এমবাপ্পে কি প্রস্তুত? ম্যাচের আগেই জানালেন ফ্রান্স কোচ

ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে কেবল রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলবে না ফ্রান্স। বরং বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণেই রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে বর্তমান রানার্সআপরা। এমনটাই জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ে দেশম।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে দেশম বলেন, স্পেন বল দখলে রেখে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করতে পারদর্শী। তবে ফ্রান্সও এমন একটি দল, যারা মাঝমাঠে আধিপত্য বিস্তার করতে এবং বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখতে সক্ষম। তাই ম্যাচের অন্যতম লড়াই হবে মাঝমাঠের দখল নিয়ে।
তিনি বলেন, ‘স্পেন বলের দখল ধরে রেখে খেলতে ভালোবাসে। কিন্তু আমরাও বল নিয়ে খেলতে চাই। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।’
কোয়ার্টার ফাইনালে গোড়ালিতে সামান্য চোট পাওয়ায় কিলিয়ান এমবাপ্পেকে নিয়ে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে সেই শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন দেশম।
তিনি জানান, এমবাপ্পে অনুশীলনে অংশ নিয়েছেন এবং সেমিফাইনালে খেলতে কোনো সমস্যা হবে না।
দেশম বলেন, ‘কিলিয়ান ভালো আছে। সে অনুশীলন করেছে। সতর্কতার জন্য তাকে কিছুটা কম সময় অনুশীলন করানো হয়েছে, তবে সে ম্যাচের জন্য প্রস্তুত।’
ফ্রান্সের দ্রুতগতির আক্রমণভাগকে অনেকেই পাল্টা আক্রমণের জন্য সবচেয়ে বড় অস্ত্র হিসেবে দেখছেন। তবে দেশম স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাদের পরিকল্পনা শুধু রক্ষণ সামলে কাউন্টার অ্যাটাকে নির্ভর করার নয়।
তিনি বলেন, ফ্রান্সের লক্ষ্য হবে প্রয়োজন অনুযায়ী বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে আক্রমণ গড়ে তোলা এবং ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করা।
ফ্রান্সের তরুণ মিডফিল্ডার ওয়ারেন জাইরে-এমেরিও জানিয়েছেন, স্পেনের শক্তি সম্পর্কে তারা সচেতন। তবে নিজেদের সামর্থ্য নিয়েও আত্মবিশ্বাসী ফরাসিরা।
তার ভাষায়, ‘স্পেন বল দখলে অসাধারণ। তবে আমাদেরও দ্রুত আক্রমণ, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং শক্তিশালী রক্ষণভাগ রয়েছে। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিকল্পনা বদলাবে।’
ফিরছেন চুয়ামেনি
চোট কাটিয়ে দলে ফিরতে প্রস্তুত হয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডার অরেলিয়েন চুয়ামেনি। হ্যামস্ট্রিং সমস্যার কারণে শেষ দুটি ম্যাচ খেলতে না পারলেও সেমিফাইনালে তাকে পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন দেশম।
তিনি বলেন, ‘গত ম্যাচে তাকে খেলানো ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এখন সে অনেক ভালো আছে। পুরোপুরি ফিট না হলেও ম্যাচ খেলার মতো অবস্থায় রয়েছে।’
চুয়ামেনির প্রত্যাবর্তনে ফ্রান্সের মাঝমাঠ আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।