বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত ৪৬, ১৭৯ জন আহত নারী ও শিশুর সুরক্ষায় ইউনিসেফের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় সরকার ইসরায়েলে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন চান বিরোধী নেতা গোলান ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি ছাড়াবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার: প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ: জামায়াত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে নিরাপত্তায় এসআরবি-১৩-এর বিশেষ প্রস্তুতি নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর আশা সরকারের রোগীদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে অ্যাম্বুলেন্স পুল গড়বে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছেলেকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দিতে প্রস্তুত মা, অর্থাভাবে অনিশ্চিত রাকিবের জীবন ফেসবুক লাইভে বিএনপি সরকার নিয়ে মন্তব্য, জামিন পেলেন সেই সাথী আক্তার
  • ১৫ সেপ্টেম্বরের পর বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট কাটার আশা প্রতিমন্ত্রীর

    ১৫ সেপ্টেম্বরের পর বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট কাটার আশা প্রতিমন্ত্রীর
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের পর দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি শিল্প ও গৃহস্থালি গ্রাহকদের ভোগান্তিও কমবে।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

    বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে মানুষের দুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, পরিস্থিতির উন্নতিতে সরকার কাজ করছে। তিনি আশা করছেন, চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ের পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহে দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে।

    প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) একটি গত ২১ জুলাই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ১৫ আগস্ট সেটি মেরামত করা হয়। তবে টার্মিনালটি সচল হওয়ার পরও সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এর কারণ হিসেবে তিনি এলএনজি কার্গো আমদানির সময়সূচি নতুন করে নির্ধারণের কথা জানান।

    তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা প্রায় ৮৮ শতাংশ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ১২ শতাংশ ঘাটতিও দ্রুত পূরণ করা হবে বলে আশা করছেন তিনি।

    বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের কারণে বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটও পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে না। প্রতিমন্ত্রী জানান, রামপালের জন্য প্রয়োজনীয় কয়লা বহনকারী লাইটার জাহাজ বঙ্গোপসাগরে থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেটি মোংলায় আনা যাচ্ছে না।

    আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে পায়রা ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি। একই সঙ্গে গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে শিল্পকারখানা ও আবাসিক গ্রাহকদের দুর্ভোগ কমবে বলে মনে করেন প্রতিমন্ত্রী।

    আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে গেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অতিবৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তাদের কয়লা সরবরাহেও সমস্যা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আদানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে।

    তিনি জানান, বর্তমানে দিনের বেলায় আদানি প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যার পর প্রায় ১১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে ১৫০০ থেকে ১৬০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করত। পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

    গ্যাস সরবরাহ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দুটি এফএসআরইউ থেকে গড়ে ৭০০ থেকে ৭৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে দুটি টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০০০ থেকে ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা যায়। উভয় এফএসআরইউ পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরলে গ্যাস সরবরাহও সেই পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

    এদিকে সংকট মোকাবিলায় সরকার বেশি দামে এলএনজি কিনতে বাধ্য হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘ ও মধ্যমেয়াদি চুক্তির আওতায় যেসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এলএনজি নেওয়ার কথা ছিল, তাদের অনেকেই ‘ফোর্স মেজার’ ঘোষণা করেছে। ফলে সরকারকে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে হচ্ছে, যেখানে দাম তুলনামূলক বেশি।

    মানুষ ও শিল্পকারখানার দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে অতিরিক্ত দাম দিয়েও সরকার এলএনজি সংগ্রহ করছে বলে জানান তিনি। তার মতে, জ্বালানি সংকট যাতে দীর্ঘায়িত না হয়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সরকার যথাসম্ভব পরিস্থিতি বিবেচনা করছে। সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন না হলে মূল্য সমন্বয়ের পথে যেতে চায় না সরকার। তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন