পিঠের পুরোনো চোটে আবারও ছিটকে গেলেন বর্ষণ

দক্ষিণ আফ্রিকায় ত্রিদলীয় সিরিজে বল হাতে দারুণ পারফরম্যান্স করেছিলেন রোহানতদৌলা বর্ষণ। প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের ওপর বেশ ভালোই চাপ তৈরি করেছিলেন ২১ বছর বয়সী এই পেসার। তবে তার চোটের পুরোনো সমস্যা আবারও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) জন্য।
পিঠের নিচের অংশের ব্যথার কারণে প্রায় ১৫ মাস মাঠের বাইরে ছিলেন বর্ষণ। দীর্ঘ বিরতির পর চলতি বছর ক্রিকেটে ফিরলেও আবারও একই চোটে পড়েছেন তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফর শেষে বাংলাদেশ হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) দলের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে যোগ দেন বর্ষণ। কিন্তু পুরোনো চোটের কারণে টুর্নামেন্টের কোনো ম্যাচেই মাঠে নামতে পারেননি তিনি।
অস্ট্রেলিয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি স্ক্যানও করিয়েছেন এই পেসার। পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্টে বড় কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। তবে পুরোপুরি সুস্থ হতে আরও সময় প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। ফলে ফের প্রায় দুই মাসের বিশ্রামে থাকতে হচ্ছে তাকে।
তরুণ বয়সে পিঠের এমন চোট নিয়ে লাল বলের ক্রিকেটে খেললে সমস্যা আরও গুরুতর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বর্ষণের ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বিসিবি।
বিসিবির একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইনজুরির ঝুঁকি বিবেচনায় আপাতত বর্ষণকে শুধু টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের পরিকল্পনায় রাখা হতে পারে। ২৩ বছর বয়স পর্যন্ত তার ইনজুরি নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে বলেও মনে করছে বোর্ড। এ কারণে এই সময়ে জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়াও তার জন্য কঠিন হতে পারে।
বর্তমান বিশ্রামের সময়টাকে পুনর্বাসন ও ফিটনেস উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করবেন বর্ষণ। জিম সেশন ও রানিংয়ের পাশাপাশি চিকিৎসকদের নির্ধারিত কিছু অনুশীলনও করবেন তিনি। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ টুর্নামেন্টের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে পারেন এই তরুণ পেসার।
দীর্ঘ ১৫ মাস মাঠের বাইরে থাকার পর চলতি বছর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ দিয়ে ক্রিকেটে ফেরেন বর্ষণ। সেখানে বল হাতে নজরকাড়া পারফরম্যান্স করেন তিনি। এরপর বাংলাদেশ এইচপি দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ওয়ানডে সিরিজে ১২টি উইকেট শিকার করেন।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে খেলতে গিয়েছিলেন বর্ষণ। কিন্তু সেখানেই পুরোনো পিঠের চোট আবারও ফিরে আসায় আপাতত মাঠের বাইরে থাকতে হচ্ছে তাকে।