২০৩০ সালের মধ্যে ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার

নিম্নআয়ের ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে আগামী ২০২৯–৩০ অর্থবছরের মধ্যে ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরেই সারা দেশে ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের পক্ষে এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে দেশের ৪৪ জেলার ৫৫টি উপজেলায় তিন ধাপে পরিচালিত পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে ৬৯ হাজার ৩৮৭টি নারী-প্রধান পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ভাতা দেওয়া হয়েছে। উপকারভোগীদের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে।
তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে দেশব্যাপী একটি সমন্বিত পরিবার শুমারি পরিচালনা করা হবে। এতে প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে আগামী চার বছরে ধাপে ধাপে ১ কোটি ৬১ লাখ যোগ্য পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ের জরিপ এবং প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের মাধ্যমে প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে, যাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এজন্য তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি নির্দেশিকা-২০২৬’ জারি করা হয়েছে এবং ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
ঢাকা-১৮ আসনের অগ্রগতির বিষয়ে তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কড়াইল, সাততলা, ভাষানটেক, অলিমিয়ার টেক ও বাগানবাড়ী বস্তির কিছু এলাকায় ইতোমধ্যে পাইলট কার্যক্রম চলছে। উত্তরা ও আশপাশের এলাকাতেও শুমারি শেষে চলতি অর্থবছরেই ব্যাপকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। শুমারি শেষে ওয়ার্ডভিত্তিক উপকারভোগীদের তালিকা সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের দপ্তরে পাঠানো হবে।
সরকারের লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের ১ কোটি ৬১ লাখ যোগ্য পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় এনে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা নিশ্চিত করা।