


    সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন